ইউক্রেন যুদ্ধ আবহে রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বিলের খসড়া প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে আগের তুলনায় এই খসড়ায় একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা ভারত ও চিনের মতো রাশিয়ার তেল আমদানিকারী দেশগুলির জন্য স্বস্তির খবর বলে মনে করা হচ্ছে। (Russian Oil Tariff)
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে প্রতিনিয়ত তেল এবং গ্যাস কিনছে এমন দেশগুলির ওপর আগে যেখানে সরাসরি ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছিল, সেখানে তা কমিয়ে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের ফলে ভারত ও চিনের ওপর যে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল তা অনেকটাই কমতে পারে।
মঙ্গলবার রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটিক দুই দলের আইনপ্রণেতারাই এই সংশোধিত বিলের খসড়া প্রকাশ করেন। সেখানে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারী দেশগুলির ওপর প্রস্তাবিত সর্বোচ্চ শুল্ক ৫০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের দাবি, এই বিলের মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে মস্কোর ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।প্রায় চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ সেনার প্রাণহানি হয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
শুল্ক ছাড়ের পাশাপাশি এই সংশোধিত খসড়ায় কিছু অত্যাধিক ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যে দেশগুলি রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং একই সঙ্গে সেই আমদানি আরও কমানোর জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে, তারা এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পেতে পারে। এই তালিকায় জাপান, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি এবং বেলজিয়ামের মতো দেশের নামও উঠে এসেছে। (Russian Oil Tariff)
এছাড়াও, নতুন খসড়ায় বলা হয়েছে, কিছু বিশেষ শর্ত মানলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেই জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে কোনও কোনও দেশকে ছাড়ও দিতে পারবেন।
মোজতবা খামেনেই ‘৯০ শতাংশ শেষ’! কেন বললেন ট্রাম্প?
এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, এই বিলে ভবিষ্যতে ইরান এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও যোগ করা হতে পারে। তাঁর কথায়, এমনটা হলে এটি হবে “খুব বড় পদক্ষেপ”। একই সঙ্গে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, এই বিলটি পাশ হলে খুব শীঘ্রই তা আইনেও পরিণত হবে।
সব মিলিয়ে, মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে ট্রাম্পের এই নতুন শুল্ক কমানোর প্রস্তাব রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধে কতটা প্রভাব ফেলবে তা তো সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত ভারত এবং চিনের মতো দেশগুলি এই নয়া প্রস্তাবের ফলে খানিক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। (Russian Oil Tariff)












