আর মাত্র এক সপ্তাহের অপেক্ষা, তারপরই বাঙালির কালীপুজো। তার আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার (Champahati Bazi Market) চম্পাহাটির ঐতিহ্যবাহী হাড়াল বাজিবাজারে শুরু হয়েছে আতশবাজি কেনার তোড়জোড়। রাস্তার দু’ধারে সারি সারি দোকানে মিলছে বিড়ি বাজি, তুবড়ি, ফুলঝুরি, রংমশাল, চরকা-সহ হরেক রকমের আতশবাজি। তবে এ বারের বাজারে রয়েছে রাজনৈতিক পালাবদলের ছাপ, নতুন ধরনের বাজির আকর্ষণ এবং রাসায়নিকের দাম বাড়ায় বাজেটের টানাপোড়েন। পদ্মফুলের বাজি থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’—সব মিলিয়ে উৎসবের বাজারে নজর কাড়ছে নতুন সম্ভার।
Table of Contents
রাজনৈতিক পালাবদলে বদলেছে বাজিবাজারের রং
২০২৬ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর (Champahati Bazi Market) হাড়াল বাজিবাজারের সাজসজ্জাতেও এসেছে পরিবর্তন। মেলার প্রবেশদ্বার থেকে ইউনিয়ন অফিস—সর্বত্রই গেরুয়া রঙের ছোঁয়া। ২০০৯ সালে তৎকালীন সাংসদ সুজন চক্রবর্তীর সাংসদ তহবিলের অর্থে তৈরি হয়েছিল বাজিবাজারের ইউনিয়ন ভবন। তখন রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার। ২০১১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর ভবনের রং বদলেছিল। এবার ফের রাজনৈতিক পালাবদলের পর ইউনিয়ন অফিসে দেখা যাচ্ছে গেরুয়া রঙের বোর্ড। অফিসের ভিতরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবির পাশাপাশি রয়েছে ভারতমাতা ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি।
পদ্মফুল থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নতুন বাজির আকর্ষণ

(Champahati Bazi Market) এবারের বাজারে নতুন সংযোজন পদ্মফুলের বাজি, ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং হেলিকপ্টার, ধানের শিষ, প্রজাপতি ও আকাশ তারার মতো বাজি। পাশাপাশি রয়েছে রংবেরঙের তুবড়ি, সিলভার টিপ, ৫কে হাম, বিড়ি বাজি এবং ছোট সেল। বাজি বিক্রেতা সুব্রতর কথায়, “পদ্ম বাজি এ বছরের নতুন বাজি। এটা সরকার পরিবর্তনের বাজি। বিক্রি ভালই হচ্ছে। আর দু’-এক দিন পর থেকে মার্কেট ভালো হবে।”
রাসায়নিকের দাম বৃদ্ধি, কমছে ক্রেতাদের বাজেট

(Champahati Bazi Market) বাজি বিক্রেতা বিভা মণ্ডল জানিয়েছেন, রাসায়নিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় সব ধরনের বাজির দামই বেড়েছে। ফলে কেউ কেউ বাজি কিনলেও অনেক ক্রেতা বেশি দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। বিক্রেতা সুরজিৎ মণ্ডলের দাবি, গত বছরের তুলনায় কোনও কোনও বাজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। যে বাজির দাম আগে ৫০০ টাকা ছিল, তা এখন ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় পৌঁছেছে। বান্টি নস্করও জানিয়েছেন, কাঁচামালের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে কেনাকাটা। ফলে বিক্রিতেও কিছুটা ঘাটতি থাকছে।
ক্রেতা অঙ্কিতের অভিজ্ঞতাতেও ধরা পড়েছে সেই চাপ। তাঁর কথায়, “দাম বেড়েছে বাজির, মাথাপিছু কুড়ি-তিরিশ টাকা করে প্রত্যেক বাজিতে বেড়েছে। প্রতিবছরই আসি, কিন্তু এবারে যা বাজেট করে এসেছি, তার তুলনায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেড়েছে।”
আর ব্যবহার করতে হবে না GPS, সফল NVS-03 উৎক্ষেপণ ভারতের
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধাক্কা বাজি তৈরির কাজে
(Champahati Bazi Market) হাড়াল আতশবাজি ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য অজয় কুমার চক্রবর্তীর মতে, “এবারের বাজার এখনও খুব একটা ভালো নয়। রান্নাপুজোর আগে বৃষ্টির কারণে বহু কারিগর বাজি তৈরি করতে পারেননি। বাজি তৈরির জন্য রোদ অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ায় কাজ ব্যাহত হয়েছে। দুর্গাপুজোর পর রোদ উঠলেও তত দিনে বহু শ্রমিক রাজমিস্ত্রির কাজ বা অন্য পেশায় চলে গিয়েছেন। ফলে উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে।”
নিরাপত্তায় জোর, সরকারের কাছে শিল্প বাঁচানোর আর্জি

(Champahati Bazi Market) ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজিবাজারে নিরাপত্তা বজায় রাখতে একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে উনুন বা রান্নার জায়গায় বাজি তৈরি না করা এবং শিশু শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মেলায় স্বেচ্ছাসেবকেরা নজরদারি চালাচ্ছেন। ধূমপান ও চায়ের স্টল নিষিদ্ধ রাখার পাশাপাশি মেলার ভিতরে আগুনের ব্যবস্থা না রাখার কথাও জানিয়েছেন সমিতির সদস্য অজয় কুমার চক্রবর্তী।
তাঁর দাবি, এই অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষ বাজি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাই নতুন রাজ্য সরকারের কাছে লাইসেন্স-সহ ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলি খতিয়ে দেখা এবং ঐতিহ্যবাহী বাজিশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
লক্ষ্মীপুজো থেকে কালীপুজো, জমে ওঠার অপেক্ষায় বাজার
সারা বছরই হাড়ালে বাজির দোকান খোলা থাকে। তবে লক্ষ্মীপুজোর পর থেকে দীপাবলি ও কালীপুজো পর্যন্ত কেনাবেচা বাড়ে। (Champahati Bazi Market) বিক্রেতা সুরজিৎ মণ্ডল জানিয়েছেন, এই সময় দোকানগুলি দীর্ঘক্ষণ খোলা থাকে, কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টাও। এখনই বিক্রি শুরু হলেও আগামী দু’-এক দিন এবং রবিবার থেকে ক্রেতাদের ভিড় বাড়বে বলে আশা ব্যবসায়ীদের। রাজনৈতিক পালাবদলের নতুন রং, অভিনব বাজি আর মূল্যবৃদ্ধির চাপ—সব মিলিয়ে কালীপুজোর আগে হাড়াল বাজিবাজারের দিকে নজর রয়েছে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী, উভয়েরই।
বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপের ভ্রুকুটি, বাংলার আবহাওয়ায় বড় বদল?













1 thought on “রাজনৈতিক পালাবদলের ছোঁয়া চম্পাহাটির বাজিবাজারে, পদ্ম থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’—দামবৃদ্ধিতে চিন্তায় ক্রেতারা”
Comments are closed.