বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারের মঞ্চে তখন গেরুয়া আবেগের বিস্ফোরণ। সদ্য ঘোষণা হয়েছে বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম। আর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে মঞ্চে উঠে এমন ভাষণ দিলেন (Amit Shah) অমিত শাহ, যা শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, কার্যত বাংলার ক্ষমতার পালাবদলের ঘোষণা।
শুরুতেই বাংলার মানুষকে প্রণাম জানালেন শাহ (Amit Shah) । বলেন, “বাংলার জনগণকে আমার অশেষ ধন্যবাদ। আপনারা নরেন্দ্র মোদীজি ও বিজেপির উপর যে ভরসা রেখেছেন, আমরা সেই বিশ্বাস পূরণ করব।” তারপরই সরাসরি আক্রমণ বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। ((Amit Shah) ) শাহের দাবি, কমিউনিস্ট আমল থেকে বাংলায় যে ভয় ও রাজনৈতিক হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই পরিবেশকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছিলেন। তাঁর কথায়, “মতের অভিব্যক্তি অসম্ভব ছিল। হিংসা, ক্রুরতার হাজার উদাহরণ রয়েছে। বাংলার মানুষ ভয় নিয়ে বেঁচেছে।”
মঞ্চে তখন পিনপতনের নীরবতা। (Amit Shah) শাহ একের পর এক বাক্যে যেন আক্রমণের ঝড় তুলছেন। কিন্তু সেই আক্রমণের মাঝেও উঠে এল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। গলায় আবেগ এনে শাহ (Amit Shah) বললেন — “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির… আজ বাংলার মানুষ সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে।”এই লাইন উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে সভাকক্ষে হাততালির ঝড় ওঠে। বিজেপি কর্মীদের চোখেমুখে তখন স্পষ্ট উচ্ছ্বাস। কারণ শাহ শুধু সরকার গঠনের কথা বলছিলেন না, তিনি বোঝাতে চাইছিলেন, বাংলায় এক নতুন রাজনৈতিক যুগ শুরু হয়েছে। তিনি স্মরণ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-কে। বলেন, “১৯৫০ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ বাংলায় সেই দলের সরকার গঠন হলো।” তারপরই শাহের গলায় আত্মবিশ্বাসের বিস্ফোরণ, “গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিজেপির যাত্রা আজ অভূতপূর্ব।”
তারপরই মঞ্চ কাঁপানো মন্তব্য, “ভবানীপুরবাসীকে ধন্যবাদ। আমাদের শুভেন্দু ঘরে ঢুকে হারিয়ে এসেছে!” এক মুহূর্তে সভাকক্ষে গর্জে ওঠে হাততালি। নন্দীগ্রামের স্মৃতি টেনে শাহ আরও বলেন, “মমতাদিকে আগে নন্দীগ্রামে হারিয়েছেন শুভেন্দু, এবার বাংলাতেও হারালেন।”
(Amit Shah) তিনি দাবি করেন, ২০১৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বিজেপির উত্থান ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্যতম সেরা উদাহরণ। বাংলায় শুধু সংগঠন বাড়েনি, বিজেপির আদর্শও মানুষের ভিতরে গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছে বলেই দাবি তাঁর। এরপর তিনি তুলে ধরেন বিজেপির নির্বাচনী পরিসংখ্যান। ২০১৬ সালে মাত্র ৩ আসন। ২০২১ সালে ৭৭। আর ২০২৬ সালে ২০৭। “নয়টি এমন জেলা রয়েছে যেখানে আমরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছি যেখানে দিদি খাতায় খুলতে পারেননি।” এই সংখ্যাগুলো উচ্চারণ করার সময় শাহের কণ্ঠে স্পষ্ট গর্ব। তিনি বলেন, “এই যাত্রা শুধু রাজনৈতিক সাফল্য নয়, এটা বাংলার মানুষের মানসিক পরিবর্তনের প্রতিফলন।”
কিন্তু সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন (Amit Shah) তিনি বিজেপির নিহত কর্মীদের প্রসঙ্গ তোলেন। সভাকক্ষ তখন নিস্তব্ধ। শাহ বলেন, “এই জয়ের জন্য ৩২১ জন ভারতীয় জনতা পার্টির সৈনিক প্রাণ দিয়েছেন। আমি সেই ৩২১ পরিবারকে ভারতীয় জনতা পার্টি ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে নমস্কার জানাই।” এই বক্তব্যের পর কয়েক সেকেন্ড থেমে যান শাহ। মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু কর্মীর চোখে জল দেখা যায়।
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের আগে কলকাতায় শাহ, বিমানবন্দরে স্বাগত জানানো হল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে: Amit Shah: ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ থেকে ‘সোনার বাংলা’, বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে গর্জে উঠলেন অমিত শাহএরপর ফের আক্রমণাত্মক সুরে তৃণমূল ও বিরোধীদের নিশানা করেন তিনি। নির্বাচন কমিশন ও ইভিএম নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, তার পাল্টা জবাব দিয়ে শাহ বলেন, “স্বাধীনতার পরে এই প্রথম এত শতাংশ ভোট পড়েছে। অথচ তৃণমূল বুথ ক্যাপচারিং বা ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ পর্যন্ত করতে পারেনি।” তিনি আরও দাবি করেন, অতীতের মতো এ বার নির্বাচনে রাজনৈতিক হত্যা বা রক্তপাতের ছবি দেখা যায়নি। শাহের কথায়, “আগে নির্বাচন মানেই মৃত্যু অবধারিত ছিল। এবার সেই পরিস্থিতি হয়নি।”(Amit Shah)
বাংলাদেশ সীমান্ত এবং অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর ভাষণে। অসম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ — তিন রাজ্যেই এখন বিজেপি সরকার। শাহের বক্তব্য,“অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ — পুরো অঞ্চল এখন গেরুয়া।” শাহের দাবি, বাংলার সীমান্ত এখন আরও সুরক্ষিত হবে। তাঁর কথায়, “এবার সীমান্তে কড়া নজরদারি হবে, অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে।”
শুধু রাজনৈতিক জয় নয়, শাহ বোঝাতে চাইলেন, বাংলার মানুষ ভয় কাটিয়ে ভোট দিয়েছে। আর সেই কারণেই এই জয় বিজেপির কাছে ঐতিহাসিক। শেষে তিনি ফের “সোনার বাংলা”-র প্রতিশ্রুতি শোনান। বলেন, “আজ থেকে আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। মোদীজি বাংলার মানুষকে যা আশ্বাস দিয়েছেন, আমরা তা পূরণ করব।”
শেষে গোপাল কৃষ্ণ গোখলের বিখ্যাত উক্তি টেনে শাহ বলেন “বাংলা আজ যা ভাবে, ভারত ভাবে আগামীকাল।” আর এই লাইন দিয়েই কার্যত নতুন রাজনৈতিক যুগের বার্তা দিলেন তিনি। অমিত শাহের (Amit Shah) বার্তা স্পষ্ট — বিজেপি শুধু সরকার গড়তে আসেনি, বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিই বদলে দিতে এসেছে।
রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী: Amit Shah: ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ থেকে ‘সোনার বাংলা’, বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে গর্জে উঠলেন অমিত শাহ










