প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ‘বঙ্গবিভূষণ’ পুরস্কার নিয়েছিলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ তথা গ্রেটার কোচবিহার নেতা অনন্ত মহারাজ (নগেন্দ্র রায়) (Ananta Maharaj)। তারপর থেকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল পদ্মশিবিরের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে। ২৬-শের বিধানসভা ভোটে বাংলায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি। তারপর থেকেই আরও দূরত্ব বেড়েছে দলের সঙ্গে। দলে গুরুত্ব না পেয়ে বিজেপিকে বেলাগাম ভাষায় আক্রমণ করে বসলেন তিনি। শনিবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর প্রশাসনিক বৈঠকে সেখানকার প্রশাসনিক ও দলীয় স্তরে শীর্ষ ব্যক্তিরা ডাক পেলেও ‘ব্রাত্য’ ছিলেন তিনি। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর মন্তব্য, “বিজেপিকে তো পশ্চিমবঙ্গে আমি নিয়ে এসেছি। এখন সরকার হয়েছে। ওরা এখন কুত্তাকে পোছে, আমাদের পোছে না।”
তিনি দাবি করেন (Ananta Maharaj), “আপনাদের (সংবাদমাধ্যম) মাধ্যমে বলে রাখি, বিজেপিকে তো পশ্চিমবঙ্গে আমি নিয়ে এসেছি। উত্তরবঙ্গেও আমি এনেছিলাম। এখন সরকার হয়েছে। কুত্তাকে পোছে, আমাকে পোছে না। আমার সঙ্গে শুধু নানারকম কথাবার্তা বলে অন্য প্রোপাগান্ডা করে। আমি কাকে বিশ্বাস করব এখন?”
‘পশ্চিমবঙ্গ শাসন’ প্রসঙ্গে আগের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে কোচবিহারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে বলেছিলেন, “মহারাজ, রাগ করবেন না, একদিন আপনি পশ্চিমবঙ্গ চালাবেন।” এছাড়াও, আক্ষেপের সুরে অনন্ত মহারাজ বলেন, “বিজেপি আমাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি আজ বেঁচে আছি শুধু আমার বাবা-মায়ের আশীর্বাদে।”
বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ৪ বছর আগেই। ২০২২-এর ফেব্রুয়ারিতে চিলা রায়ের জন্মদিবস উপলক্ষ্যে এক মঞ্চে দেখা যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অনন্ত মহারাজকে। গত লোকসভা ভোটের পরপর কোচবিহারের বাড়িতে গিয়ে অনন্ত মহারাজের সঙ্গে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর রাজ্য সরকার বঙ্গবিভূষণ সম্মানে তাঁকে পুরস্কৃত করে। পরে অবশ্য ভোট প্রচারের সভাতে প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তবে ভোটে রাজ্যে সরকার গঠনের পর অনন্ত মহারাজের কাছ থেকে অনেকটাই দূরত্ব বাড়িয়েছে দল।











