রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

‘শহীদদের নিয়ে রাজনীতি হয়েছে’, কমিশন রিপোর্ট ঘিরে মমতাকে নিশানা হুমায়ুন কবীরের

Published on: July 21, 2026
Humayun Kabir
---Advertisement---

২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের পর রাজ্য রাজনীতিতে তরজা চলছেই। এরইমধ্যে বিধানসভার সাংবাদিক বৈঠক করে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, ১৯৯৩ সালের আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রাক্তন আমলা পি উলগানাথনের বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের দাবিও জানান তিনি।

Humayun Kabir: ২১ জুলাই কমিশন রিপোর্ট নিয়ে তোপ

হুমায়ুন কবীরের দাবি, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী যে কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন, তা থেকে পরিষ্কার যে ১৯৯৩ সালের আন্দোলনের নেত্রী তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনে নিহতদের প্রকৃত মর্যাদা দেওয়ার কোনও আন্তরিকতা ছিল না। একইসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী একসময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হলেও সেই সময় শহীদদের সম্মান দেওয়ার বিষয়ে তাঁকে কোনও উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে শহীদদের নিয়ে রাজনীতি করেছে। কংগ্রেসের উদ্দেশেও তাঁর প্রশ্ন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক অস্তিত্ব বজায় রাখতেই তারা শহীদ দিবস পালন করছে। ২০১১ সালে সরকার পরিবর্তনের সময় কংগ্রেসের ছয়জন মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কেন শহীদদের মর্যাদা দেওয়ার দাবি তোলা হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। পাশাপাশি বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকেও কটাক্ষ করে বলেন, গত ৩৩ বছরে তিনিও এই বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেননি।

পুরভোটে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজ্যের অধিকাংশ পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা উল্লেখ করে হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) জানান, কলকাতা পুরসভা-সহ যেসব পুরসভায় তাঁদের সংগঠনের সামান্য শক্তিও রয়েছে, সেখানেই তাঁরা প্রার্থী দেবেন।

দুর্নীতি নিয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে প্রশ্ন

রাজ্য সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, স্বাস্থ্য দফতরের সচিব এবং পঞ্চায়েত দফতরের প্রধান সচিবের প্রত্যক্ষ মদতে দুর্নীতি হয়েছে, অথচ তাঁরা এখনও একই পদে বহাল রয়েছেন। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন আমলা পি উলগানাথনের নাম উল্লেখ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, তিনি যখন তাঁদের জেলার জেলাশাসক ছিলেন, তখন তাঁর প্রত্যক্ষ মদতেই একাধিক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। তাই তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে তদন্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আবেদন জানান তিনি।

‘স্যাটা ভাঙা’ মন্তব্য নিয়ে পুলিশি হেনস্তার অভিযোগ

নিজের বিতর্কিত ‘স্যাটা ভাঙা’ মন্তব্য প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তাঁর দাবি, রেজিনগরের নির্বাচনের সময় ওই মন্তব্য তৎকালীন শাসক দলের বিরুদ্ধে করা হয়েছিল এবং শুধু একটি নয়, একাধিক সভায় তিনি একই কথা বলেছিলেন। তখন নির্বাচন কমিশন বা অন্য কারও কোনও আপত্তি ছিল না। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির বিরুদ্ধে একই ধরনের মন্তব্য করার পর তাঁকে একটি থানায় চার ঘণ্টা এবং অন্য একটি থানায় পাঁচ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে হেনস্তা করা হয়। এমনকি ওই সময় তাঁকে জল পর্যন্ত খেতে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, এই আচরণ অত্যন্ত অমানবিক।

‘শহিদ দিবসের নামে নাটক চলছে’, তৃণমূলের ২১ জুলাই প্রসঙ্গে কটাক্ষ বিধায়ক দেবাশিস ধরের

শক্তিপুর থানা তৈরিতে ৪২ লক্ষ টাকা দেওয়ার দাবি

এদিকে আবার শক্তিপুর থানা তৈরির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর ওই থানার অনুমোদন মেলে এবং ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারি সেটি তৈরি হয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তিনিই ওই থানার উদ্বোধন করেছিলেন।

হুমায়ুন কবীরের দাবি, থানার ভবন নির্মাণের জন্য তিনি নিজের পকেট থেকে ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছিলেন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, বাকি কাজের জন্য সরকারের তরফে পরে সেই অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু আজও তিনি সেই টাকা পাননি। তাই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার আবেদন জানাবেন বলেও জানান তিনি।


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিষয়ে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment