ইংল্যান্ড সফরে চোট, বারবার ক্র্যাম্প, মন্থর ফিল্ডিং এবং উইকেটের মধ্যে দৌড় নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর আর কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। দলের ফিটনেস ব্যবস্থায় একাধিক ত্রুটি সামনে আসতেই এবার নড়েচড়ে বসেছে বোর্ড। এবার সব ক্রিকেটারের জন্য একই ফিটনেস মানদণ্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় দলের ফিজিও কমলেশ জৈনের কাছেও কড়া বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বোর্ড।
একই ফিটনেস মানদণ্ড, আর নয় আলাদা নিয়ম
টাইমস অফ ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে (CoE) এতদিন বিভিন্ন ক্রিকেটারের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ফিটনেস মানদণ্ড রাখা হতো। বিশেষ করে কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য পূরণ করেই ফিটনেস ছাড়পত্র পেয়ে যেতেন। এমনকি দল পরিচালনার চাহিদা মেটাতে হর্ষিত রানা ও নীতীশ কুমার রেড্ডির মতো ক্রিকেটারদেরও ফিট ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
BCCI: ব্রঙ্কো টেস্টই এখন প্রধান পরীক্ষা
শক্তি ও কন্ডিশনিং কোচ অ্যাড্রিয়ান লে রু-র অধীনে Yo-Yo টেস্টের পরিবর্তে এখন Bronco Test-কে প্রধান ফিটনেস মূল্যায়ন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। BCCI সূত্রের দাবি, ব্রঙ্কো টেস্টে ৫.১৫ থেকে ৫.২০ মিনিটের মধ্যে নির্ধারিত ড্রিল শেষ করতে হবে। পাশাপাশি ২ কিলোমিটার দৌড় শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে। এতদিন এই পরীক্ষার নির্দিষ্ট বেসলাইন না থাকায় মূল্যায়নে অসঙ্গতি তৈরি হচ্ছিল।
ইংল্যান্ড সফরেই সামনে আসে সমস্যার ছবি
ইংল্যান্ড সফরে একাধিক ভারতীয় ক্রিকেটার ম্যাচ চলাকালীন ক্র্যাম্পে ভুগেছেন। দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করার পর সিনিয়র ব্যাটারদের উইকেটের মধ্যে দৌড় এবং ফিল্ডিংয়ে গতির অভাবও নজরে আসে। দলের মধ্যে ধীরগতির ফিল্ডারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
BCCI: ফিজিও কমলেশ জৈনকে কড়া বার্তা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, BCCI সচিব দেবজিৎ সইকিয়ার নেতৃত্বে বোর্ড জাতীয় দলের ফিজিও কমলেশ জৈনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে— কোনও ক্রিকেটারের সিনিয়রিটির কথা না ভেবে ফিটনেসে সামান্য সমস্যা থাকলেও তা রিপোর্ট করতে হবে। বোর্ডের মতে, ভবিষ্যতে কোনওভাবেই ফিটনেস সংক্রান্ত বিষয়ে কোনরকম আপস করা হবে না।
হর্ষিত রানার ওজন নিয়েও প্রশ্ন
ফাস্ট বোলার হর্ষিত রানার ওজন বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় CoE-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাঁটুর চোট কাটিয়ে ফেরার পর ইংল্যান্ড সফরে নির্বাচিত হওয়ার সময় তাঁর ওজন ছিল ৯৭ কেজি, যা মেডিক্যাল টিমের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি। তৃতীয় টি-২০-র পর চোট নয়, বরং অতিরিক্ত ওজন ও তীব্র ক্র্যাম্পের কারণে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে তাঁর ওজন ৯৪ কেজিতে নেমেছে এবং CoE জানিয়েছে, ৯৬ কেজির বেশি ওজন হলে ভবিষ্যতে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।
BCCI: নতুন ফিটনেস নীতিতেই ভবিষ্যতের নির্বাচন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়মিত ভারতীয় ক্রিকেটারদের অনেকেই নতুন ফিটনেস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। এমনকি মহম্মদ সিরাজও শ্রীলঙ্কা সফরের আগে CoE-তে হঠাৎ হওয়া নতুন পরীক্ষায় অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। এছাড়া যশপ্রীত বুমরাহকে নির্ধারিত সময়ে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে না পারাও CoE-র সমন্বয়হীনতার উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। এখন থেকে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে সুযোগ পেতে হলে সকল ক্রিকেটারকেই একই ফিটনেস মানদণ্ড পূরণ করতে হবে— এমন বার্তাই স্পষ্ট করে দিল BCCI।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেল’-এর বিস্ফোরক অভিযোগ, তোলপাড় ফুটবল বিশ্ব












