প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঝাড়গ্রাম সফরের কথা মনে করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জঙ্গলমহলের উন্নয়নে বড় ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার গোপীবল্লভপুরের মানিকপাড়ায় এক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন। আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়ের কল্যাণে একাধিক প্রকল্পের সূচনা করলেন তিনি। ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খেয়ে যে কথা দিয়েছিলেন, আমি আজ সেই কথা রাখতে এসেছি।”
Suvendu Adhikari: ‘বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলব’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “ঝাড়গ্রামে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠবে। ঝাড়গ্রামের মানুষদের একসময় মাওবাদী তকমা দিয়ে জনসাধারণের কমিটি অত্যাচার করা হতো। সিপিএমও এই লাল মাটিতে সন্ত্রাস চালিয়েছে, গোমতি থেকে গোদাবরী আলাদা রাজ্য করতে চায় বামেরা। আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে একটি স্কিল ডেভেলপমেন্টের প্রজেক্ট পারমিশন করতে পাঠিয়েছি, যার মধ্যে দিয়ে স্কিল ডেভেলপমেন্টেের মধ্যে দিয়ে এই জঙ্গলমহলের পিছিয়ে পড়া মানুষদের উন্নয়ন করব।”
প্রকল্পের উদ্বোধন
ভারত সরকার ঘোষিত ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাজেটে পাশ হওয়া বিশেষ জনজাতি শ্রেণির ৭৫০০০ হাজারের বেশি মানুষের কাছে প্রত্যেক সপ্তাহে পৌঁছে যাবে পুষ্টিকর খাবার, সেই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। ঝাড়গ্রাম সহ পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও আলিপুরদুয়ার জেলার জনজাতি শ্রেণির মানুষ এই সুবিধা পাবে বলে জানান তিনি। সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে আমরা সারা রাজ্যে শুরু করব বিশেষ জনজাতি মানুষদের জন্য পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির উদ্যোগে এই কর্মসূচি শুরু হল। এই প্রকল্পে ঝাড়গ্রামে ২৫০০০, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৪৫০০০ মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশাপ্রকাশ করেন।”
তফশিলি জনজাতি শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের ৮০০ টাকা করে স্কলারশিপ দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন। তফশিলি যাত্রী ও উপ-জাতির ছাত্র-ছাত্রীদের হোস্টেলে থাকার জন্য ১৮০০ থেকে ৩৩০০ টাকা করা হয়েছে। এদিন মঞ্চ থেকে লোধা শবর ও বিশেষ সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের হাতে সরকারি সাহায্য তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুষ্টিকর খাবারের প্যাকেট সহ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্ড, সরকারি পাট্টা, চশমা সরাসরি উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেন। ঝাড়গ্রামের আদিবাসীদের জন্য বিশেষ ঋণ এর মধ্যে দিয়ে ৪ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এই জঙ্গলমহলে মানুষদের বাড়িতে আমি এসে খাবার খেয়ে গেছি, দেখেছি বেশ কিছু এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলও পাওয়া যেত না। আমি জেলাশাসককে বলে যাচ্ছি, খুব কম সময়ের মধ্যে ঝাড়গ্রাম হাসপাতাল সহ বিভিন্ন এলাকার উন্নয়ন করার জন্য অনুরোধ করব, আমি সব রকম সহযোগিতা করতে তৈরি। জঙ্গলমহলকে আমি সাজিয়ে তুলবো এটা দায়িত্ব আমার।”










