দুর্গাপুজোর প্রতিপদ থেকেই প্রাচীন রীতি মেনেই জ্বলে উঠল নদিয়ার কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির হোমকুণ্ড। রাজবাড়ির রাজদালানের নাটমন্দিরের পাশে রাজপুরোহিত অগ্নি প্রজ্বলনের মাধ্যমে যজ্ঞের সূচনা করেন। এই যজ্ঞ চলবে নবমী পর্যন্ত। শতাব্দী প্রাচীন রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় এবারও সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান নিয়ম মেনেই পালন করা হবে। তবে রাজপরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
Krishnanagar Rajbari Durga Puja: রাজপুরোহিতের নামেই হচ্ছে পুজোর সংকল্প
রাজবাড়ির রীতি অনুযায়ী, প্রতিদিন হোমকুণ্ডে যজ্ঞের পাশাপাশি ভোগ নিবেদন করা হবে। তবে রাজপরিবারের সদস্যদের অশৌচ থাকায় এবার পুজোর সমস্ত সংকল্প পরিবারের বদলে রাজপুরোহিতের নামেই করা হচ্ছে। রাজবাড়ির প্রাচীন প্রথা মেনেই দুর্গাপুজোর যাবতীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।
রাজপুরোহিতের কথা অনুযায়ী, ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন এবং পাটায় ওঠার মধ্য দিয়ে পুজোর মূল পর্ব শুরু হবে। সপ্তমী ও অষ্টমীতে দেবীকে নিবেদন করা হবে বিশেষ ভোগ। সেই তালিকায় রয়েছে খিচুড়ি, লুচি এবং বিভিন্ন ধরনের ভাজা। এ ছাড়াও প্রাচীন রীতি মেনে দেবী মহামায়াকে মাছের ভোগ নিবেদন করা হবে। শত্রু বধ এবং যাত্রামঙ্গলের মতো ঐতিহ্যবাহী আচারও যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হবে।
ভিজবে ষষ্ঠী থেকে দশমী? কোথায় কেমন থাকবে আবহাওয়া?
শোকের আবহেও ঐতিহ্য বজায় রাখার উদ্যোগ
এদিকে, সম্প্রতি রাজপরিবারের সদস্য সৌমেশ চন্দ্র রায়ের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় মৃত্যুতে রাজবাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এই পরিস্থিতিতেও পুজোর সমস্ত আয়োজন যাতে নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়, সেদিকে নজর রাখছেন রাজপরিবারের বর্তমান অভিভাবক তথা রাজবধূ অমৃতা রায়। (Krishnanagar Rajbari Durga Puja)
সমগ্র নদিয়াবাসীকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে অমৃতা রায় বলেন, ব্যক্তিজীবনে মানুষ থাকুন বা না থাকুন, রাজবাড়ির প্রতিমা যেন যুগ যুগ ধরে আসেন এবং নদিয়াবাসীকে আশীর্বাদ করেন।
সব মিলিয়ে, শোকের আবহের মধ্যেও কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে অটুট থাকছে ঐতিহ্যের টান। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা রাজরাজেশ্বরীর পুজো এবারও প্রাচীন রীতি ও নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।











