---Advertisement---
lifezone nursing home

Iran-US Peace Talk: ভেস্তে গেল ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠক, তবে কি নতুন মোড় নেবে ইরান-আমেরিকা সংঘাত?

April 12, 2026 4:14 PM
Iran-US Peace Talk
---Advertisement---

না, তীরে এসেও তরী পার করতে পারল না আমেরিকা। ভেস্তে গেল ইসলামাবাদের শান্তি বৈঠক। আমেরিকা–ইরান শান্তি বৈঠক শেষ পর্যন্ত কোনও ফল ছাড়াই ফিরে যেতে হলো মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে। দীর্ঘক্ষণ ধরে টানা আলোচনা চললেও দুই দেশের মধ্যে মতভেদ কাটেনি। ফলে কোনও সমঝোতায় আসা গেল না। এই ব্যর্থ বৈঠকের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে- তাহলে কি আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত এখনই শেষ হচ্ছে না?

গত ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ার শুরু হওয়া এই সংঘাতে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি বাজারের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে আর যুদ্ধে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি নানান চুক্তি এবং শর্ত দিয়ে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করছিলেন। তবে মাঝখানে ইজরায়েলের লেবানন হামলার পর পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। এই সময় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে ইসলামাবাদের একটি শান্তি চুক্তি আলোচনার ব্যবস্থা করে। শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ঘিরে সকলের মনেই আশা জাগে, ‘এবার বুঝি যুদ্ধ শেষ হবে!’ (Iran-US Peace Talk)

তবে বাস্তবে দেখা গেল, আলোচনা যত এগিয়েছে, ততই দুই দেশের অবস্থানের ফারাক স্পষ্ট হয়েছে। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠক শেষেও কোনও চুক্তি ছাড়াই আলোচনার ইতি টানা হলো। রবিবার বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স (J. D. Vance) সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আমেরিকা তাদের পক্ষ থেকে “সবচেয়ে শেষ ও সেরা প্রস্তাব” দিয়েছিল। কিন্তু ইরান সেই শর্তগুলিতে রাজি হয়নি। তাঁর কথায়, আমেরিকা যথাযথভাবে শান্তি আলোচনায় অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। তাই বাধ্য হয়েই কোনও চুক্তি ছাড়াই তাঁকে ফিরে যেতে হচ্ছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভ্যান্স বললেন, “খারাপ খবর। সমঝোতায় পৌঁছতে পারিনি আমরা। সমঝোতা না হওয়ায় আমেরিকা ফিরে যাচ্ছি আমরা। আমরা সীমা স্পষ্ট জানিয়েছিলাম। ওদের কী কী দিতে পারব, কী দিতে পারব না, জানিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু ওরা আমাদের শর্তাবলী মানতে রাজি হয়নি।” তিনি আরও জানান আলোচনা চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেকবারই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তিনিও দ্রুত একটি সমঝোতায় আসার কথা বলেছিলেন। (Iran-US Peace Talk)

কোন কোন কারণে সফল হলো না শান্তি চুক্তি?

এই বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার মূল কারণ ছিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তীব্র মতভেদ। ভ্যান্সের কথায় আমেরিকার দাবি ছিল, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে কোনওভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোনো যাবে না। কিন্তু ইরান এই শর্ত মানতে একেবারেই রাজি হয়নি। তারা নিজেদের সার্বভৌম অধিকার হিসেবে পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়।

এর পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও মতবিরোধ তৈরি হয়। আমেরিকা চাইছিল ইরান তাদের সামরিক ক্ষমতা বিশেষ করে আগামীতে ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে লাগাম টানুক। কিন্তু ইরান জানিয়ে দেয়, নিজেদের নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা কোনও আপস করবে না।

হরমুজ নিয়েও বড় ধরনের টানাপোড়েন দেখা যায়। এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের উপর নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব নিয়ে দুই দেশের অবস্থান একেবারেই বিপরীত। এর সঙ্গে যুক্ত হয় যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ইরানের দাবি। ইরান চেয়েছিল, যুদ্ধের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তাদের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিতে হবে। কিন্তু এই দাবিগুলিকে আমেরিকা মানতে রাজি হয়নি।

এছাড়াও ইরান চেয়েছিল শুধু নিজেদের নয়, গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে একটি বিস্তৃত যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা। লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘর্ষ বন্ধের বিষয়টিও তারা আলোচনায় তোলে। কিন্তু এই ব্যাপারেও কোনও সমঝোতা তৈরি হয়নি। (Iran-US Peace Talk)

ফলে শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষই একে অপরের উপর দোষ চাপিয়েছে। আমেরিকার দাবি, ইরান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনওরকম ছাড় দিতে চায়নি। অন্যদিকে ইরানের অভিযোগ, আমেরিকার শর্তগুলোই ছিল একতরফা ও অযৌক্তিক।

NIA Notice : নন্দীগ্রামে ভোটের আগে তৃণমূলের ৪৩ নেতা-কর্মীকে NIA-র নোটিস, শুরু বিতর্ক

এই পরিস্থিতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আগামী দিনে কী হতে চলেছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় যুদ্ধের সম্ভাবনা কমার বদলে বরং আরও বেড়ে গেল। বর্তমানে যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি রয়েছে, সেটিও ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এখনও অব্যাহত। পারমাণবিক কর্মসূচি, সামরিক শক্তি ও হরমুজ – এই ইস্যুগুলিতে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সংঘাত মেটানো কঠিন। তাই এখনই যুদ্ধের ইতি ঘটবে এমনটা আশা করা উচিৎ নয় বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। (Iran-US Peace Talk)


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুল ও সত্য তথ্য তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিষয়ে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment