ক্রমশই বাড়ছে দেশে ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা । গত পাঁচ বছরে ভারতে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য তেমনটাই বলছে।আইসিএমআরের ন্যাশনাল ক্যানসার রেজিস্ট্রি প্রোগ্রাম (NCRP)-এর তথ্যের ভিত্তিতে সংসদে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে, উত্তর ভারতের পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং হিমাচল প্রদেশে ২০২১ সালে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা ছিল ৭৮ হাজার ৫১৪ জন। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৮৬ হাজার ৩৫২। অর্থাৎ ৫ বছরে নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৮৩৮ জন। বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ শতাংশ।সারা দেশের ছবিও প্রায় একই। ২০২১ সালে দেশে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৪.২৬ লক্ষ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ১৫.৭ লক্ষে পৌঁছেছে বলে অনুমান করা হয়েছে।
Cancer Rate Increases: রাজ্যগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ কোথায়?
জনসংখ্যার নিরিখে দেশের অন্যতম বড় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গও ক্যানসারের বোঝা বহন করছে। কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, নতুন ক্যানসার রোগীর সংখ্যার নিরিখে উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রের পর পশ্চিমবঙ্গ দেশের প্রথম সারির রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে। ২০২৪ সালে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা দেশের মধ্যে অন্যতম বেশি ছিল।বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস, মুখগহ্বর ও জিভের ক্যানসার বেশি দেখা যায়। মহিলাদের মধ্যে স্তন, জরায়ুমুখ ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসার সবচেয়ে বেশি।
কেন বাড়ছে আক্রান্তের সাংখ্যা?
চিকিৎসকদের মতে, তামাক ও গুটখা সেবন, ধূমপান, দূষণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং মানসিক চাপ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি মানুষের আয়ু বৃদ্ধি পাওয়াও আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
৬ মাস ধরে সৌরভকে ‘খতম’ করার হুমকি, রহস্যময় চিঠির নেপথ্যে কে?
ক্যানসার মোকাবিলায় কী করছে সরকার?
কেন্দ্র জানিয়েছে, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে মহিলাদের মুখ, স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের বিনামূল্যে স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জনঔষধি কেন্দ্র ও অমৃত ফার্মেসিতে কম দামে ক্যানসারের ওষুধ মিলছে। দেশে একাধিক স্টেট ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও ক্যানসার কেয়ার সেন্টারও গড়ে তোলা হচ্ছে। (Cancer Rate Increases)
সতর্ক থাকার জন্য কী পরামর্শ ?
চিকিৎসকদের পরামর্শ, দীর্ঘদিনের কাশি, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ, শরীরে গাঁট, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, মুখের ঘা বা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতকে অবহেলা করা উচিত নয়। পরিবারের কারও ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি। তামাক বর্জন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শরীরচর্চাই ক্যানসার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মত বিশেষজ্ঞদের। সচেতনতা ও দ্রুত রোগ নির্ণয়ই এখন ক্যানসারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।









