উল্টো রথের আগের দিন হুগলির গুপ্তিপাড়ায় পালিত হল ২৮৬ বছরের প্রাচীন (Bhandar Loot) ‘ভান্ডার লুট’ প্রথা। জগন্নাথের মাসির বাড়ির খাদ্যভান্ডার প্রতীকী লুট করতে ভিড় জমালেন হাজার হাজার ভক্ত। এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, স্থানীয় বিধায়ক তথা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। নিরাপত্তায় ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী।
২৮৬ বছরের ঐতিহ্য, পৌরাণিক কাহিনির টান
গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য (Bhandar Loot) ভান্ডার লুট। রথের দিন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা বড়বাজারে মাসির বাড়িতে যান। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, নানা পদের খাবারের টানে জগন্নাথ আর ফিরতে চাইছিলেন না। লক্ষ্মীদেবী বহু অনুরোধ ও সরষে পোড়া দিয়েও তাঁকে ফেরাতে ব্যর্থ হন। পরে জমিদার বৃন্দাবনচন্দ্র ও কৃষ্ণচন্দ্র লেঠেল পাঠিয়ে মাসির বাড়ির খাদ্যভান্ডার লুট করান। ভান্ডার খালি হয়ে যাওয়ায় জগন্নাথ ফিরে আসেন। সেই স্মৃতিতেই আজও উল্টো রথের আগের দিন এই প্রথা পালিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি, নৈতিক দায়ে এর আগে কোন কোন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন?
Bhandar Loot: মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাড়ল উৎসবের আবহ
নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে সন্ধ্যা পৌনে সাতটা নাগাদ গুপ্তিপাড়ার বড়বাজারে জগন্নাথের মাসির বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে মন্দিরে পুজো দেন, পরে পশ্চিম দিকের ছাদে দাঁড়িয়ে ভান্ডার লুটের অনুষ্ঠান দেখেন। উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার এবং হাজার হাজার ভক্ত।
Bhandar Loot: ‘তিনটি হাঁড়ি লুট করেছি, আনন্দ দ্বিগুণ’
ভান্ডার লুটে অংশ নেওয়া অভিজিৎ বিশ্বাস বলেন, “জ্ঞান হওয়ার পর থেকে আট-নয় বছর ধরে ভান্ডার লুট করছি। এটা আমাদের ঐতিহ্য। কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায় নয়, সবাই অংশ নিতে পারে। এ বছর ৫০০-র বেশি হাঁড়ি লুট হয়েছে, আমি তিনটি হাঁড়ি লুট করেছি। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ বছরের আনন্দ আরও বেড়ে গেল।”
এদিকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার বলেন, “এটি কোনও সম্পত্তি বা টাকা লুট নয়, জগন্নাথের প্রসাদ সংগ্রহের প্রথা। সনাতন সংস্কৃতির প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে বলেই এত মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।”
ক্রীড়ামন্ত্রীর পেপারলেস টিকিটের ঘোষণা সার, কলকাতা ডার্বির আগে ডুরান্ড কমিটির নতুন নির্দেশ
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই রাজনৈতিক বার্তা
(Bhandar Loot) ভান্ডার লুটের অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, শুক্রবার মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রয়াণ দিবসে তাঁর শেষকৃত্যের স্থানে নতুন ফাইবারের মূর্তি উন্মোচন করা হবে। পাশাপাশি জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রে জালিয়াতি নিয়ে তিনি ফের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, “অবৈধ জন্ম শংসাপত্র দেওয়া রাজ্য ও দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। সমস্ত নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, স্ক্যানের পর ফেরত দেওয়া হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর যাঁরা বেআইনিভাবে শংসাপত্র দিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা, সাসপেনশন এবং প্রয়োজনে জেলও হবে।” পাশাপাশি দিল্লির ছাত্র আন্দোলন, যাদবপুরের পরিস্থিতি এবং ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়েও রাজনৈতিক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মহাকাশে ১,০০০-র বেশি পালসার খুঁজে বিশ্বকে তাক লাগাল চিনের ‘স্কাই আই’












1 thought on “মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই ‘ভান্ডার লুট’, গুপ্তিপাড়ায় ২৮৬ বছরের ঐতিহ্যে জনজোয়ার”