ভারতীয় ক্রিকেটে কি তবে ফের এক যুগের অবসান হতে চলেছে? শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজে দলে সুযোগ পাননি অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামি। এমনকি জসপ্রীত বুমরাহর খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা থাকলেও নির্বাচকদের ভাবনায় উঠে আসছে না শামির নাম। আর সেই কারণেই ক্রিকেট মহলে জোরালো হয়েছে জল্পনা, তবে কি শামির আন্তর্জাতিক কেরিয়ার কার্যত শেষের পথে?
Mohammed Shami: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর আর জাতীয় দলে সুযোগ নেই
উল্লেখ্য, গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শেষবার ভারতের জার্সিতে দেখা গিয়েছিল শামিকে। দেশের হয়ে প্রথম আইসিসি ট্রফি জয়ের পর আর জাতীয় দলে ডাক পাননি তিনি। অথচ পারফরম্যান্সের বিচারে নিজেকে প্রমাণ করেই চলেছেন এই বাংলার পেসার। গত ঘরোয়া মরসুমে দীর্ঘ স্পেল বল করে ৩৭টি উইকেট নিয়েছেন। আইপিএলেও নিয়মিত খেলেছেন এবং আগামী মরসুমেও বাংলার হয়ে মাঠে নামবেন। তবুও প্রধান নির্বাচক অজিৎ আগরকর এবং হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাঁর নাম নেই বলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।
ভবিষ্যতের লক্ষ্যেই নতুন পেস আক্রমণ
‘স্পোর্টস্টার’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনটি ফরম্যাট মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ১৫ জন পেসারের একটি তালিকা তৈরি করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সেখানে অভিজ্ঞ ও তরুণ দুই ধরনের বোলারই রয়েছেন। ২০২৭ সালের ODI বিশ্বকাপ এবং পরবর্তী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখেই এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হয়েছে। আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও জিম্বাবোয়ে সফরে দল নির্বাচনেও সেই কৌশলের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। নির্বাচকেরা অতীতের বদলে এখন ভবিষ্যতের দিকেই বেশি নজর দিতে চাইছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
বুমরাহ-সিরাজের পর ভরসা কারা?
ভারতের পেস আক্রমণের নেতৃত্বে এখনও রয়েছেন জসপ্রীত বুমরাহ। তবে সব সিরিজে তো তাঁকে খেলানো সম্ভব নয়, বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। আর বুমরাহর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব সামলান মহম্মদ সিরাজ। তাঁদের পর দ্বিতীয় সারিতে রয়েছে অর্শদীপ সিংহ, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, আকাশদীপ, মুকেশ কুমার এবং হর্ষিত রানাকে।
মোহনবাগান দিবসে ১৯১১-এর গৌরব স্মরণ, মহিলা দল নিয়ে বড় ইঙ্গিত সভাপতির
অন্যদিকে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বোর্ডের নজরে রয়েছেন একাধিক তরুণ পেসারও। সেই তালিকায় আছেন প্রিন্স যাদব, গুরনুর ব্রার, অশোক শর্মা, যশ ঠাকুর এবং মায়াঙ্ক যাদব। এছাড়া এবারের আইপিএলে নজর কেড়েছেন কার্তিক ত্যাগী, রাসিখ সালাম দার এবং আকিব নবিও। ফলে তাঁদেরও ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
অভিজ্ঞতার অভাব কি প্রভাব ফেলবে?
তবে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শামির (Mohammed Shami) মতো অভিজ্ঞ পেসার দলে থাকলে ভারতের পেস আক্রমণ আরও মসৃণ হতে পারত। বুমরাহ অনুপস্থিত থাকলে তিনি নেতৃত্ব দিতে পারতেন, পাশাপাশি তরুণ বোলারদের মেন্টর হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম ছিলেন এই বাঙালি বলার। তবে সেই সুযোগ আর তৈরি করতে চাইছেন না নির্বাচকেরা।
তাঁদের মতে, যখন তরুণ প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব যখন তুলে দিতেই হবে তখন আর দেরি করার কোনও প্রয়োজন নেই। সেই কারণেই ভবিষ্যতের ভারতীয় পেস আক্রমণ গড়ে তুলতে নতুন মুখদের উপরই আস্থা রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে এই সিদ্ধান্ত আগামীতে দলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে কিনা সেটাই এখন দেখার।











1 thought on “শামির ভারত অধ্যায়-কি শেষ? নির্বাচকদের পরিকল্পনায় নেই অভিজ্ঞ বাঙালি পেসার”