কুশল চক্রবর্তী
Indian Rupee Depreciation: একদিকে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা আর ইজরায়েলের যুদ্ধ চলছে, অন্য দিকে সারা পৃথিবীতে চলেছে অর্থনৈতিক অস্থিতরতা। ভারতও তার বাইরে নেই। সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া নানা রকম পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতীয় অর্থনীতিকে এই আশু সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও বাঁচাতে। বেশ কিছুদিন ধরেই বিশ্ব বাজারে ডলারের পরিবর্তে ভারতীয় মুদ্রার দামে পতন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই সঙ্কট থেকে ভারতীয় অর্থনীতিকে বাঁচাতে উঠে পরে লেগেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
ভারতীয় টাকার পড়তি দামকে আটকাতে, বার বার সঞ্চিত ডলার বিক্রি করছে বা আগামী দিনের ডলার লেনদেনের চুক্তিতে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে। ফলে ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে ভারতের ডলারের যে ভাণ্ডার ছিল ৭২৮ বিলিয়ান ডলারের তা নেমে এসেছে ৬৭২ বিলিয়ান ডলারে। অন্যদিকে, আগামী দিনের ডলার লেনদেনের দায়িত্ব বেড়ে হয়েছে ১০৬ বিলিয়ান ডলারেরও বেশী। যেখানে কি না এবারের এপ্রিলেও এই দায় ছিল মাত্র ৯৬ বিলিয়ন ডলার। এটা কিন্তু আজ অবধি ভারতীয় অর্থনীতিতে অশুভ একটা রেকর্ড। এরপরেও আছে বিদেশী লগ্নীকারীদের ভারত থেকে কোটি কোটি ডলার সরিয়ে নেওয়ার প্রয়াস।
আরও পড়ুন: কলকাতা থেকে সরছে SBI-এর কিছু দপ্তর, চাকরি, গ্রাহক পরিষেবা ও পেনশনে বড় প্রভাবের আশঙ্কা
অর্থনীতির নিয়ম অনুসারে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডলার কেনা বেচা কিন্তু একটা রুটিন কাজ। কিন্তু এবার যেন সবকিছুকে এই ডলার কেন বেচা ছাপিয়ে গিয়েছে। ভারতীয় টাকার তুলনায় যখন ডলারের দাম বাড়তে থাকে, তখন যারা আমদানি রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত তাদের মুনাফায় টান পড়ে। যেমন তাদের বিদেশ থেকে কাঁচামাল রপ্তানি করতে বেশি টাকা লাগে। আবার বিদেশের ক্রেতারা একই ডলারে বেশী পরিমাণ তাদের উৎপন্ন করা দ্রব্য কিনে নিয়ে যায়। হয়তো রপ্তানিকারকের তাতে উৎপাদিত দ্রব্যের চাহিদা বাড়ে, কিন্তু তাতে উৎপাদকের লাভ বাড়ে না। অর্থাৎ আমদানি বা রপ্তানিতে জড়িত ব্যবসায়ীদের অনেক কিছু এতে জড়িয়ে আছে। অন্য দিকে কিছু সাধারণ মানুষ, যাদের বিদেশে যেতে হয় তাঁরা কিছুটা হলেও চিন্তায় থাকেন।
ভারতে এই ডলারের ওঠানামার জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আম্বানি আর আদানিদের কোম্পানি। আম্বানিদের বিশাল রিলায়েন্স পেট্রোক্যাম আর আদানিদের ভোজ্য তেল ও অন্যান্য ব্যবসা, এই ডলারের দামের তারতম্যে মুশকিলের কারণ হয়ে ওঠে। এবারের যুদ্ধে একদিকে ইরানের মতো খনিজ তেলের অধিকারী দেশের সঙ্গে ঝামেলা। আর অন্য দিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ঝামেলায় ভোজ্য তেল নিয়ে সমস্যা।
অতএব ভারতের এই দুই প্রধান শিল্পপতিদের দরকার ডলারের দামে নিয়ন্ত্রণ রাখা। সরকার বাহাদুর পিছিয়ে আসেননি। যতটা সম্ভব সহায়তার হাত তাঁরা বাড়িয়ে দিয়েছেন। তার ফলে একদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারে টান পড়েছে। অন্যদিকে ভবিষ্যতের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারের দায় বেড়েছে। এই দায় কাটাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কে অনেক বেশি সুদ দিয়ে ডলার জমার রাখার লোভনীয় প্রস্তাব দিতে হয়েছে অনাবাসী ভারতীয়দের। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আশাও করছে হয়তো তার ফলে ৪০ থেকে ৭০ বিলিয়ান ডলার জমাও দেশে এসে যাবে।
আরও পড়ুন: বাড়তে চলা জিনিসের দামে ব্যতিব্যস্ত মানুষ
মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে, ২০১৩ সালে যখন প্রধানমন্ত্রী মনোমোহন সিংয়ের সরকার এমনই একটা প্রকল্প নিয়েছিল তখন আজকের এই সরকারের লোকেরা এর তীব্র বিরোধিতা করেছিল। আর ২০১৬ সালে যখন বর্ধিত সুদ সহ এই ডলার ফেরত দেওয়ার সময় এসেছিল তখন এই এনডিএ সরকারই খুব মুশকিলে পড়েছিল। অন্য দিকে ২০১৩ সালের অগস্ট মাসে আজকের প্রধানমন্ত্রী, তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী, প্রবলভাবে আক্রমণ করেছিলেন টাকার দাম ডলার প্রতি ৬৮ টাকা হয়ে যাওয়ার জন্য। আর এখন টাকার দাম গুটি গুটি পায়ে ডলার প্রতি “সেঞ্চুরি”-র দিকে যাচ্ছে, সেটা বন্ধ করা কি জরুরী নয়? অন্তত বিরোধীদের সমালোচনা বন্ধ হওয়া তো দরকার। না হয় তাতে কিছু ডলার বিক্রিই হল!










1 thought on “টাকার পতন ঠেকাতে ডলার বিক্রি RBI-এর, নেপথ্যে কি অন্য কারণ?”