বাংলার ক্রিকেটের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—তিন প্রজন্মের মিলনমেলা (CAB Annual Awards)। সোমবার আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে ২০২৫-২৬ মরসুমের CAB বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল সেই আবহ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কিংবদন্তি স্যর গারফিল্ড সোবার্সের স্মরণে নীরবতা পালন করে তাঁর ক্রিকেটীয় অবদানকে স্বীকৃতি জানানো হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় পেসার ও গুজরাত টাইটান্সকে IPL চ্যাম্পিয়ন করা কোচ আশিস নেহরা। উপস্থিত ছিলেন CAB সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, ও রাজ্যের মন্ত্রী অশোক দিন্দা-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। কৃতীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আশিস, সৌরভ ও অশোক দিন্দা।
Table of Contents
জীবনকৃতি উৎপল-পূর্ণিমার
বাংলার ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের জন্য কার্তিক বসু লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন উৎপল চট্টোপাধ্যায় ও পূর্ণিমা চৌধুরী। বাংলার হয়ে ১২৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ২,৬৯৯ রান ও ৫০৪ উইকেট উৎপলের। রয়েছে ৩২টি পাঁচ উইকেট এবং আটটি ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার নজির। ১৯৯৫ সালে ভারতের হয়ে তিনটি এক দিনের ম্যাচ খেলেন এবং এশিয়া কাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে বাংলার দলের ভিশন কোচ তিনি।
পূর্ণিমা ভারতের হয়ে পাঁচটি মহিলা এক দিনের ম্যাচ খেলেছেন। পাঁচ ম্যাচে ২০ রান ও ছয় উইকেট তাঁর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২১ রানে পাঁচ উইকেট তাঁর অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। বাংলার মহিলা ক্রিকেটে তাঁর অবদানও বিশেষভাবে স্বীকৃত হয়েছে। (CAB Annual Awards)

সুদীপ সেরা, শামির হাতে সেরা পেসারের সম্মান
বর্ষসেরা ক্রিকেটার এবং রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পুরস্কার পেলেন সুদীপ কুমার ঘরামি। দলীপ ট্রফির ফাইনালেও পূর্বাঞ্চলের হয়ে শতরান করেছেন তিনি। ‘জেন্টলম্যান ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার’ সুমন্ত গুপ্ত। সেরা পেসার মহম্মদ শামি, যদিও দলীপ ফাইনালে থাকায় অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। এর আগে চেন্নাইয়ে শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ উপলক্ষে তাঁকে সম্মান জানিয়েছিল CAB।
CAB Annual Awards: এক নজরে পুরস্কারপ্রাপকরা
- সিনিয়র মহিলা সেরা ও সর্বোচ্চ রান: তনুশ্রী সরকার
- অনূর্ধ্ব-২৩ সেরা: আয়ুষ কুমার সিংহ, বোলার সুখমিত সিংহ
- অনূর্ধ্ব-২৩ মহিলা সেরা ও বাংলা টি-২০ লিগে সর্বোচ্চ রান: সুজাতা দে
- অনূর্ধ্ব-১৯ সেরা: চন্দ্রহাস দাস, বোলার অগস্ত্য শুক্ল, মহিলা ইপ্সিতা মণ্ডল
- অনূর্ধ্ব-১৬ সেরা: রাজেশ মণ্ডল, বোলার ত্রিপর্ণা সামন্ত
- অনূর্ধ্ব-১৫ মহিলা সেরা ও সর্বোচ্চ রান: শায়লা সেনাপতি
- জেলা সিনিয়র সেরা: সোনু নারায়ণ নৌবাঘ ও তিথি দাস
- জেলা অনূর্ধ্ব-১৮: অরমান শাহ, মহিলা রত্না বর্মন
- অনূর্ধ্ব-১৮ প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট: অরিত্রা চক্রবর্তী
- জেলা অনূর্ধ্ব-১৫: নিহাল তাজ রহমান
- মহিলা জেলা অনূর্ধ্ব-১৪ ও সর্বোচ্চ উইকেট: অরিখথা মান্না
- মহিলা অনূর্ধ্ব-১৯ টি-২০ সর্বোচ্চ উইকেট: দিয়া নন্দী
- রঞ্জি ট্রফিতে সর্বোচ্চ উইকেট: শাহবাজ আহমেদ
- বাংলা টি-২০ লিগে সর্বোচ্চ রান: করণ লাল, উইকেট: সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল
- মহিলা টি-২০ লিগে সর্বোচ্চ উইকেট: শ্রয়শী আইচ
- আন্তঃজেলা অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা সর্বোচ্চ রান: রত্না বর্মন, উইকেট নন্দিনী বিশ্বাস
- সেরা ক্যাটেগরি-১ আম্পায়ার: কৃষ্ণেন্দু পাল
- মহিলা ক্লাব টি-২০ সর্বোচ্চ রান: ইশিতা বিশ্বাস, সর্বোচ্চ উইকেট কোয়েল সূত্রধর
- ইমার্জিং মেনস অ্যাওয়ার্ড: রবি কুমার
চ্যাম্পিয়নদের তালিকাতেও দীর্ঘ লাইন
