সোমবার বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন চরম আকার নেয়।আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয় ঢাকায়। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা দাবি জানিয়ে রবিবার থেকে আন্দোলনে নেমেছিলেন বাংলাদেশের শ্রমিকেরা। বিক্ষোভের জেরে অচল হয়ে পড়ে ঢাকার মিরপুর, সাবার, আশুলিয়া, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলি। রাস্তায় বসে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান পোশাক শ্রমিকদের একাংশ। শ্রমিকদের বিক্ষোভে আশুলিয়া, গাজীপুর, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোড-সহ একাধিক এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামানের ব্যবহার ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশের একাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও। অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনায় সাধারণ শ্রমিক বা শ্রমিক নেতাদের কোনও যোগ নেই (bangladesh garment workers protest)।
bangladesh garment workers protest: বিক্ষোভে ৬৭০টি কারখানা বন্ধ
বাংলাদেশে পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভের কারণে ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে প্রায় ৪,০০০ টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৬৭০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। ন্যূনতম ত্রিশ হাজার টাকা বেতন, স্বল্পমূল্যের ক্যান্টিন চালু এবং শ্রমিকদের শ্রম আইনের অধিকার প্রয়োগ সহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে (bangladesh garment workers protest)।
উসকানি দিচ্ছে হাসিনার দল?
এই আন্দোলনের পিছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লিগের হাত রয়েছে বলে দেখছে তারেক রহমানের সরকার। সোমবার সমাজমাধ্যমে তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহেদী আমিন লেখেন, পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লিগ। রবিবারই আন্দোলকারীদের মধ্য থেকে আওয়ামী লিগের বেশ কিছু কর্মী সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। সোমবার সকাল থেকে শাসক পক্ষ সদলবলে নেমে পড়ে শেখ হাসিনার দলকে কাঠগড়ায় তুলতে।
পরিস্থিতি সামলাতে সেনাবাহিনীর একাংশ রাজপথে নেমেছে। অশান্তপূর্ণ এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গার্মেন্টস শিল্প এলাকায় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির কয়েকটি ব্যাটেলিয়ান মোতায়ন করা হয়েছে।













