মিজোরামের পাহাড়ি পথে এখন শুধু স্ট্রবেরির লাল ফল নয়, নজর কাড়ছে এক কৃষকের সাফল্যের গল্পও। এক সময়ের স্কুলশিক্ষিকা জেড টি লালরিথাঙ্গি এবার পৌঁছে গেলেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মঞ্চে। স্ট্রবেরি চাষকে লাভজনক জীবিকার পথ করে তোলার জন্য রোমে রাষ্ট্রপুঞ্জের সম্মান পেতে চলেছেন তিনি। (Strawberry Farming)
১০০ মহিলার তালিকায় মিজোরামের লালরিথাঙ্গি
দক্ষিণ মিজোরামের লংটলাই জেলার সাংগাউয়ের বাসিন্দা লালরিথাঙ্গি ‘পি মারি-ই’ নামেও পরিচিত। রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) তাঁকে ‘FAO 100 ওমেন হিরোস ইন এগ্রিফুড সিস্টেমস এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ’-এর তালিকায় রেখেছে। ২০২৬ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার অফ ওমেন ফার্মের ’-এর অংশ হিসাবেই এই সম্মান। ১৩১টি দেশের ৬০০-র বেশি মনোনীত মহিলার মধ্যে ১০০ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন ভারতীয়। লালরিথাঙ্গি তাঁদেরই একজন। ২১ সেপ্টেম্বর ই-মেলে নিজের নির্বাচনের খবর পান তিনি। আগামী ১২ থেকে ১৬ অক্টোবর রোমে FAO-র সদর দফতরে ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম -এ তাঁর হাতে সম্মান তুলে দেওয়া হবে। (Strawberry Farming)
১ হাজার চারা থেকে এখন ১০ হাজারের বেশি
২০২৪ সালে প্রতিবেশী সাইহা জেলার কয়েকজন কৃষকের স্ট্রবেরি চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হন লালরিথাঙ্গি। সাংগাউ থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে ১ হাজার চারা দিয়ে শুরু করেন চাষ। প্রথম বছরেই আয় হয় প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। এরপর বাড়তে থাকে চাষের পরিসর। বর্তমানে দুই হেক্টর জমিতে ১০ হাজারের বেশি স্ট্রবেরি গাছ রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি চাষ করেন অ্যাভোকাডো, কলা-সহ নানা ফল ও সবজি। (Strawberry Farming) ২০২৫ সালে শুধু স্ট্রবেরি থেকেই আয় ১০ লক্ষ টাকা ছাড়ায়। ফলের একাংশ দিয়ে তৈরি করেন স্ট্রবেরি ওয়াইন। তা স্থানীয় বাজারেও বিক্রি হয়।
চাকরি ছেড়ে চাষে, ভরসা পরিবার
লালরিথাঙ্গি IGNOU থেকে সমাজবিদ্যায় স্নাতকোত্তর। শুরুতে সরকারি সহায়তা পাননি। স্ট্রবেরি তখন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আওতায় ছিল না। তাই ইউটিউবের কৃষি বিষয়ক ভিডিয়ো দেখে নিজেই চাষের পদ্ধতি শেখেন। তিন সন্তানকে সামলে রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।
স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং পরিবারের অন্যদের সহযোগিতাই তাঁর সাফল্যের অন্যতম ভরসা। ২০২৬ সালের মিজোরাম হর্তি মেলায় লংটলাই জেলার সেরা কৃষকের সম্মানও পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে রোম যাওয়ার প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছেন লালরিথাঙ্গি। (Strawberry Farming)













1 thought on “রোমের মঞ্চে মিজোরামের কৃষক, স্ট্রবেরি চাষে বদলে গেল জীবন”
Comments are closed.