সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের টানা ১৮ দিনের অনশনকে কেন্দ্র করে এবার দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক আইনজীবী। একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করে তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, ওয়াংচুকের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক এবং প্রয়োজনে তাঁর প্রাণ বাঁচাতে জোর করে খাবার দেওয়ার নির্দেশ দিক আদালত।
সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী আর কে সাইনি। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে এমন আচরণ করছে যেন তিনি কোনও কুখ্যাত অপরাধী, জঙ্গি বা দেশের শত্রু। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়েও সরকার অত্যন্ত উদাসীন। (Sonam Wangchuk Hunger Strike)
আবেদনে সাইনি আরও বলেন, একজন অনশনরত আন্দোলনকারীর জীবন রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। তাই অন্তত তাঁর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা উচিত। প্রয়োজনে তাঁকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে জোর করে তরল খাবার, প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান দেওয়া হোক, যাতে তাঁর প্রাণহানির আশঙ্কা দূর হয়। আইনজীবীর দাবি, অতীতেও অনশনরত আন্দোলনকারীদের ক্ষেত্রে এমনভাবে জোর করে খাবার দেওয়ার নজির রয়েছে। তাই সোনম ওয়াংচুকের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া যেতেই পারে।
উল্লেখ্য, বুধবার প্রধান বিচারপতি ডি. কে. উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে এই জনস্বার্থ মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। (Sonam Wangchuk Hunger Strike)
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুন থেকে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা আন্দোলনের অংশ হিসেবে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁদের দাবি, NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। সেই থেকে ১৮ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও অনশন করছেন সোনম। তবে দীর্ঘদিন খাবার না খাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। ভবিষ্যতে যাতে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে না এগোয় সেই জন্যই এবার দিল্লি হাই কোর্টে এই জনস্বার্থ মামলা করেছেন আইনজীবী আর কে সাইনি।
১৭ দিনের অনশন, ভাঙছে শরীর, কেমন আছেন সোনম ওয়াংচুক?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সোনম ওয়াংচুক বলেন, দেশের পড়ুয়াদের উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত। তিনি চান, আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হোক। তাঁর কথায়, “শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই শেষ লক্ষ্য নয়, বরং সেটা হবে এই লড়াইয়ের শুরু।” (Sonam Wangchuk Hunger Strike)












1 thought on “১৮ দিন অনশনে সোনম ওয়াংচুক, জোর করে খাবার দেওয়ার দাবিতে দিল্লি হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা”