করোনার সময় দেশজুড়ে লকডাউনের ছবি এখনও অনেকের মনে টাটকা। তবে এবার সেই শব্দটাই যেন অন্য অর্থে ফিরে এলো পাকিস্তানে। প্রবল জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ে একের পর এক কড়া বিধিনিষেধ জারি করল শাহবাজ শরিফের সরকার। সরকারি গাড়িতে জ্বালানি বরাদ্দ কমানো থেকে নতুন সরকারি গাড়ি কেনা বন্ধ—জ্বালানি ও সরকারি খরচ বাঁচাতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ইসলামাবাদ। (Pakistan Oil Lockdown)
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের ক্যাবিনেট ডিভিশনের তরফে নতুন নির্দেশিকা জারি হয়েছে। নির্দেশগুলি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। এর ফলে শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনাতেই নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়তে শুরু করেছে প্রভাব।
সরকারি গাড়িতে অর্ধেক জ্বালানি, নতুন গাড়ি কেনাতেও নিষেধাজ্ঞা
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, সরকারি গাড়িগুলির জন্য বরাদ্দ জ্বালানি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কাজে নতুন কোনও গাড়ি কেনা যাবে না। গাড়ির ধরন বা ব্যবহারের ক্ষেত্র—কোনও কিছুতেই এই নিষেধাজ্ঞার ছাড় রাখা হয়নি।
তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছাড়া অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও সরকারি দফতরগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। তবে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রয়োজনীয় খরচ বিধিনিষেধের আওতায় রাখা হয়নি।সরকারি কর্মীদের বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। আপাতত তিন মাসের জন্য এই জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
মমতার সমর্থন ঘোষণার পরই গ্রেফতার নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী
Pakistan Oil Lockdown: রাত ৯টার মধ্যে বাজার বন্ধ, বিয়েতে ‘এক পদ’
সরকারি খরচ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি বাঁচাতে সাধারণ মানুষের জন্যও বেশ কিছু নিয়ম চালু করা হয়েছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, দোকান, বাজার এবং শপিং মল রাত ৯টার মধ্যেই বন্ধ করতে হবে। রেস্তরাঁ, ক্যাফে এবং অন্যান্য খাবারের দোকানও রাত ১১টার পর খোলা রাখা যাবে না। তবে হোম ডেলিভারি এবং টেক অ্যাওয়ে পরিষেবাকে এই সময়সীমার বাইরে রাখা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। বিয়ের অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য বিবাহ-সংক্রান্ত আয়োজনে খাবারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। সেখানে মাত্র একটি পদ পরিবেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পাকিস্তানে। সেই সংকট সামাল দিতে এবার সরকারি খরচ কমানো থেকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন—প্রায় সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিচ্ছে শাহবাজ শরিফের সরকার। ফলে পাকিস্তানে এই পরিস্থিতিকে অনেকেই রসিকতা করে ‘তেলের লকডাউন’ বলেও উল্লেখ করছেন।











