বারুইপুর শহরের মাস্টারপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রকাশ্য মাদক কারবারের বিরুদ্ধে সরব হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, মহকুমা শাসক (এসডিও) এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের (এসডিপিও) অফিস থেকে মাত্র প্রায় ১০০ মিটার দূরে দিনের পর দিন রাস্তার ধারে প্লাস্টিকের প্যাকেটে গাঁজা বিক্রি চলছিল। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন বেআইনি কারবার চললেও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। (Baruipur Illegal Activity)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দুই থেকে চার মাস ধরে মাস্টারপাড়া এলাকায় নিয়মিতভাবে গাঁজা বিক্রি হচ্ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু যুবক ও কিশোর সেখানে এসে মাদক কিনত। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, তাঁরা প্রথম থেকেই এই কারবারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত জনসমর্থন না থাকায় মাদকচক্রের বিরুদ্ধে বড় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। (Baruipur Illegal Activity)
স্থানীয়দের অভিযোগ, অরুণ নামে এলাকার এক সমাজকর্মী তথা রাজনৈতিক কর্মী গাঁজা বিক্রির সময়ে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার মানুষ জড়ো হয়ে অভিযুক্তদের ঘিরে ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে গাঁজার প্যাকেট ফেলে পালিয়ে যায় তারা। (Baruipur Illegal Activity)
স্থানীয়দের দাবি, নজো নামে এক ব্যক্তি এই মাদকচক্রের মূল নিয়ন্ত্রক। সে নিজে খুব কমই সামনে আসে। পরিবর্তে চম্পাহাটি, সোনারপুর, মল্লিকপুর ও সাজাদপুর এলাকার অল্পবয়সী কয়েকজন ছেলেকে দিয়ে পালা করে গাঁজা বিক্রি করানো হয়। প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন ছেলেকে কাজে লাগিয়ে এই ব্যবসা চালানো হতো বলেও অভিযোগ।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ঘটনার খবর পুলিশকে দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় ধরে কেউ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়নি। তাঁর দাবি, এসডিপিও অফিসের এত কাছেই মাদক বিক্রি হচ্ছে, অথচ অভিযোগ জানানোর প্রায় দেড় ঘণ্টা পরও পুলিশ না আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে, কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন যে বারুইপুর রেলস্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের পাশেও সম্প্রতি কয়েকটি অস্থায়ী দোকান গজিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে একটি চায়ের দোকানের আড়ালে নিয়মিতভাবে গাঁজা বিক্রি হয় বলে তাঁদের দাবি। গোটা বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত বলেও মত তাঁদের। (Baruipur Illegal Activity)
স্থানীয় এক মহিলা, যিনি রাজমণি স্কুলের মিড-ডে মিল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত, দাবি করেন আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিজের চোখে এই মাদক বিক্রি হতে দেখেছেন। তাঁর অভিযোগ, শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বহু ছাত্রও নিয়মিতভাবে সেখানে এসে গাঁজা কিনত। স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে মাদকের প্রসার নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এলাকার আরও একাধিক বাসিন্দার বক্তব্য, তাঁরা বহুবার প্রশাসন, পুলিশ এবং স্থানীয় কাউন্সিলরকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এমনকি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রেতাদের সতর্কও করেছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও ফল হয়নি। অবশেষে বুধবার এলাকার মানুষ নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে অভিযুক্তদের ধরতে গেলে তারা মাদক ফেলে পালিয়ে যায়। (Baruipur Illegal Activity)
ঘটনার খবর পেয়ে পরে বারুইপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাস্তায় পড়ে থাকা গাঁজার প্যাকেটগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কারা এই কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত নজো এবং তার সহযোগীদের খোঁজে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের একাংশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত এবং কড়া পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, বারুইপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চলতে পারে না এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। (Baruipur Illegal Activity)
উচ্ছিষ্ট ফুল আর বর্জ্য নয়, ধূপবাতি তৈরির পরিকল্পনায় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল











2 thoughts on “স্কুলপড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ, বারুইপুরে প্রকাশ্যে বিকোচ্ছে গাঁজা, তদন্তে পুলিশ”