কোনও আপস নয়। এবার সরাসরি পদক্ষেপ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে আরও একধাপ এগোল রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক স্তরে হলো বড়সড় রদ-বদল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা (অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ বা ACB)-কে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে একাধিক অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিককে এসিবিতে নিয়োগ করা হয়েছে (Anti Corruption Branch)।
Anti Corruption Branch: কারা কোন দায়িত্ব পেলেন?
নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (IB) থেকে আইজিপি মুরলী ধর, ডিআইজি আকাশ মাঘারিয়া এবং এসএস কমনাশিস সেনকে এসিবিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগের দ্রুত তদন্ত ও কঠোর নজরদারির জন্য তাঁদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি (Anti Corruption Branch)।
শুধু শীর্ষস্তরেই নয়, পুলিশ আধিকারিকদেরও কাঁধে দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব। ১৬ জন পুলিশ আধিকারিককে দুই মাসের জন্য এসিবিতে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন এক জন ডিএসপি, আট জন ইন্সপেক্টর, তিন জন সাব-ইন্সপেক্টর এবং চার জন কনস্টেবল। ব্যারাকপুর, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, কৃষ্ণনগর ও সুন্দরবন-সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আধিকারিকদের বেছে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিআইডি, আইবি ও এসটিএফ থেকেও আধিকারিকদের এই বিশেষ দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কী করবে ACB?
সূত্রের খবর, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে আবাস যোজনা, গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প এবং ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। নতুন করে শক্তিশালী হওয়া ACB সেই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন করে তদন্তও শুরু করবে।
ঘুষ নিলেই আইনি ব্যবস্থা!
দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি বা সরকারি কর্মী—যেই হোন না কেন, তদন্তের আওতায় আনা হবে। সরকারি অর্থের অপব্যবহার, ঘুষ, অনিয়ম ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এসিবিকে নতুন করে সাজানো সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।








