অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে (Cricket Australia) ভিতরে ভিতরে যে অশান্তি তৈরি হচ্ছিল এবার তা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তি ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন একাধিক সিনিয়র ক্রিকেটার। (Cricket Australia) পাঁচজন তারকা ক্রিকেটার এখনও নতুন চুক্তিতে সই করেননি। শুধু টাকার অঙ্ক নয়, বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার স্বাধীনতা নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় সংঘাত। আর এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে সরাসরি বিগ ব্যাশ লিগের (BBL) ভবিষ্যতের উপর।
একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন SA20, ILT20, IPL-এর মতো বিভিন্ন লিগে বিপুল অর্থের প্রলোভন ক্রিকেটারদের ভাবাচ্ছে। অনেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেও তাঁরা সেই আর্থিক নিরাপত্তা পাচ্ছেন না যা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট সহজেই দিচ্ছে।
এই ক্ষোভ আরও বেড়েছে প্যাট কামিন্সকে ঘিরে। (Cricket Australia) অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ককে তিন বছরের জন্য প্রায় ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশেষ চুক্তি দেওয়ার খবর সামনে আসতেই বাকি ক্রিকেটারদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের মতে, কামিন্স অবশ্যই বিশ্ব ক্রিকেটের বড় নাম কিন্তু বাকি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম। বিশেষ করে টি-২০ ক্রিকেটাররা মনে করছেন, বিদেশি লিগে খেললে তাঁরা কয়েকগুণ বেশি আয় করতে পারবেন।
শুধু জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাই নন, বিগ ব্যাশ লিগের ক্রিকেটারদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। জানা গিয়েছে গত বছর অক্টোবর মাসে ১২ জন গুরুত্বপূর্ণ বিবিএল ক্রিকেটারকে নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি হয়েছিল। সেখানে মূল আলোচনা ছিল বেতন বৈষম্য নিয়ে। স্থানীয় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের অভিযোগ, বিদেশ থেকে আসা অনেক ক্রিকেটার তুলনামূলক কম পরিচিত হলেও তাঁরা বেশি টাকা পাচ্ছেন। অথচ বহু বছর ধরে বিগ ব্যাশ খেলেও স্থানীয় ক্রিকেটারদের আয় সেই হারে বাড়েনি।
(Cricket Australia) ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বিগ ব্যাশ লিগকে বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা করেছিল। আশা ছিল, তাতে নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাড়বে। কিন্তু গত মাসে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ জানান, ছয়টি রাজ্য সংস্থার মধ্যে প্রয়োজনীয় সমর্থন না মেলায় সেই পরিকল্পনা আপাতত থমকে গিয়েছে। আর সেখান থেকেই হতাশা আরও গভীর হয়েছে ক্রিকেটারদের মধ্যে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে বিগ ব্যাশের ভবিষ্যৎ নিয়ে। একসময় বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় টি-২০ লিগ হলেও এখন IPL, SA20, ILT20 কিংবা আমেরিকার Major League Cricket-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বিগ ব্যাশ। সূচির সমস্যার কারণে অস্ট্রেলিয়ার বড় টেস্ট খেলোয়াড়রা অনেক সময় পুরো মরশুম খেলতেই পারেন না। তার উপর যদি সাদা বলের ক্রিকেটাররাও বিদেশি লিগে চলে যান তাহলে বিগ ব্যাশের মান ও জনপ্রিয়তা বড় ধাক্কা খেতে পারে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্রিকেটাররা এখন শুধু টাকার জন্য সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। তাঁরা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা এবং নিজের কেরিয়ারের উপর বেশি নিয়ন্ত্রণ চাইছেন। বহু ক্রিকেটার বহু বছরের এনওসি (No Objection Certificate) চাইছেন, যাতে প্রত্যেক টুর্নামেন্টের আগে অনুমতি নেওয়ার ঝামেলা থাকে না। ফলে বিদেশি লিগ খেলতে সমস্যা হয় না। কারণ বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের চাপে অনেক ক্রিকেটার ফ্লেক্সিবিলিটি চাইছেন। ফলে সুযোগ থাকা অবস্থাতেই তাঁরা বড় অর্থ উপার্জন করতে চাইছেন।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (Cricket Australia) কাছে এখন পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। একদিকে দেশের হয়ে খেলার ঐতিহ্য ধরে রাখা, অন্যদিকে ক্রিকেটারদের আর্থিক চাহিদা পূরণ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রুত সমাধান না এলে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে আরও বড় ভাঙন দেখা যেতে পারে।
রাজ্যে পালাবদল হতেই ক্রীড়াক্ষেত্রে পরিবর্তন, দল তুলে নিল ডায়মন্ড হারবার: Cricket Australia: অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে বিশৃঙ্খলা, ক্ষুব্ধ সিনিয়র প্লেয়াররা










