দীর্ঘ অনশন। একটানা আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে চা শ্রমিকদের মুখে চওড়া হাসি। কার্শিয়াংয়ের লংভিউ চা বাগানের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন। শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনের চাপে বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF), মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটাতে বাধ্য হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, পাহাড়ের চা শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য (kurseong)।
kurseong: কেন শ্রমিকরা আন্দোলনের পথে হাঁটলেন?
দীর্ঘদিন ধরে লংভিউ চা বাগানের শ্রমিকদের পিএফ, গ্র্যাচুইটি এবং মজুরি বকেয়া ছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত একাধিকবার আন্দোলন করেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শ্রমিকরা অনশনের পথে হাঁটেন। টানা ১০১ দিন ধরে চলা এই আন্দোলন পাহাড়জুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। শ্রমিক সংগঠনগুলির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও আন্দোলনকে সমর্থন জানান।
শ্রমিকদের কী অভিযোগ?
এদিকে, কর্মীদের পিএফের টাকা জমা না দেওয়ার অভিযোগে বাগানের মালিক গোবিন্দ গর্গের বিরুদ্ধে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনের (EPFO) পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতারের পর তাঁকে কার্শিয়াং আদালতে পেশ করা হলে আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। আদালতের কঠোর অবস্থান এবং আন্দোলনের চাপে মালিকপক্ষ বকেয়া অর্থ পরিশোধ শুরু করে।
শ্রমিকদের পিএফ বাবদ মোট ৩ কোটি ৩২ লক্ষ ৪১ হাজার ৭৩৬ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে বকেয়া মজুরি ও কর্মচারীদের বেতন বাবদ প্রায় ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা মেটানো হয়। পাশাপাশি ২০২৫ সাল পর্যন্ত পিএফের বকেয়া হিসেবে আরও প্রায় ১ কোটি টাকা জমা পড়ে। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে মালিকপক্ষের অবদান হিসেবে অতিরিক্ত ৩১ লক্ষ টাকা জমা হয়েছে। সব মিলিয়ে শ্রমিক ও কর্মচারীদের হিসাবে প্রায় ৫ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা পৌঁছেছে।
জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই অনশন মঞ্চে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। শ্রমিকরা একে অপরকে অভিনন্দন জানান এবং বিজয় মিছিল বের করেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, আপাতত অনশন কর্মসূচি স্থগিত রাখা হলেও বাকি পাওনা আদায়ের লড়াই চলবে।
দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংও পাহাড় সফরে এসে বন্ধ চা বাগান, বকেয়া মজুরি ও পিএফ সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, আদালত নির্দেশ দিয়েছে আগামী ১০ অগস্টের মধ্যে আরও ১ কোটি ৩২ লক্ষ ৪১ হাজার ৭৩৬ টাকা বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে মালিক গোবিন্দ গর্গকে আরও দু’দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।









2 thoughts on “১০১ দিন পর জয়ের হাসি চা শ্রমিকদের, কী নিয়ে আন্দোলনে শ্রমিকেরা?”