রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

হাইকোর্টের নির্দেশ, সোনারপুরে ওয়েটল্যান্ডে ধাবা ভাঙল প্রশাসন

Published on: July 27, 2026
---Advertisement---

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর উত্তর বিধানসভার রানাভূটিয়া জেলেবেড়ি গ্রামে ওয়েটল্যান্ডের উপর বেআইনি নির্মাণে ভেঙে দেওয়া হল ‘শ্রী শাও ধাবা’। হাইকোর্টের নির্দেশে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং সোনারপুরের BDO র উপস্থিতিতে এই অভিযান চালানো হয়। কয়েক বিঘা জমির উপর তৈরি ওই নির্মাণে দীর্ঘদিন ধরে রেস্তরাঁ ও ফাস্টফুডের ব্যবসা চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। (Sonarpur Wetland)

চাওমিন, রোল-সহ চলত ফাস্টফুডের ব্যবসা

রানাভূটিয়া জেলেবেড়ি এলাকায় ওয়েটল্যান্ডের উপর তৈরি ওই নির্মাণে ‘শ্রী শাও ধাবা’ নামে খাবারের দোকান চালানো হত। সন্ধ্যা হলেই সেখানে চাওমিন, রোল, স্ন্যাক্স-সহ বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড তৈরি ও বিক্রি করা হত। প্রশাসনের অভিযোগ, ওয়েটল্যান্ডের জমির চরিত্র পরিবর্তন করে সেখানে বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। ধাবাটির মালিক হিসেবে দেবকুমার সাহুর নাম উঠে এসেছে। (Sonarpur Wetland)

ওয়েটল্যান্ড দফতরের ল-সেলের আধিকারিক চন্দ্রিল বসাক জানান, ওয়েটল্যান্ডের উপর বেআইনিভাবে নির্মাণ করে ফাস্টফুড সেন্টার চালানো হচ্ছিল। মালিককে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নোটিশের পরও নির্মাণ সরানো হয়নি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের উপস্থিতিতে নির্মাণটি ভেঙে দেওয়া হয়।

নাজিরাবাঁধের আগুনের পর সামনে আসে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ

নরেন্দ্রপুর এলাকায় ওয়েটল্যান্ডের উপর বেআইনি নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। কয়েক মাস আগে নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাঁধ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতেও ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের পরই নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার বিভিন্ন ওয়েটল্যান্ডে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ আরও জোরালোভাবে সামনে আসে। (Sonarpur Wetland)

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ ছিল, ওয়েটল্যান্ডের জমিতে একের পর এক নির্মাণ হয়েছে। কোথাও দোকান, কোথাও রেস্তরাঁ, আবার কোথাও বসতবাড়ি গড়ে উঠেছে। এই ধরনের নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই এবার রানাভূটিয়া জেলেবেড়িতে প্রশাসনের এই অভিযান বলে জানা যাচ্ছে।

‘চার বছর ব্যবসা চলেছে, পুলিশ এসে ভেঙে দিল’

অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দা মামণি দল জানান, প্রায় চার বছর ধরে ওই জায়গায় রেস্তরাঁর ব্যবসা চলছিল। তাঁর বক্তব্য, দেবকুমার সাহু সেখানে টিনের শেড তৈরি করে স্ন্যাক্স ও ফাস্টফুডের ব্যবসা করতেন। তাঁর দাবি, মালিকের কাছ থেকেই জমি কেনা হয়েছিল এবং সেটি ওয়েটল্যান্ড—এমন তথ্য তাঁরা আগে জানতেন না। (Sonarpur Wetland)

মামণির অভিযোগ, তাঁদের মতো বহু সাধারণ মানুষ এক কাঠা বা দু’কাঠা করে জমি কিনে বাড়ি তৈরি করেছেন। জমি রেজিস্ট্রি ও মিউটেশন করার সময় যদি সরকারি তরফে জানানো হত যে জায়গাটি ওয়েটল্যান্ড এবং সেখানে বাড়ি করা যাবে না, তাহলে তাঁরা জমি কেনার বিষয়ে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। এখন বাড়িঘর ভাঙার আশঙ্কায় সন্তান-পরিবার নিয়ে কোথায় যাবেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় তাঁরা। (Sonarpur Wetland)

‘তিন লক্ষ টাকা দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করেছি’

স্থানীয় বাসিন্দা শীলা সাহার বক্তব্যেও উঠে এসেছে একই অভিযোগ। তাঁর দাবি, প্রায় তিন লক্ষ টাকা খরচ করে জমি রেজিস্ট্রি করেছিলেন তাঁরা। জমিটি ওয়েটল্যান্ড হলে রেজিস্ট্রির সময় সরকারি দফতরের তরফে কেন তা জানানো হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শীলার কথায়, তাঁরা কোনও বড় ব্যবসায়ী নন। দিনমজুরির উপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ। ঋণ নিয়ে বা নিজেদের সঞ্চয় খরচ করে এক-দুই কাঠা জমি কিনে বাড়ি তৈরি করেছেন বহু পরিবার। এখন সেই বাড়িগুলিও যদি ভেঙে দেওয়া হয়, তাহলে সন্তানদের নিয়ে পথে বসা ছাড়া তাঁদের আর কোনও উপায় থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। (Sonarpur Wetland)

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সাহায্যের আবেদন

অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। শীলা সাহার বক্তব্য, তাঁরা অনেক লড়াই করে তাঁকে নির্বাচিত করেছেন। এখন এলাকার বহু মানুষের বাড়িঘর নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন তিনি। (Sonarpur Wetland)

একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি রক্ষা করার আবেদন জানিয়েছেন মামণি দল। তাঁদের দাবি, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিক, কিন্তু ওয়েটল্যান্ডের জমি কিনে যাঁরা নিজেদের অজান্তে বাড়ি তৈরি করেছেন, তাঁদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা হোক।

তবে প্রশাসনের বক্তব্য, ওয়েটল্যান্ডের উপর বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। রানাভূটিয়া জেলেবেড়িতে ‘শ্রী শাও ধাবা’ ভাঙার ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠছে, আগামী দিনে এই এলাকায় ওয়েটল্যান্ডের উপর তৈরি আরও নির্মাণের বিরুদ্ধেও কি একইভাবে অভিযান চালানো হবে? (Sonarpur Wetland)

আরও পড়ুন :- বিক্ষোভের মাঝেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ‘মিথিলা পাগ’ পরিয়ে সম্মান, কী বোঝায় এই শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য?


Ranita Saha

নতুন নতুন বিষয় জানার ইচ্ছে থেকেই সাংবাদিকতার পেশায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার স্নাতকোত্তরের ছাত্রী। কলেজ জীবন থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার লেখালেখি শুরু। বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দিতেও স্বচ্ছন্দ। রাজনীতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক এবং বিনোদন সংক্রান্ত খবর লিখতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বই একমাত্র বন্ধু। পড়ালেখার পাশাপাশি গান, নাচ এবং আঁকা ভালোবাসার বিষয়।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment