রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

নেই ডাক্তার গড়িয়ার ফরতাবাদ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, এলাকার বিধায়ক কিছু আশ্বাস দিলেন কি?

Published on: July 31, 2026
Garia Fartabad Health Centre
---Advertisement---

বহুদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ফোনেই রোগীর সমস্যা শুনছেন চিকিৎসক, হাতে ধরানো হচ্ছে প্রিন্ট করা প্রেসক্রিপশন, নেই প্রসূতি বিভাগও। এমনই হাল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর উত্তর বিধানসভা এলাকার গড়িয়া ফরতাবাদ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার বিরুদ্ধে এবার সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে, টোটো গাড়িতে পোস্টার টাঙিয়ে, মাইকে প্রচার চালিয়ে এলাকার মানুষদের থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহের মাধ্যমে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্র সংস্কারের দাবি তোলেন এলাকার বেশ কিছু বাসিন্দারা। যদিও সমস্যা খতিয়ে দেখে শীঘ্রই সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক দেবাশিস ধর।

Garia Fartabad Health Centre: ফোনে চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রিন্ট করে দেওয়া হচ্ছে প্রেসক্রিপশন

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় প্রতিদিনই কোনও চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না। একজন নার্সই রোগীদের প্রাথমিকভাবে দেখেন। রোগী এলে তাঁর সমস্যার কথা শুনে সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন নার্স । সেখান থেকে চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ শুনে প্রেসক্রিপশন তৈরি করেন। পরে সেই প্রেসক্রিপশন ই-মেলের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয় এবং সেটি প্রিন্ট করে রোগীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

1000434888

বাসিন্দাদের দাবি, আগের পরিষেবা ফিরে আসুক

এলাকার বাসিন্দা দীপক দাসের দাবি, আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগে সে পরিষেবা মিলতো। এখন কিছুই এখন আর পাওয়া যায় না। তাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁদের আবেদন, গড়িয়া ফরতাবাদ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দ্রুত সংস্কার করে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু করা হোক।

গড়িয়ার বাসিন্দা পূজা দাসের অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জরুরি বিভাগ বা প্রসূতি বিভাগ কোনওটিই নেই। এর ফলে কার্যত কোনও চিকিৎসা পরিষেবাই মিলছে না। তাঁর দাবি, এখানে পেট খারাপের ওষুধ ছাড়া প্রায় অন্য কোনও ওষুধই দেওয়া হয় না। বিগত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকারের আমলে স্থানীয় বিধায়ক ছিলেন ফেরদৌসি বেগম, তবে তিনি এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার দিকে নজরই দেননি বলে অভিযোগ করেন ওই বাসিন্দা। তাঁর আরও দাবি, স্বাস্থ্য পরিষেবার জায়গায় পুরসভার কাজ, জমির মিউটেশন সংক্রান্ত কাজ হয় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন দাস জানান, একসময় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই মায়েদের সন্তান প্রসব হতো। কিন্তু গত প্রায় ১৫ বছরে একে একে সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রাত দুপুরে কোনও মানুষ অসুস্থ হলে তাদের সকালের জন্য অপেক্ষা করতে হয় কখন তাঁরা কলকাতার কোনও সরকারি হাসপাতালে যেতে পারবে। নতুন সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যাশা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সংস্কার করে আগের মতো চিকিৎসা পরিষেবা ফিরিয়ে আনা হোক।

এলাকার বাসিন্দা নমিতা বর্মনের কথায়, একসময় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অস্ত্রোপচারও করা হতো। অথচ এখন মাথা ফেটে গেলে সামান্য সেলাই পর্যন্ত করা যায় না। ফলে রোগীদের যে কোনও চিকিৎসার জন্য ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে কলকাতার সরকারি হাসপাতালে ছুটতে হয়।

রাজ্যে নাশকতার ছক ভেস্তে দিল STF, জইশ-যোগে সন্দেহভাজন জঙ্গি গ্রেফতার

চিকিৎসকের পদত্যাগেই পরিষেবা ব্যাহত: বিএমওএইচ

এলাকাবাসীর অভিযোগের বিষয়ে সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালের বিএমওএইচ অনুপ কুমার মিশ্র জানান, বর্তমানে ফরতাবাদ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসক যাচ্ছেন না। কারণ, সেখানে কর্মরত চিকিৎসক পদত্যাগ করেছেন। পরে ওই কেন্দ্রে তিনজন চিকিৎসককে পাঠানো হলেও দুর্ভাগ্যবশত তাঁরাও চাকরি ছেড়ে চলে যান।

তিনি বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনও করা হয়েছে। উন্নয়নের জন্য পূর্ত দফতরের (PWD) কাছে প্রয়োজনীয় হিসাবপত্র পাঠানো হয়েছে। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন রয়েছে। বরাদ্দ এলেই সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

দু’বছরেরই হাল ফিরবে, প্রতিশ্রুতি বিধায়কের

এই প্রসঙ্গে সোনারপুর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধর জানান, তিনি নিজে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন এবং সেটির অত্যন্ত খারাপ অবস্থা দেখেছেন। তাঁর কথায়, বিল্ডিংটি প্রায় ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। সরকার উন্নয়নের প্রস্তাব চেয়েছে এবং তিনি আগামী দু’-এক দিনের মধ্যেই সেই প্রস্তাব জমা দেবেন। (Garia Fartabad Health Centre)

তাঁর দাবি, আগামী দু’বছরের মধ্যে ফরতাবাদ স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে আধুনিক মানের হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কোনও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। এমনকি বড় বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলিতেও প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

সংস্কারের অপেক্ষায় এলাকার মানুষ

চিকিৎসকের অভাব, জরুরি পরিষেবা না পাওয়া এবং বিল্ডিংয়ের ভগ্নপ্রায় পরিকাঠামোর কারণে গড়িয়া ফরতাবাদ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তরফে উন্নয়নের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কবে সেই কাজ শুরু হবে এবং কবে আবার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরিষেবা ফিরবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন সোনারপুর উত্তর এলাকার সাধারণ মানুষ।


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিষয়ে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

1 thought on “নেই ডাক্তার গড়িয়ার ফরতাবাদ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, এলাকার বিধায়ক কিছু আশ্বাস দিলেন কি?”

Leave a Comment