বেআইনিভাবে পুজোয় পাস বিক্রি নিয়ে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। শুধু তাই নয়, আর্থিক তছরূপের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠান পাইয়ে দেওয়ার নাম করে নিয়মিত নবীন শিল্পীদের থেকে তোলা তোলারও অভিযোগ রয়েছে। বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পীর একাধিক কুকীর্তির কথা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে। ঠিক এই সময়ে গায়ককে নিয়ে বোমা ফাটালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর সন্তান সুচেতন ভট্টাচার্য (indranil sen)।
indranil sen: ঔদ্ধত্য ছিল চরমে : সুচেতন ভট্টাচার্য
এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুচেতন বলেন, ‘‘ঔদ্ধত্য ছিল চরমে। পাপ ও কৃতকর্মের ফল ভোগ করছেন। আমার খুব আনন্দ হচ্ছে।” কলেজ পাশের পর ২০০৫ সালে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গীত সংস্থায় চাকরি শুরু করেন সুচেতন। ২০১৩ সাল পর্যন্ত সেখানে ছিলেন তিনি। ততদিনে রাজ্যে বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সেই সরকারের বয়স হয়েছিল মাত্র ২ বছর। তারপরই বামপন্থাকে ভুলে একটু একটু করে তৃণমূল ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে তুলছিলেন। তা টের পেয়েছিলেন সুচেতন। তখনই তিনি ইন্দ্রনীলের সংস্থার চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ভাবুন কী অপমানজনক: সুচেতন ভট্টাচার্য
সুচেতন ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘২০১৩ সালে আমি ইস্তফাপত্র পাঠাই। তাঁর ঔদ্ধত্য এতটাই ছিল যে আমার ইস্তফাপত্র গ্রহণ পর্যন্ত করেননি। সেটা রিসিভ করে আমাকে কপি দেবেন বলে ডেকে পাঠিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসে অপেক্ষা করিয়েছেন। নিজে কথা বলেননি, বাকি কর্মীদের দিয়ে বলে পাঠাচ্ছিলেন, অপেক্ষা করতে হবে। ভাবুন কী অপমানজনক। একটা ইস্তফাপত্র সই করতে এতখানি ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন।”
তাঁর আরও অভিযোগ, ইন্দ্রনীলের সংস্থায় যে রেকর্ডিস্ট ও অন্যান্য সঙ্গীতশিল্পীরা কাজ করতেন, তাঁরা অনেক সময় ঠিকমতো টাকা পেতেন না। একটা কাজ করানোর পর তাঁদের বেতন দিতেন না ইন্দ্রনীল। একসময়ে সুচেতন নিজের অর্থ থেকে ওই শিল্পীদের কাজের টাকা মিটিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন। সবমিলিয়ে সুচেতন এতটাই ক্ষিপ্ত ছিলেন যে তিনি দলকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, বাবার অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে যেন ইন্দ্রনীল সেন তাঁদের বাড়ির আশপাশে আসতে না পারেন। এমনকী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণেও তৎকালীন মন্ত্রীকে নিজেদের পাম অ্যাভিনিউর বাড়িতে ঢুকতে দিতে চাননি সুচেতন।













2 thoughts on “‘পাপের ফল ভোগ করছেন’, ইন্দ্রনীল সেন প্রসঙ্গে বিস্ফোরক বুদ্ধদেবের সন্তান সুচেতন”
Comments are closed.