পুজো মানেই একটু জমিয়ে খাওয়া দাওয়া। কিন্তু সবজি বাজার যখন অগ্নিমূল্য তখন কী আর সেটা সম্ভবপর হয়ে ওঠে, প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে সবজির দাম। পঞ্চমীর সকালেও সবজির বাজারে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। পুজোর মরশুমে কেনাকাটার চাপের মধ্যেই চড়া দামে সবজি কিনতে গিয়ে কার্যত নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। বৃহস্পতিবার সকালে জলপাইগুড়ি শহরের ইন্দিরা গান্ধী কলোনি এলাকার সবজি বাজারের এই ছবি(vegetable market price high)।
vegetable market price high: কাঁচালঙ্কার দামে আগুন
অন্যান্য সবজির তুলনায় বাজারে লঙ্কার দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। ধনেপাতার দাম কিলোপ্রতি প্রায় ৫০০ টাকা বলে জানাচ্ছেন ক্রেতারা। তাঁদের অভিযোগ, ১০০ টাকার নিচে ভালো মানের সবজি পাওয়াই এখন কার্যত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চড়া দামের কারণে আগের মতো ব্যাগ ভর্তি করে বাজার করার পরিবর্তে অনেকেই অল্প পরিমাণে সবজি কিনে ক্যারিব্যাগে করে বাড়ি ফিরছেন।
বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, পুজোর মুখে নতুন জামাকাপড় থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসের কেনাকাটা, সব ক্ষেত্রেই খরচ বাড়ছে। অথচ সেই অনুপাতে বাড়েনি সাধারণ মানুষের আয়। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলিকে। এই পরিস্থিতিতে এতো দামের সবজি কিনা খাওয়া বিলাসিতা ছাড়া কিছুই নয়।
ক্রেতাদের আরও অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে বাজারে সবজির দামের হেরফের হচ্ছে। তাঁদের দাবি, কয়েক দিন আগেও বাজারগুলিতে প্রশাসনের তরফে লাগাতার নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছিল। পুজোর সময়েও সেই নজরদারি অব্যাহত রাখা হোক, যাতে ব্যবসায়ীদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা যায় এবং ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পান।
জলপাইগুড়ির বাজারে কোন কোন সবজির কী কী দাম?
ফুলকপি ৬০ টাকা কিলো কোথাও আবার ৪০ থেকে ৫০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে
বাঁধাকপি ৫০ টাকার জায়গায় ৪০ টাকা হয়েছে
বেগুনের দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা কিলো
ধনেপাতা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কিলো
লঙ্কা ১২০ টাকা থেকে দেড়শ টাকা কিলো দাম
পেঁয়াজের দাম ৬০ টাকা থেকে ৫০ টাকা
তবে দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্ত তৈরি হচ্ছে। একেক দোকানে একই রকম প্রায় জিনিসের দাম ভিন্ন। কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা হেরফের হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। পটল ৮০ টাকা থেকে ৬০ টাকা তে নেমেছে। কিন্তু এই সময় সবজির দাম কম হওয়া উচিত বলে দাবি করছেন ক্রেতারা। বিক্রেতাদের দাবি, জোগান কম বাইরে থেকে সবজি আনতে হচ্ছে। তাই দাম বেশি মনে হচ্ছে। ক্রেতারা আসলে অনেক কম কম করে জিনিস কিনছে। ব্যবসা মন্দা চলছে।
সব মিলিয়ে, পুজোর আনন্দের মাঝেও সবজির আকাশছোঁয়া দাম এখন জলপাইগুড়ির সাধারণ মানুষের কাছে বড় চিন্তার কারণ। উৎসবের মরশুমে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ক্রেতারা।












1 thought on “১০০ টাকা ছাড়িয়েছে লঙ্কা, ধরাছোঁয়ার বাইরে ধনে পাতা, পুজোর মুখে সবজির বাজারে আগুন”
Comments are closed.