গত ২৬ অগস্ট থেকে স্বামী আটকে রয়েছেন নেপালের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টানেলে। তাঁকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। একবার গলার স্বর শোনার জন্য প্রায় প্রতিদিনই স্বামীকে ফোন করে যাচ্ছেন। শুধু শুনতে চাইছেন তিনি ভালো আছেন। কিন্তু ওপার থেকে শুধুই ভেসে আসছে নীরবতা। নেপালের দোলাখার বাসিন্দা মিথু খড়কা। তিনি প্রতিদিনই তাঁর স্বামীকে ফোন করে যাচ্ছেন। হয়তো ভাবচ্ছেন একবার হয়তো সারা দেবে। কিন্তু সেই উত্তর এখনও মেলেনি (nepal flood)।
স্বামীর সঙ্গে মিথুর ফোনে কথা হয়েছিল বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে। এর ঠিক দেড় ঘণ্টা পরই ভোতেকোশি নদীতে হড়পা বান আসে। এক্কেবারে লন্ডভণ্ড হয়ে যায় সবকিছু (nepal flood)। রাসুয়া ও নুয়াকোটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাগুলিও প্রবল স্রোতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। মিথুর স্বামী ‘আপার ত্রিশূলী-১’-এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রায় দুবছর ধরে কাজ করছেন। মিথুর বলেন, তিনি সারাক্ষণ মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। যদি কখনও ওপার থেকে ফোন আসে। নিখোঁজ কিংবা উদ্ধার হওয়া কোনো তালিকাতেই তার স্বামীর নাম নেই। তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে যেন আমার পুরো পৃথিবীটাই হারিয়ে গেছে।”
nepal flood: স্বামীর ফেরার আশায় দিন গুনছেন মিথু
ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভয়াবহ হড়পা বান। তারপর থেকেই নিঁখোজ বহু শ্রমিক। সেই দলে তাঁর স্বামীও রয়েছেন বলে দাবি, মিথুর। উদ্বিগ্নে সুরঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবার গুলি।
এখনও কতজন আটকে সুরঙ্গে?
নেপালের ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন’ (IPPAN)-এর তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণাধীন প্রকল্পসহ মোট ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৮৯৮ জন কর্মীর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে ভয়াবহ বন্যার সময় ঠিক কতজন বাইরে ছিলেন এবং কতজন মাটির নিচে আটকে পড়েছেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি।
নেপালের বিপর্যয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যা। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। এখনও খোঁজ মিলছে না বহু মানুষের। গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হড়পা বানে নেপালের বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ১১টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গ বা টানেল কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে গিয়েছে। কয়েকশ শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে রয়েছেন। উদ্ধারকাজ চলছে। তবে যত সময় এগোচ্ছে ততই টানেলের ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত থাকার সম্ভবনাও কমছে।











