পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (POK)-তে বিক্ষোভকারীদের উপর ড্রোন হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৭ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আহত হয়েছেন আরও ২৩ জন। বৃহস্পতিবার রাওয়ালকোটে এই ঘটনা ঘটে। যদিও কয়েকজন পাক সাংবাদিকের দাবি, মৃতের সংখ্যা ১২ ছাড়িয়ে যেতে পারে। মৃতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। (Pakistan Occupied Kashmir Drone Attack)
এই ঘটনার পরেই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ইজরায়েলের সেনাবাহিনী বা আইডিএফের তুলনা টানছেন ক্ষুব্ধ কাশ্মীরিরা। তাঁদের অভিযোগ, পাক সেনা পিওকেকে গাজ়ার মতো পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, রাওয়ালকোটে একটি বাড়িতে আগুন জ্বলছে। কোথাও বিক্ষোভকারীদের মৃতদেহ নিয়ে প্রতিবাদ চলছে। কোথাও আবার নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান সরকারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ বাড়ছে।
বিক্ষোভ দমন করতে অভিযান পাক বাহিনীর
জানা গিয়েছে, গত ৫ নভেম্বর জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (JAAC) বিক্ষোভ সরাতে অভিযান চালায় পাকিস্তান রেঞ্জার্স, ফ্রন্টিয়ার কর্পস এবং পুলিশ। জুন মাস থেকে ওই সংগঠনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ চলছিল। রাজনৈতিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। JAAC নেতা সর্দার উমর নাজির একটি ভিডিয়োয় বোমার টুকরো দেখিয়ে দাবি করেন, আবাসিক এলাকায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন দিক থেকে বিক্ষোভ শিবির লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের রাওয়ালকোটে পৌঁছনোর আবেদন জানান। (Pakistan Occupied Kashmir Drone Attack)
পাক সেনার সঙ্গে IDF-এর তুলনা
এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন পাকিস্তানপন্থী বলেও পরিচিত একাধিক কাশ্মীরি। ইসলামাবাদের বাসিন্দা সীমা বালি সমাজমাধ্যমে লেখেন, তিনি বরাবর পাকিস্তানের সমর্থক ছিলেন। কিন্তু কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের উপর এই অত্যাচার মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর অভিযোগ, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানের পর এবার কাশ্মীরেও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করছে পাকিস্তান। অন্যদিকে, আবু ধাবির কাশ্মীরি সমাজকর্মী সোহাইব খান রাওয়ালকোটের ঘটনাকে গাজ়ার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর দাবি, পাক বাহিনীর ড্রোন হামলায় জ্বলতে থাকা বাড়িগুলির ছবি গাজ়ার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
কী দাবিতে আন্দোলন?
মূলত ৩৮ দফা দাবিতে জুন মাস থেকে আন্দোলন করছে জেএএসি। বিদ্যুতের দাম কমানো, ভর্তুকিতে গম, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। POK র বিধানসভায় পাকিস্তানের অন্যত্র বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন নিয়েও আপত্তি রয়েছে তাঁদের। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই আসনের মাধ্যমে ইসলামাবাদ স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে। পাশাপাশি, বিপুল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করেও স্থানীয় মানুষকে চড়া বিদ্যুতের বিল দিতে হচ্ছে বলে ক্ষোভ রয়েছে বাসিন্দাদের।
জুন মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেএএসি-কে নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান। গ্রেফতার করা হয় একাধিক আন্দোলনকারীকে। যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বিধিনিষেধ জারি হয়। তবে এত কিছুর পরেও আন্দোলন থামেনি। বরং রাওয়ালকোটে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।(Pakistan Occupied Kashmir Drone Attack)














