ব্রততী সিনহা রায়
Consultant Psychologist & Psychotherapist
পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যখাত এখন একই সঙ্গে সতর্কতা, চ্যালেঞ্জ এবং ইতিবাচক অগ্রগতির পর্যায়ে দাঁড়িয়ে (West Bengal Health Sector Updates)। একদিকে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ ঘিরে নজরদারি জোরদার হয়েছে, অন্যদিকে ASHA কর্মীদের আন্দোলন রাজ্যের প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার চাপকে সামনে এনেছে। একই সময়ে হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে রাজ্যের সাফল্য এবং বৃহত্তর স্বাস্থ্য সংস্কারের জন্য বড় আর্থিক অনুমোদনও নতুন আশার কথা শোনাচ্ছে।
WHO -র নজরে পশ্চিমবঙ্গের নিপা সতর্কতা: WHO জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিপা ভাইরাসের দুটি ল্যাব-নিশ্চিত সংক্রমণ সম্পর্কে সংস্থাটিকে অবহিত করে। আক্রান্ত দু’জনই উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একই বেসরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী। এরপর সংক্রমণ ঠেকাতে কনট্যাক্ট ট্রেসিং, নজরদারি বৃদ্ধি, চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, জনসচেতনতা প্রচার এবং হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা রাজ্যে সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে আনল।
Anti-Aging Lifestyle Tips: মন ভালো থাকলে ৫০-এও লাগবে ২০-র তরুণ, রইল সৌন্দর্যের আসল রহস্য
ASHA কর্মী আন্দোলনে স্বাস্থ্যব্যবস্থার চাপ: কলকাতায় শতাধিক ASHA কর্মী রাস্তায় নেমে সাম্প্রতিক ₹১,০০০ ভাতা বৃদ্ধি প্রত্যাখ্যান করে মাসিক ভাতা ₹৫,২৫০ থেকে ₹১৫,০০০ করার দাবি তুলেছেন। তাঁদের আরও দাবি, ASHA কর্মীদের স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে তাঁরা কর্মবিরতিতে রয়েছেন, যদিও জরুরি পরিষেবা চালু রেখেছেন। এই আন্দোলন শুধু বেতন সংক্রান্ত নয়—গ্রামীণ মাতৃস্বাস্থ্য, টিকাকরণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলভিত্তি হিসেবে ASHA কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে বড় সাফল্য: পশ্চিমবঙ্গে ২০২৪ সালের এক রাজ্য-স্তরের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে হেপাটাইটিস বি-র প্রাদুর্ভাব ০.০৭ শতাংশ, যা WHO-র নির্ধারিত ০.১ শতাংশ সীমারও নিচে। স্বাস্থ্য দফতরের পদক্ষেপের মধ্যে ছিল গর্ভবতী মায়েদের স্ক্রিনিং, জন্মের পর নবজাতককে হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়া এবং ভাইরাসবাহী মায়ের শিশুকে ইমিউনোগ্লোবিউলিন দেওয়া। অর্থাৎ, মা-থেকে-শিশু সংক্রমণ রোধে পশ্চিমবঙ্গ এখন দেশের অন্যতম অগ্রগামী রাজ্য হিসেবে উঠে আসছে। এটি জনস্বাস্থ্য সাফল্যের পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যচর্চারও বড় উদাহরণ।
World Bank-এর অনুমোদনে নতুন স্বাস্থ্য সংস্কারের রূপরেখা: বিশ্বব্যাঙ্ক পশ্চিমবঙ্গের জন্য ২৮৬ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্য ৯ কোটির বেশি মানুষের জন্য উন্নত ও সমতাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এই কর্মসূচিতে ৩০ বছরের বেশি বয়সিদের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ডিজিটাল ট্র্যাকিং, মাতৃ ও কিশোরী স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি, জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতার ক্ষেত্রে সহায়তা, এবং জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যখাতে এখন একদিকে জরুরি রোগ-নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার—দুই ছবিই একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে।
লেখক পরিচিতি

ব্রততী সিনহা রায় একজন পেশাদার কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট এবং সাইকোথেরাপিস্ট। তবে তাঁর কাজের ধরনকে আলাদা করে তোলে তাঁর গভীর মানবিকতা ও হিউম্যানিস্টিক অ্যাপ্রোচ। তিনি শুধুমাত্র সমস্যার সাময়িক সমাধানে বিশ্বাসী নন; বরং মানুষের ভেতর থেকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার পথ তৈরি করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
তিনি একটি হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ অনুসরণ করেন, যেখানে বিভিন্ন ধরনের থেরাপির পাশাপাশি মানুষের মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে স্পিরিচুয়াল দিককেও গুরুত্ব দেন। এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তাঁকে এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে তিনি মানুষের মানসিক কষ্টকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর মধ্যে তৈরি হয়েছে মানুষের পাশে থাকার, তাদের ভালো রাখার এবং তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার এক আন্তরিক ইচ্ছা।
এই বিশ্বাস এবং শিক্ষা থেকেই তিনি নিজেকে প্রতিনিয়ত আরও সমৃদ্ধ করে তুলছেন—শুধু একজন পেশাদার হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও—যাতে তিনি অন্যদের জীবনে সত্যিকারের সুস্থতা ও শান্তি নিয়ে আসতে পারেন।













1 thought on “West Bengal Health Sector Updates: পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে টানাপোড়েন: নিপা নজরদারি, ASHA আন্দোলন, হেপাটাইটিস বি-তে সাফল্য”