(Nepal Flood Update) নেপালের ভোতেকোশি নদী ব্যবস্থায় ভয়াবহ বন্যা শুধু হাজার হাজার পরিবারকে প্রিয়জনহারা অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেনি, একই সঙ্গে ধ্বংস করে দিয়েছে চিনের সঙ্গে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবাণিজ্যপথ রাসুয়াগাধী-কেরুং। কেউ হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরছেন নিখোঁজ স্বজনের ছবি হাতে, কেউ মর্গে অজ্ঞাতপরিচয় দেহের ছবি মিলিয়ে দেখছেন। আর ব্যবসায়ীদের সামনে প্রশ্ন—ধ্বংস হয়ে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ কবে ফের সচল হবে?
‘শুধু দেহটা পেলেও…’—স্বজনের খোঁজে ছুটছেন হাজার মানুষ
২৬ অগস্টের ভয়াবহ বন্যার পর রাম বুধা কাঠমান্ডু থেকে হাকুবেশিতে গিয়ে ভাই প্রবীণকে খুঁজেছেন। ত্রিশূলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ঢোকার চেষ্টা করলেও বুকসমান কাদায় আটকে ফিরে আসতে হয় তাঁকে। ২০ বছরের প্রবীণ নিখোঁজ। তাঁর মতোই কর্ণালি, সুদূর পশ্চিম, মধেশ-সহ বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আত্মীয়রা ছুটছেন রাসুয়া, নুয়াকোট, চিটওয়ান, নাওয়ালপুর, তানাহুন ও পোখরায়।
(Nepal Flood Update) রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭৮৮টি দেহ উদ্ধার হয়েছে, নিখোঁজ ২,৫০২ জন। তাঁদের মধ্যে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী, ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মচারী। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি এবং বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে থাকা ১২৭ জন নেপালিও রয়েছেন। সেনা, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশের বহু সদস্যও নিখোঁজ।
Nepal Flood Update: মর্গে ছবি মিলিয়ে দেখছেন পরিবারের সদস্যরা
দাংয়ের সরিতা চৌধুরী স্বামী সুনীলকে খুঁজতে পোখরায় গিয়েছেন। চিটওয়ান থেকে পোখরা পর্যন্ত ৪০ জনের দল ১৮ জন নিখোঁজ বাসিন্দার সন্ধান করেছে। পোখরা অ্যাকাডেমি অব হেলথ সায়েন্সেসে ১০২টি অজ্ঞাতপরিচয় দেহের ছবি দেখেও মেলেনি তাঁদের কারও সঙ্গে।
রাউতাহাটের ৬০ বছরের বিরসিমায়া ছেলেকে খুঁজতে ভরতপুরে পৌঁছেছেন। করিঙ্গা থারু দুই আত্মীয়কে খুঁজতে গিয়ে দু’দিন পর ক্লান্ত হয়ে ফিরেছেন। কারও হাতে ফেসবুক থেকে ছাপানো ছবি, কারও কাঁধে ঋণের বোঝা। তবু আশা ছাড়ছেন না পরিবারগুলি।
Nepal Flood Update: ধ্বংস রাসুয়াগাধী সীমান্ত, থমকে চিন-বাণিজ্য
বন্যার জলে নিশ্চিহ্ন হয়েছে রাসুয়াগাধী সীমান্তচৌকি, চিন-নেপাল মৈত্রী সেতু এবং টিমুরে বাণিজ্যকেন্দ্র। প্রায় ২.৮ বিলিয়ন নেপালি রুপির চিনা অর্থায়নে তৈরি শুকনো বন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৬০-৭০টি পণ্যবাহী যান এই পথে চলাচল করত।
চিন নেপালের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। গত অর্থবর্ষে চিন থেকে নেপালের আমদানি হয়েছে ৪২৫.২৪ বিলিয়ন রুপি, রপ্তানি মাত্র ১.৮৯ বিলিয়ন। প্রায় এক-চতুর্থাংশ চিনা আমদানি স্থলপথে আসে—মূলত রাসুয়াগাধী, তাতোপানি ও কোরালা দিয়ে।
বিকল্প পথও বিপদমুক্ত নয়
রাসুয়াগাধীর বিকল্প হিসেবে তাতোপানি ও কোরালা ব্যবহারের কথা ভাবছে সরকার। কিন্তু তাতোপানি দিয়ে ঘুরলে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার পথ বাড়বে এবং এই রুট বন্যা-ধসপ্রবণ। কোরালা ৪,৬৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত; সেখানে পর্যাপ্ত কাস্টমস পরিকাঠামো নেই এবং শীতকালে তুষারপাত ও শূন্যের নিচে তাপমাত্রা বড় বাধা।
(Nepal Flood Update) কেরুংয়ে আটকে থাকা প্রায় ১৭৬টি পণ্যবাহী কন্টেনারও বিকল্প পথে পাঠানোর চিন্তা চলছে। এদিকে রাসুয়াগাধীতে কাস্টমসের ১৫ জন কর্মী নিখোঁজ। ব্যবসায়ীদের মতে, উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে এই বিপর্যয় সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাজারদর—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধাক্কা দিতে পারে।
মানুষ আর বাণিজ্য—দুই সংকটই সামনে
২০২৫ সালেও লেহেন্দে নদীর বন্যায় মৈত্রী সেতু ভেসে গিয়েছিল। এবার ধ্বংসের মাত্রা আরও ভয়াবহ। ফলে রাসুয়া-কেরুংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। (Nepal Flood Update) একদিকে মর্গে প্রিয়জনের ছবি খুঁজছেন স্বজনেরা, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা খুঁজছেন বিকল্প বাণিজ্যপথ। নেপালের জন্য এই বিপর্যয় তাই একই সঙ্গে মানবিক সংকট এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়।
ভয়াবহ হড়পা বান গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে, চোখের সামনে ভেসে গেল বোল্ডার-ব্রিজ-বাঙ্কহাউস; নিখোঁজ ২০












2 thoughts on “ধ্বংস হয়েছে বাণিজ্যপথও, নিখোঁজের খোঁজের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় নেপাল”