কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষ বন্ধ থাকাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার তুমুল বিতর্ক তৈরি হলো পুরভবনে। অধিবেশন কক্ষ বন্ধ থাকায় ভিতরে ঢুকতে পারলেন না তৃণমূল কাউন্সিলররা। বাধ্য হয়ে কক্ষের বাইরেই সভা করলেন পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়। উপস্থিত ছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরসভার নির্বাচিত বোর্ডকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে সরব হলেন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ ও চেয়ারপার্সন মালা রায়। তাঁদের অভিযোগ, কোনও রকম কারণ না দেখিয়েই হঠাৎ করে অধিবেশন কক্ষ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করে ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ বলেন, নতুন সরকার আসার পর থেকেই নির্বাচিত বোর্ডকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি জানান, ১৯৮৫ সালের মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট অনুযায়ী মাসে অন্তত একবার অধিবেশন হওয়া বাধ্যতামূলক। সেই অধিবেশন পরিচালনার সম্পূর্ণ অধিকার চেয়ারপার্সনের। বৈঠক বাতিল করতেও চেয়ারপার্সনেরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। (Kolkata Municipal Corporation)
অতীন ঘোষের দাবি, পুরসভার পুরনো মিউনিসিপ্যাল সেক্রেটারি 22861313 নম্বর থেকে কাউন্সিলরদের ফোন করেছিলেন এবং সেই সময় মুলতবি প্রস্তাব আনা হয়। তাঁর কথায়, কলকাতা পুরসভা আইন স্পষ্ট বলছে কার্যবিবরণী করার জন্য মাসে একবার অধিবেশন ডাকতেই হবে। চেয়ারপার্সন চাইলে বৈঠক ডাকতে পারেন এবং বৈঠক মুলতবি হলে পরবর্তী বৈঠকের দিনও ঘোষণা করতে হয়। কমিশনারের এই বিষয়ে কোনও ভূমিকা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
অতীন ঘোষ আরও বলেন, মিটিং বাতিল করা আইনি ভাবে বৈধ নয়। চেয়ারপার্সনের নির্দেশ মেনেই মিউনিসিপ্যাল সেক্রেটারিকে কাজ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর থেকে ফোন এসেছিল বলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, সংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনেই কাজ করা হয়েছে এবং চেয়ারপার্সনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই এই বৈঠক ডেকেছিলেন মালা রায়।
অন্যদিকে চেয়ারপার্সন মালা রায় বলেন, কোনও কারণ না দেখিয়ে হঠাৎ করে হাউস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা জানতে তিনি সচিবকে চিঠি দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, চেয়ারম্যানকে না জানিয়েই অধিবেশন বন্ধ করা হয়েছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও উত্তর মেলেনি। (Kolkata Municipal Corporation)
দিল্লিতে শুভেন্দু-মোদি বৈঠক, বাংলার ‘ডবল ইঞ্জিন’ রোডম্যাপেই মূল নজর
মালা রায় জানান, তাঁরা সবাই এসে দেখেন কাউন্সিল চেম্বারে তালা ঝুলছে। এরপর সেক্রেটারির কাছে দরজা খুলে দেওয়ার আবেদন করা হয়। কিন্তু সচিব জানান, তাঁর সেই আইনি ক্ষমতা নেই। তবে কার নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানাননি বলেও অভিযোগ করেন মালা রায়।এরপরই তাঁরা মুলতবি প্রস্তাব আনেন। অধিবেশনও প্রস্তাব করা হয়। মালা রায় বলেন, যারা বক্তব্য রেখেছেন, সবাই বিষয়টি শুনেছেন। পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
তবে নাগরিক পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেই দিকেও নজর রাখার কথা বলেন তিনি। মালা রায়ের দাবি, পরশু দিন থেকেই ১০০ দিনের কর্মীদের সকাল ৬টা থেকে সারা রাত পর্যন্ত কাজ করতে বলা হয়েছে। ১২ ঘণ্টা কাজের পরেও তাঁদের রাতের কাজ করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তিনি আরও জানান, নিজেদের কাউন্সিলরদের ডাকা হলেও বিরোধী কাউন্সিলরদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। গোটা ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করে মালা রায় বলেন, “এটা ইতিহাস হয়ে রইল।” (Kolkata Municipal Corporation)











