---Advertisement---
lifezone nursing home

ব্রোঞ্জের গন্ডি পেরিয়ে রুপোর হাসি, চোট-হতাশা পেরিয়ে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলেন প্রণতি নায়েক

May 30, 2026 12:32 PM
Pranati Nayak
---Advertisement---

ভারতীয় জিমন্যাস্টিক্সের ইতিহাসে (Pranati Nayak) প্রণতি নায়েকের নাম অনেকদিন ধরেই পরিচিত। আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক পদক এনে দিয়েছেন দেশের জন্য। কিন্তু সেই সাফল্যের আড়ালে ছিল দীর্ঘ লড়াই, হতাশা, চোটের যন্ত্রণা এবং নিজের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ। এক কেজি বাড়তি ওজন, দীর্ঘদিনের চোট, অনিশ্চয়তা আর প্রত্যাবর্তনের কঠিন লড়াই—সব বাধাকে পিছনে ফেলে আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন বাংলার মেয়ে প্রণতি নায়েক (Pranati Nayak)। তাসখন্দে ওয়ার্ল্ড চ্যালেঞ্জ কাপে রুপো জয়ের পর এখন তাঁর লক্ষ্য ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমস ও এশিয়ান গেমস। আর সেই স্বপ্নপূরণের পথে তাঁর পাশে রয়েছে কেন্দ্র সরকারের একাধিক ক্রীড়া সহায়তা প্রকল্প।

(Pranati Nayak) তাঁর এই প্রস্তুতির পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে কেন্দ্র সরকারের যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রক, স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (সাই) এবং টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম (টপস)। বিদেশে প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, জাতীয় কোচিং শিবির থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা—সব ক্ষেত্রেই পাশে রয়েছে সরকার।

বাংলার অন্যতম সফল জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েকের কেরিয়ারের সাম্প্রতিক অধ্যায়টা সহজ ছিল না। লিগামেন্টের সমস্যায় দীর্ঘদিন অনুশীলন থেকে দূরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপেও অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি তাঁর। একজন জিমন্যাস্টের ক্ষেত্রে যেখানে শরীরের প্রতিটি গ্রাম ওজনও গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে চোটের কারণে নিয়মিত প্রশিক্ষণ না হওয়ায় তাঁর ওজনও প্রায় এক কেজি বেড়ে যায়। অনেকের কাছে বিষয়টি সামান্য মনে হলেও আন্তর্জাতিক মানের জিমন্যাস্টিকসে এটি বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন: এশিয়ান গেমসের ট্রায়ালে খেলতে বাধা নয়, বিনেশের পাশেই সুপ্রিম কোর্ট

সম্প্রতি সাই আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে (Pranati Nayak) প্রণতি বলেন, চোটের জন্য তিনি পূর্ণমাত্রায় অনুশীলন করতে পারছিলেন না। শারীরিক সমস্যার কারণে খাদ্যাভ্যাসেও নানা বিধিনিষেধ ছিল। ফলে বাড়তি ওজন এবং ফিটনেস—দুইয়ের সঙ্গেই একসঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে।

তবুও হার মানেননি বাংলার এই জিমন্যাস্ট। কোচ অশোক কুমার মিশ্রের উৎসাহ ও বিশ্বাস এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফেরার সাহস পান। শেষ পর্যন্ত সাইয়ের অনুমতি নিয়ে তিনি অংশ নেন উজবেকিস্তানের তাসখন্দে অনুষ্ঠিত এফআইজি আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস ওয়ার্ল্ড চ্যালেঞ্জ কাপে। আর সেখানেই আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য—রুপোর পদক।

প্রণতির (Pranati Nayak) আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে একাধিক পদক রয়েছে। তবে সেগুলোর বেশিরভাগই ছিল ব্রোঞ্জ। তাই তাসখন্দের রুপো তাঁর কাছে বিশেষ আবেগের। নিজের ভাষায়, এতদিন শুধু ব্রোঞ্জ জিততে-জিততে যেন একটা আক্ষেপ তৈরি হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে রুপো জয় তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এখন তাঁর লক্ষ্য আরও বড়। আগামী ২৫ থেকে ২৮ জুন চিনে অনুষ্ঠিত হতে চলা ১৩তম সিনিয়র এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় দলের অন্যতম ভরসা প্রণতি। ভারতীয় সিনিয়র দলের সদস্য হিসেবে সেখানে অংশ নেবেন তিনি। সেই প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য তিনি বর্তমানে ভুবনেশ্বরের হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে জাতীয় কোচিং শিবিরে অংশ নিচ্ছেন। ২২ মে থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চলা এই শিবিরে দেশের সেরা জিমন্যাস্টদের সঙ্গে কঠোর অনুশীলনে ব্যস্ত তিনি।

আরও পড়ুন: ভারতীয়র লেন্সে ধরা পড়বে ফিফা বিশ্বকাপের মুহূর্ত, ইতিহাস গড়লেন গীতিকা তালুকদার

এই প্রস্তুতির জন্য সরকারও উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। জাতীয় কোচিং শিবিরের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২৩.৫২ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় সিনিয়র ও জুনিয়র মহিলা দলের অংশগ্রহণের জন্য অনুমোদন করা হয়েছে ৩৬.৫৯ লক্ষ টাকা। তাসখন্দে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও টপসের তরফে প্রণতি, তাঁর কোচ এবং ফিজিওথেরাপিস্টের জন্য প্রায় ৫.৯ লক্ষ টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।

(Pranati Nayak) প্রণতি জানিয়েছেন, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের আগে তিনি মূলত ভল্টের ল্যান্ডিং এবং ডিফিকাল্টি লেভেল উন্নত করার দিকে নজর দিচ্ছেন। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় নতুন কোনও ভল্ট নিয়ে আপাতত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন না। এমনকি ভবিষ্যতের অলিম্পিক নিয়েও এখনই ভাবতে চান না তিনি। তাঁর লক্ষ্য একটাই—একটি প্রতিযোগিতা শেষ করে পরবর্তী চ্যালেঞ্জের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

চোট, হতাশা, বাড়তি ওজন কিংবা অনিশ্চয়তা—সব বাধা পেরিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন প্রণতি নায়েক। তাসখন্দের রুপো যেন সেই লড়াইয়ের পুরস্কার। আর সরকারের সহায়তা ও নিজের অদম্য মানসিক শক্তিকে সঙ্গী করে এখন তাঁর চোখ কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমসের নতুন স্বপ্নে।

আরও পড়ুন: উচ্চতাই বদলে দিয়েছে পথ, কেমন ছিল ইস্টবেঙ্গলের চ্যাম্পিয়ন গোলরক্ষক প্রভসুখন গিলের যাত্রা?


Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

1 thought on “ব্রোঞ্জের গন্ডি পেরিয়ে রুপোর হাসি, চোট-হতাশা পেরিয়ে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলেন প্রণতি নায়েক”

Leave a Comment