দীপাবলি মানেই আলোর উৎসব, আনন্দ এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। কিন্তু উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি প্রতি বছর উদ্বেগ বাড়ায় বায়ুদূষণ। বিশেষ করে বাজির ধোঁয়া, যানবাহন, নির্মাণকাজের ধুলো এবং কলকারখানার দূষণ মিলে বাতাসের গুণমান ভয়াবহ করে তোলে। তৈরি হয় ঘন ধোঁয়াশা বা স্মগ। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্রের উপর। (Diwali Air Pollution Lung Symptoms)
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে থাকা PM2.5-এর মতো ক্ষুদ্র কণিকা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে প্রদাহ তৈরি করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পার্টিকুলেট ম্যাটার শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বিশেষ করে হাঁপানি, COPD এবং হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য দূষিত বাতাস বিপজ্জনক হতে পারে।
দীপাবলির দূষণে ফুসফুসের বিপদের ৭টি লক্ষণ
হঠাৎ শ্বাসকষ্ট: বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও শ্বাস নিতে অসুবিধা হলে সতর্ক হন। সামান্য হাঁটাচলাতেও হাঁসফাঁস করা, দ্রুত শ্বাস নেওয়া কিংবা কথা বলতে গিয়ে দম ফুরিয়ে আসা গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে জরুরি চিকিৎসা নিন। (Diwali Air Pollution Lung Symptoms)
বুকে ব্যথা বা চাপ: দূষণের কারণে শ্বাসনালিতে প্রদাহ তৈরি হলে বুকে অস্বস্তি হতে পারে। তবে বুকে চাপ, ব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা কিংবা ব্যথা হাত-ঘাড়ে ছড়িয়ে পড়লে হার্টের সমস্যার আশঙ্কাও থাকে। এমন হলে দ্রুত হাসপাতালে যান।
দীর্ঘস্থায়ী কাশি: বাজির ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম দূষিত কণিকা শ্বাসনালিতে জ্বালা তৈরি করে কাশির কারণ হতে পারে। কিন্তু কাশি ক্রমশ বাড়লে, রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটালে কিংবা কাশির সঙ্গে জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা রক্তমিশ্রিত কফ বের হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শ্বাসের সঙ্গে সাঁই সাঁই শব্দ: শ্বাস নেওয়া বা ছাড়ার সময় বাঁশির মতো শব্দ হওয়াকে Wheezing বলে। এটি শ্বাসনালি সংকুচিত হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। হাঁপানি ও COPD-তে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে দূষণের কারণে এই সমস্যা বাড়তে পারে। ইনহেলার ব্যবহারের পরেও উপশম না হলে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
ঠোঁট বা জিভ নীলচে হয়ে যাওয়া: ঠোঁট, জিভ কিংবা মাড়ি নীলচে বা ধূসর হয়ে যাওয়া শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। হঠাৎ বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়াও বিপদের লক্ষণ। এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। (Diwali Air Pollution Lung Symptoms)
হাঁপানি বা COPD-এর উপসর্গ বেড়ে যাওয়া: দূষিত বাতাসের কারণে হাঁপানি ও COPD-তে আক্রান্তদের কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং কফের সমস্যা বাড়তে পারে। স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ইনহেলার ব্যবহার করতে হলে কিংবা রাতে শ্বাসকষ্টে ঘুম ভাঙলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করবেন না।
কাশির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া: কাশির সঙ্গে রক্ত বা রক্তমিশ্রিত কফ বের হওয়া কখনওই সাধারণ দূষণের প্রতিক্রিয়া বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে এর সঙ্গে বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট থাকলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।
দীপাবলির দূষণে কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বায়ুদূষণের প্রভাব সকলের উপর পড়লেও কয়েকটি গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।
শিশু: ফুসফুসের বিকাশ চলতে থাকায় দূষণের প্রভাব বেশি পড়তে পারে।
প্রবীণ নাগরিক: বয়সজনিত কারণে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা বাড়তে পারে।
হাঁপানি ও COPD রোগী: দূষণের কারণে শ্বাসনালির প্রদাহ এবং শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে।
হৃদরোগী: দূষণ হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্তঃসত্ত্বা মহিলা: গর্ভাবস্থায় দূষণের সংস্পর্শ কমানো প্রয়োজন।
বায়ুদূষণ থেকে ফুসফুস বাঁচাতে কী করবেন?
দূষণের প্রভাব কমাতে কয়েকটি সতর্কতা মেনে চলুন।
বাইরে বেরনোর আগে নিয়মিত AQI পরীক্ষা করুন।দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।ঘরের জানলা বন্ধ রাখুন এবং ধূপ, ধূমপান বা অন্য ধোঁয়ার উৎস এড়িয়ে চলুন।বাইরে যাওয়া জরুরি হলে সঠিকভাবে ফিট করা N95 মাস্ক ব্যবহার করুন।
দূষণের সময়ে বাইরে দৌড়নো বা ভারী শরীরচর্চা করবেন না।হাঁপানি বা COPD থাকলে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়মিত ব্যবহার করুন।স্টিম বা ঘরোয়া টোটকাকে গুরুতর শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করবেন না।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
কাশি, বুকে চাপ, বারবার Wheezing কিংবা শ্বাসকষ্ট দীর্ঘস্থায়ী হলে পালমোনোলজিস্ট বা ফুসফুস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক অক্সিজেন স্যাচুরেশন, স্পাইরোমেট্রি বা চেস্ট এক্স-রের মতো পরীক্ষা করাতে পারেন।তবে তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া কিংবা কাশির সঙ্গে রক্ত বের হলে অপেক্ষা করবেন না। ভারতে জরুরি চিকিৎসার জন্য ১১২ নম্বরে যোগাযোগ করুন।
মনে রাখবেন, দীপাবলির দূষণকে সাধারণ কাশি বা গলার অস্বস্তি ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়। সচেতনতা, দূষণ থেকে দূরে থাকা এবং সময়মতো চিকিৎসাই ফুসফুসের সুরক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। (Diwali Air Pollution Lung Symptoms)
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সতর্কীকরণ: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ সচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।














