রাজ্যে পালা বদল হয়েছে। ৩৪ বছরের বাম শাসন ও ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের জামানায় রাজ্যে পোশাক শিল্প নিয়ে ভাবেনি কোনও সরকারই। তবে এবার বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলাচ্ছে রাজ্যের শিল্পের পরিস্থিতিও। রাজ্যের বস্ত্র ব্যবসায়ীদের কথা নতুন করে ভাবছে শুভেন্দুর সরকার। বৃহস্পতিবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে বস্ত্র শিল্প সম্মেলনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় বাম ও তৃণমূলকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
তিনি (Suvendu Adhikari) বলেন, “দীর্ঘ ৫০ বছরে বাংলার খারাপ অবস্থা বানিয়ে দিয়েছে। সেই খারাপ অবস্থা থেকে বেরতে চেষ্টা করছে বাংলা। ক্ষমতায় আসার আগে আমরা সংকল্প পত্রে যা বলেছিলাম, সেইটাই আমরা ৩ মাস ধরে পূরণ করার চেষ্টা করছি। এবার দ্রুত গতিতে এগোবে বাংলা।”
পাশাপাশি বস্ত্রের সঙ্গে যুক্ত শিল্পপতিদের রাষ্ট্রবাদীর সঙ্গে তুলনা করলেন তিনি। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের বাংলায় বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি বাংলার সাকসেসফুল বিজনেজম্যানরা সকলেই রাষ্ট্রবাদী। এনারাই বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা এগিয়ে আসুন। সরকারকে সাহায্যের জন্য আপনাদের দরকার।”
পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে ‘সুরাত-বিদ্বেষী’ বলে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “যে আগের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তিনি সুরাটের নাম শুনেই বলতেন ওরা তো বাইরের শিল্পপতি। এই শিল্প মেলা গোটা দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য। এটায় তো আমাদের গর্ব হওয়া উচিত। এটা একটা বিসনেজ চেইন। এটায় বাংলার লাভ হবে। একসঙ্গে সকলে কাজ করলে বাংলায় ভালো অবস্থায় ফিরবে।”
তিনি আরও বলেন, “এটা স্বামী বিবেকানন্দের ভূমি ও শ্রী চৈতন্যদেবের ভূমি। বাংলায় সব কিছু আছে। তবে গত কয়েক বছরে শিল্পের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের সেই জায়গা থেকে বেরতে হবে।”
পাশাপাশি তোলাবাজি, গুন্ডাগিরির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারিও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগে রাজ্যের আইন-কানুন ঠিক করতে হবে। কোনও গুন্ডাগিরি, সিন্ডিকেট রাজ, কাটমানি, তোলাবাজি চলবে না। শিল্পের রাজ্য ভালো পলিসি দেবে। জমিও দেবে রাজ্য। তবেই বাংলা এগোবে। আমি আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি সব বদলাবে। কোনও গুন্ডাগিরি চলবে না।”











