তারাপীঠের হোটেল অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খাস কলকাতার বুকে মর্মান্তিক বিপর্যয় (Kolkata Fire)। মঙ্গলবার গভীর রাতে মধ্য কলকাতার ব্যস্ত ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জন আবাসিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘন কালো বিষাক্ত ধোঁয়ায় হোটেলের করিডর ও ঘরগুলি ভরে যাওয়ায় বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে দমবন্ধ হয়ে। ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
Kolkata Fire: মধ্যরাতে আগুনের সূত্রপাত ও উদ্ধারকাজ
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত প্রায় দুটো নাগাদ একটি হোটেলের তিনতলায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। রাত ২টা ৭ মিনিট নাগাদ দমকলে খবর পৌঁছয়। ঘটনাস্থলের কাছেই দমকলের কার্যালয় থাকায় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন, নিউ মার্কেট থানার পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। এলাকাটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এবং সরু গলির মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় উদ্ধারকাজের প্রাথমিক পর্যায়ে দমকলকর্মীদের তীব্র বেগ পেতে হয়। পরে দমকল ও উদ্ধারকারী দল হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করে এবং জানালা ও পেছনের অংশ দিয়ে প্রায় ৬০ জন আবাসিককে নিরাপদে উদ্ধার করে বের করে নিয়ে আসে।
ঘুমন্ত অবস্থায় ধোঁয়ায় দিশাহারা আবাসিকরা
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বাইরে থেকে আগুনের লেলিহান শিখা খুব বেশি প্রকট না হলেও হোটেলের অভ্যন্তরে মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয় বিষাক্ত ধোঁয়া। মধ্যরাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় আবাসিকরা হঠাৎ বিপদের মুখে দিশাহারা হয়ে পড়েন। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিফট বন্ধ হয়ে যায়। ধোঁয়ায় চারপাশ সম্পূর্ণ অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে অনেকে পথ হারিয়ে ফেলেন এবং বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে হোটেলের মেঝেতেই অচৈতন্য হয়ে লুটিয়ে পড়েন। (Kolkata Fire)
হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, মৃতদের শরীরে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ার ক্ষত তুলনামূলক কম। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড ধোঁয়ায় শ্বাসনালী অবরুদ্ধ হয়েই বেশিরভাগের মৃত্যু হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন ও তদন্ত
প্রাথমিক তদন্তে দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে ওই হোটেলগুলিতে পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইশার, স্মোক ডিটেক্টর বা জরুরি বহির্গমন পথের মতো বাধ্যতামূলক অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো সক্রিয় ছিল কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। পুরো এলাকা সিল করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও দমকলের বিশেষ তদন্তকারী দল। ঘটনাস্থলে নমুনা সংগ্রহের জন্য ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের তলব করা হয়েছে। (Kolkata Fire)
উল্লেখ্য, মাত্র একদিন আগেই তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের প্রাণহানি এবং অতীতে বড়বাজারের মেছুয়া এলাকার হোটেল ট্র্যাজেডির ক্ষত এখনও টাটকা। তার মাঝেই মধ্য কলকাতার এই বিপর্যয় শহরের হোটেলগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রকৃত কার্যকারিতাকে ফের বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।









3 thoughts on “মধ্যরাতে কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের হোটেলে আগুন, দমবন্ধ হয়ে মৃত অন্তত ৯”