কলকাতার পার্ক সার্কাস (Park Circus) সেভেন পয়েন্টে রবিবার দুপুরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। বিক্ষোভকারীদের রাস্তা অবরোধ সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও সিআরপিএফ জওয়ানদের। পুলিশ সূত্রে দাবি, বিক্ষোভকারীদের একাংশ বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই অবরোধ তুলতে কড়া পদক্ষেপ নেয় পুলিশ বাহিনী।
এদিন দুপুর দেড়টা নাগাদ পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। কলকাতায় বাড়িঘর ভাঙা, বুলডোজার অভিযান এবং আজান ও রাস্তায় নমাজ সংক্রান্ত নতুন সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নামেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, সাধারণ মানুষের বাসস্থানের অধিকার রক্ষা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নেই এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। (Park Circus) প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ চললেও পরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রশাসন মুসলিম সম্প্রদায়কে পরিকল্পিতভাবে নিশানা করছে। তাঁদের দাবি, “দোকান ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, রাস্তায় নামাজ পড়তে দেওয়া হচ্ছে না। কুরবানিও ধর্মীয় রীতি, যা সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। সরকার সেই অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে।” এক আন্দোলনকারী বলেন, “এটা উত্তরপ্রদেশ বা বিহার নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গ। এখানে জুলুমবাজি চলবে না।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন বিক্ষোভকারী কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন। “মোদী চোর” স্লোগানও শোনা যায় বিক্ষোভস্থলে। (Park Circus) এক বিক্ষোভকারীর বক্তব্য, “২০১৪ সালের পর থেকে প্রকাশ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে। কিছু জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত বলেছেন মুসলিমদের জন্য উন্নয়ন হবে না। আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছি।”
আরও এক আন্দোলনকারী বলেন, “সরকার যদি মুসলিম সম্প্রদায়কে গুলি বা জেলের ভয় দেখায়, তাহলে সেটা ভুল ভাবনা। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য রাস্তায় নেমে গুলি খেতে হলেও আমরা পিছিয়ে যাব না। শহিদ হওয়াকে আমরা ভয় পাই না।” যদিও একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের একাংশ দাবি করেছেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই করতে চেয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, “এই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হবে কি না, তার দায়িত্ব সরকারেরও।”
অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক মোড় অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো হচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। পুলিশের অভিযোগ, (Park Circus) অবরোধ তুলতে গেলে কিছু বিক্ষোভকারী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়েন। এরপরই বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করা হয়।
ঘটনার জেরে পার্ক সার্কাস সংলগ্ন একাধিক রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। এলাকায় এখনও উত্তেজনা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।