প্রথম ডিভিশনে টাউন ক্লাব, রানার্স মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব। দ্বিতীয় ডিভিশনে বিএনআর রিক্রিয়েশন ক্লাব, রানার্স জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টস ক্লাব। সিনিয়র নকআউটে খিদিরপুর স্পোর্টিং ক্লাব, জুনিয়রে ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব চ্যাম্পিয়ন। পুরুষ বাংলা টি-২০-তে শ্রাচী রাঢ় টাইগার্স, মহিলা বিভাগে অ্যাডামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্স জয়ী। আন্তঃজেলা সিনিয়র পুরুষে বর্ধমান ব্লুজ, মহিলা বিভাগে উত্তর ২৪ পরগনা ডিএসএ চ্যাম্পিয়ন। অনূর্ধ্ব-১৮ দু’দিনের ক্রিকেটে বর্ধমান ডিএসএ, অনূর্ধ্ব-১৫-তে উত্তর ২৪ পরগনা এবং অনূর্ধ্ব-১৪ মেয়েদের এক দিনে হাওড়া জয়ী। অজয় ঘোষ মেমোরিয়াল ট্রফি জিতেছে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। মহিলা ক্লাব টি-২০-তে চ্যাম্পিয়ন কালিঘাট ক্লাব, রানার্স ভবানীপুর ক্লাব। (CAB Annual Awards)
গিল-হার্দিক প্রসঙ্গে নেহরা
নিজের কোচিং স্টাইল প্রসঙ্গে নেহরা জানান, তাঁর চেষ্টা থাকে নিজের অভিজ্ঞতা ক্রিকেটারদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁদের আরও ভালো পারফর্ম করতে সাহায্য করা। তাঁর মতে, টি-২০ দ্রুতগতির খেলা—কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজেদের সবটা উজাড় করে দিতে হয়।
আইপিএলে কোচিং বিশ্বকাপের থেকেও কঠিন—এই ধারণা মানেন না নেহরা। তাঁর মতে, জাতীয় দলের কোচিংয়ে চাপ অনেক বেশি। নিজে বিশ্বকাপ দলে কোচিং করাননি বলে তুলনা করা কঠিন বলেও জানান। ভবিষ্যতে জাতীয় দলের কোচ হওয়ার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, তিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী নন বা এমন পরিকল্পনা করেননি; তবে সুযোগটি অবশ্যই বড় সম্মানের। “আমি যেখানে আছি, সেখানেই খুব খুশি”—বার্তা নেহরার। (CAB Annual Awards)
বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে নিজের প্রজন্মের পার্থক্য বোঝাতে তাঁর বক্তব্য, পাঁচ-ছয় বছরের বয়সের ব্যবধানেও মানুষের চিন্তাভাবনা বদলে যায়। ৪৮ বছর বয়সে ২০-২৫ বছরের ক্রিকেটারদের সামলানো সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা। তবে সবসময় কী করতে হবে বলে দেওয়ার বদলে তাঁদের কাছ থেকেও শেখেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে নেহরার পরামর্শ, ‘গ্যাজেট ব্যবহার করো, কিন্তু সবসময় নয়। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শেখার মতো অনেক কিছু থাকলেও কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। নেতিবাচক মন্তব্যকে গুরুত্ব না দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন ক্রিকেটারদের।’ (CAB Annual Awards)
হার্দিক পাণ্ডিয়া ও শুভমন গিলকে তুলনা করে নেহরা বলেন, দু’জন যেন উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু। গিল শান্ত, সংরক্ষিত এবং পর্যবেক্ষণ করে শেখেন। অধিনায়ক হিসেবেও তিনি এখনও শিখছেন। অন্যদিকে হার্দিক ‘অসাধারণ চরিত্র’—কোচকে বিশ্বাস করেন, নিজের কাজ ঠিক হচ্ছে কি না তা নিয়ে আলোচনা করেন। নেহরার মতে, কে ঠিক বা কে ভুল—সেটা নয়, প্রত্যেক ক্রিকেটারের নিজস্ব ধরন রয়েছে।
শায়লার বার্তা—হারলেও মনে রেখো কেন শুরু করেছিলে
অনূর্ধ্ব ১৫ মহিলা বিভাগের সেরা পুরস্কার পেয়ে শায়লা সেনাপতি জানান, ভারত বিশ্বকাপ জেতার পর তিনি ক্রিকেট শুরু করেন। মহিলা ক্রিকেটে এখন সমর্থন বাড়লেও এখনও উন্নতির জায়গা রয়েছে। তাঁর মতে, খেলাধুলা দলগত কাজ ও বন্ধুত্ব শেখায়। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত থেকে পুরস্কার পেয়ে তাঁর বিশেষ ভালো লেগেছে। আগামী প্রজন্মকে তাঁর বার্তা, খেলাটা উপভোগ করো। হার আসবেই, কিন্তু মনে রেখো কেন ক্রিকেট শুরু করেছিলে। (CAB Annual Awards)
অন্যদিকে অরিখথা মান্না জানান, ছোটবেলায় মহিলা ক্রিকেটে এতটা সমর্থন ছিল না। তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দেওয়া প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানান তিনি। রবীন্দ্র জাদেজা ও এলিসে পেরিকে অনুপ্রেরণা হিসেবে তাঁর মন্ত্র—ব্যর্থতা এলেও নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখতে হবে।












Using GCash for deposits and withdrawals here is just so effortless. It’s the most convenient way to manage my funds while playing. Top tier service. playtimegcashlogin