প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার বিরুদ্ধে CJP এবং পড়ুয়াদের আন্দোলনের পর আজ ২৫ জুলাই শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করল কেন্দ্রীয় সরকার। ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এবার এই ইস্তফাকে কেন্দ্র করেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর দাবি, এটি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ নয়, বরং জনমত ও ছাত্র আন্দোলনের চাপে সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কার্যত “বরখাস্ত” করতে বাধ্য হয়েছে।
Subhankar Sarkar’s Reaction: কী জানালেন শুভঙ্কর সরকার?
শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অনেক আগেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের নৈতিক দায় স্বীকার করে সরে দাঁড়ানো উচিত ছিল। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতির জেরে অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এমনকি আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অথচ এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং সরকার অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তার পাশে প্রথম থেকেই ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রী ও আত্মহত্যাকারীদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, রাহুল গান্ধীর এই অবস্থান দেশজুড়ে ছাত্র-যুব সমাজকে প্রতিবাদে অনুপ্রাণিত করেছে এবং শেষ পর্যন্ত সেই আন্দোলনের চাপে সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
ইস্তফাতেই ইতি নয়, মানতে হবে সব দাবি
তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাতেই আন্দোলনের ইতি টানা উচিত নয় বলেও মত প্রকাশ করেছেন শুভঙ্কর সরকার। তিনি জানান, ছাত্রসমাজের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়েছে, যা কংগ্রেসও সমর্থন করে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফায় উচ্ছ্বসিত SFI, ‘বিজয় মিছিল’-এর ডাক সৃজন ভট্টাচার্যের
প্রথমত, আন্দোলন চলাকালীন যেসব ছাত্রীর উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার অব্যবস্থা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেশের ছাত্রসমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। (Subhankar’s Sarkar Reaction)
শুভঙ্কর সরকারের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং ছাত্রসমাজের ন্যায্য দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। তাঁর কথায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা কোনও ব্যক্তির পরাজয় নয়, বরং দেশের ছাত্র-যুব সমাজের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সাফল্য।












