ভারত-সহ ৬০ দেশের উপর নতুন শুল্ক নীতি চাপিয়ে এবার নিজেই পড়লেন বিপদের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আইনি জটিলতায় পড়ে রুদ্ধশ্বাস অবস্থা মার্কিন প্রেসিডেন্টের (Donal Trump)। ডেমোক্র্যাট-শাসিত ২৫টি মার্কিন অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিউ ইয়র্কের ইউএস কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে মামলা দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, আগে আদালতের একাধিক রায় উপেক্ষা করে ট্রাম্প প্রশাসন আবারও আমদানির ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের চেষ্টা করছে।
গত ২৪ জুলাই ট্রাম্প প্রশাসন ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ প্রায় ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক ঘোষণা করে। প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের রফতানি রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর মতে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে প্রায় সব ধরনের আমদানির ওপর শুল্ক চাপানো আইনসম্মত নয় (Donal Trump)।
Donal Trump: কেন আইনি জটিলতার মুখে পড়লেন ট্রাম্প?
ওরেগন, নিউ ইয়র্ক-সহ ২৫টি অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ, আদালতে আগেই বাতিল হওয়া শুল্ক ব্যবস্থা নতুন আইনি অজুহাতে ফের কার্যকর করার চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস। ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড বলেছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ কর্মজীবী পরিবার ও ছোট ব্যবসার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দিয়েছিল?
চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ বা IEEEPA ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট বিশ্বব্যাপী ব্যাপক শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারা ব্যবহার করে সাময়িক শুল্ক আরোপের চেষ্টা করে। সেই পদক্ষেপও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
এরপর প্রশাসন ৩০১ ধারার আশ্রয় নেয়, যা সাধারণত কোনও নির্দিষ্ট দেশের অন্যায্য বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। ট্রাম্প তাঁর প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে চিনের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রেও এই ধারাই ব্যবহার করেছিলেন। তবে এবার একসঙ্গে বহু দেশের ওপর শুল্ক চাপানোয় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অনেকের মতে, এই মামলা ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। আদালত যদি অঙ্গরাজ্যগুলোর যুক্তি মেনে নেয়, তাহলে নতুন শুল্ক নীতি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আমেরিকার উৎপাদন শিল্পকে শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।













2 thoughts on “ভারত-সহ ৬০ দেশের উপর নতুন শুল্ক নীতি! বড়সড় বিপদের মুখে ট্রাম্প?”