চলতি ISL-এর সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ বড় ম্যাচ (East Bengal FC vs Mohun Bagan SG) । শুধু কলকাতার ফুটবল আবেগ নয়, এবার ডার্বির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ট্রফির ভাগ্যও। রবিবাসরীয় মহারণে মুখোমুখি হচ্ছে ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান (East Bengal FC vs Mohun Bagan SG)। দুই প্রধানের কোচের বক্তব্যেই ভিন্ন অথচ স্পষ্ট—এই ম্যাচ শুধুই ডার্বি নয়, আইএসএল খেতাবের দৌড়েও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাংবাদিক সম্মেলনে বসে মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছেন, “এই ম্যাচটা আমাদের কাছে ফাইনালের মতো।” অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো প্রকাশ্যে ‘ফাইনাল’ শব্দ ব্যবহার না করলেও জানিয়ে দিয়েছেন, এখন একটাই লক্ষ্য—ডার্বি জয়।
টানা আট ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। ফলে আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। ম্যাচ জিততে পারলে শুধু ট্রফির খুব কাছেই পৌঁছে যাবে না, আইএসএলের ডার্বিতে জয়ের খাতাও খুলবে লাল-হলুদের। গত দেড় বছরে দলের মানসিকতার বদলই সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করছেন ব্রুজো। তাঁর কথায়, “আমি নিজেকে ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকই মনে করি। এখন আমরা চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে ভাবছি।”
তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সমস্যাও কম নয়। চোট এবং কার্ড সমস্যার কারণে সল ক্রেস্পো, মহেশ নওরেম এবং সৌভিক চক্রবর্তীকে চোট ও কার্ড সমস্যায় পাওয়া যাবে না। তবু নতুন কম্বিনেশন নিয়েই ইতিবাচক মানসিকতায় মাঠে নামতে চান ব্রুজো। স্প্যানিশ কোচ হিসেবে আক্রমণাত্মক ফুটবলের দর্শনেই বিশ্বাসী তিনি। তাই রক্ষণ সামলে গোলের দরজা খুলতেই মরিয়া লাল-হলুদ শিবির। পরিসংখ্যান বলছে অস্কার ব্রুজো সুবিধাজনক জায়গায়।
প্রতিপক্ষ মোহনবাগান সম্পর্কে ব্রুজোর বিশ্লেষণও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, “মোহনবাগানে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি, শুধু কোচ বদলেছে। বিপিন, বিষ্ণু এবং রাকিপ জাতীয় দলে থাকার যোগ্য ফুটবলার। চাপ ওদের ওপরই বেশি, কারণ ওদের খেতাব ধরে রাখতে হবে।”
এই মরসুমের পর ইস্টবেঙ্গলের কোচ হিসেবে ব্রুজোর বিদায় প্রায় নিশ্চিত। ফলে এটিই তাঁর শেষ ডার্বি (East Bengal FC vs Mohun Bagan SG) হতে পারে। আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হলেও তিনি পুরো বিষয়টি পেশাদার মানসিকতায় সামলাতে চাইছেন। আনোয়ার আলি ম্যাচের জন্য ফিট থাকলেও তাঁর সম্পূর্ণ চোট সারাতে অন্তত এক মাস বিশ্রামের প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন কোচ। গত একবছরে দুটো ফাইনাল হেরেছে ইস্টবেঙ্গল। সেই ক্ষত এখন দগদগে। বিষয়টি মাথায় রেখেই অস্কার ব্রুজো সংযত সংযমী এবং আত্মবিশ্বাসী। ডার্বির জন্য আলাদা চাপ নয় বরং ফুরফুরে মেজাজে কঠিনতম লড়াইটা জিততে চাইছেন। একই সঙ্গে এএফসির টুর্নামেন্ট এর জায়গা পাকা করতে চায় অস্কার ব্রুজো এবং তাঁর দল।
কোচের পাশে বসে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার মহম্মদ রশিদ বলেছেন, “এটা (East Bengal FC vs Mohun Bagan SG) আমার তৃতীয় ডার্বি, কলকাতায় দ্বিতীয়। ইন্দোনেশিয়ার ডার্বির সঙ্গে এর মিল আছে। কালকের ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে খেলতে হবে। ডু অর ডাই ম্যাচে মাথা ঠান্ডা রাখা খুব জরুরি। এটা ১১ বনাম ১১-এর লড়াই, যেখানে অতিরিক্ত পরিশ্রমটাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।”
অন্যদিকে মোহনবাগান শিবিরেও আত্মবিশ্বাস প্রবল। কোচ লোবেরা ডার্বিকে “সবচেয়ে বড় প্রেরণা” বলেই বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, “ডার্বি সবসময় আলাদা ম্যাচ। অতীত নিয়ে ভাবছি না। এটা সম্পূর্ণ নতুন লড়াই।”
তবে সবুজ-মেরুন শিবিরের চিন্তার জায়গা আক্রমণভাগের গোল খরা। আপুইয়া ফিট হলেও জেমি ম্যাকলারেনকে নিয়ে এখনও কিছুটা সংশয় রয়েছে। তবুও লোবেরার দাবি, তাঁর দল প্রস্তুত। “আমাদের দলে অভিজ্ঞ ফুটবলার রয়েছে। আলাদা করে কিছু বোঝানোর প্রয়োজন নেই,” মন্তব্য মোহনবাগান কোচের।
ইস্টবেঙ্গলকে যথেষ্ট সম্মানও দিয়েছেন তিনি। লোবেরা বলেছেন, “ট্রফি জিততে হলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েই জিততে চাই। ওদেরও খুব ভালো দল রয়েছে। টানা ১৩টি ম্যাচ খেলা কঠিন, কিন্তু সমর্থকদের আনন্দ দিতে চাই।”
স্প্যানিশ কোচদের তুলনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা দু’জনেই স্প্যানিশ হলেও প্রত্যেক কোচের নিজস্ব ভাবনা থাকে। আমাদের দলে বিভিন্ন দেশের ফুটবলার রয়েছে।”
ডার্বির উত্তাপ মাঠের বাইরেও তুঙ্গে। আয়োজকদের দাবি, ইতিমধ্যেই ৬২ হাজার ২০০ টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। সমর্থকদের জন্য বিশেষ পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ম্যাচ উপলক্ষ্যে শহরে নামানো হবে প্রায় ২০০টি অতিরিক্ত বাস। থাকবে অতিরিক্ত মেট্রো ও ফেরি পরিষেবাও। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ১২০০ পুলিশকর্মী। টিফো প্রদর্শনের অনুমতি অবশ্য শেষ পর্যন্ত পুলিশের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
সব মিলিয়ে আসন্ন আইএসএল ডার্বি (East Bengal FC vs Mohun Bagan SG) শুধু মরসুমের সেরা ম্যাচ নয়, হতে চলেছে ট্রফির ভাগ্য নির্ধারণকারী লড়াইও। ইস্টবেঙ্গল জিতলে ট্রফির খুব কাছে পৌঁছে যাবে। হারলে নেমে যেতে পারে দ্বিতীয় নয় পাঁচ নম্বর স্থানে। অন্যদিকে মোহনবাগানের সামনে খেতাব ধরে রাখার চাপ। দুই দল ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গীতে ডার্বিকে দেখলেও দুই দলের লক্ষ্য একটাই—জয়। আর সেই কারণেই কলকাতা ডার্বির উত্তেজনা এখন চরমে।
স্লো ওভারের খেসারত, বড় জরিমানার কবলে ঋষভ পন্থ: East Bengal FC vs Mohun Bagan SG: ডার্বির মঞ্চেই খেতাবের লড়াই, আত্মবিশ্বাসী ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান











1 thought on “East Bengal FC vs Mohun Bagan SG: ডার্বির মঞ্চেই খেতাবের লড়াই, আত্মবিশ্বাসী ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান”