সংসদে আগামিকাল থেকে শুরু হচ্ছে বাদল অধিবেশন। তার আগেই আজ রবিবার একটি সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়। এবার এই বৈঠক ঘিরেই তুমুল উত্তেজনা তৈরি হলো। সর্বদল বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করলেন কালীঘাট পন্থী তৃণমূলীরা। তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের সংগঠন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-কে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদেই এই ওয়াকআউট (All Party Meeting)।
তৃণমূলের ‘আসল’ সাংসদদের বদলে কেন বিক্ষুব্ধদের তালিকা আগে সামনে আনা হল, তা নিয়ে সরব হন কালীঘাট পন্থী তৃণমূলীরা। সমাজবাদী পার্টির (SP) সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব একে সম্পূর্ণ ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে তোপ দাগেন। অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘ভুল প্রথা’ বলে আক্রমণ করে প্রশ্ন তোলেন, যাঁরা দল ছেড়েছেন তাঁদের কোন ভিত্তিতে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এই বৈঠকে ডাকলেন? তিনি আরও অভিযোগ করেন, লোকসভার স্পিকার এখনও ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদের দল পরিবর্তনের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং তাঁদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন এখনও ঝুলে রয়েছে, তা সত্ত্বেও তাঁদের বৈঠকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পরেই কালীঘাট তৃণমূলীরা বৈঠকে ফিরে আসেন (All Party Meeting)।
অন্যদিকে NCPI পার্টিতে যোগ দেওয়া সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার সর্বদল বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সুদীপ বন্দোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা, সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং আইন প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল।
বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রিজিজু বলেন, অধিবেশন যাতে মসৃণভাবে চলে, তা নিশ্চিত করতেই সরকার সব দলের নেতাদের সঙ্গে এই বৈঠক ডেকেছে।
তিনি আরও বলেন, “আগামিকাল থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। আজ সরকার সব দলের নেতাদের একটি বৈঠক ডেকেছে। আমরা সব রাজনৈতিক দলকে এই বাদল অধিবেশন মসৃণভাবে চালাতে সাহায্য ও সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করছি। সংসদ সবার জন্য। সরকার যে বিলগুলো আনতে চায়, আমি আশা করি শাসক দল এবং বিরোধী দলের সদস্যরা তাতে গঠনমূলকভাবে অংশ নেবেন। সংসদ যত ভালোভাবে চলবে, দেশের তত বেশি লাভ হবে।”












