রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

বরুণের প্রাণপণ চেষ্টার পরেও হোঁচট ডেভিড ধাওয়ানের কমেডি ছবি ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’

Hai Jawani Toh Ishq Hona Hai
---Advertisement---

বহুদিন ধরেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল ছিল ডেভিড ধাওয়ানের নতুন ছবি ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ (Hai Jawani Toh Ishq Hona Hai) নিয়ে। বরুণ ধাওয়ান, ম্রুনাল ঠাকুর ও পূজা হেগড়েকে নিয়ে তৈরি এই ত্রিকোণ প্রেমের কমেডি ছবিতে রোম্যান্স, সম্পর্কের টানাপোড়েন, পারিবারিক জটিলতা এবং হাস্যরসের মিশেল দেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কি দর্শকদের মন কাড়তে পারল এই ছবি?

ছবির গল্পে রয়েছে চিরাচরিত ডেভিড ধাওয়ানের স্টাইল, তা দেখলেই বোঝা যায়। গল্পের শুরু হয় মুখ্য চরিত্র জ্যাস অর্থাৎ বরুণ ধাওয়ান এবং নায়িকা বানি অর্থাৎ ম্রুনাল ঠাকুরের দাম্পত্য জীবনের জটিলতা নিয়ে। একদিকে জ্যাস চান সন্তান নিয়ে নতুন করে জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী বানি নিজের ক্যারিয়ারেই মন দিতে চান। আপাতত মা হওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। এখন থেকেই তাঁদের মধ্যে ঝামেলা এবং ভুল বোঝাবুঝির শুরু। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে বানি শেষ পর্যন্ত ডিভোর্স চেয়ে বসে।

আদালতের তরফে দুজনকে ছ’মাসের সময় দেওয়া হয়। এই ছয় মাসের মধ্যেই আবার জ্যাসের আলাপ হয় প্রীতের সঙ্গে। এই ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে। কিছুদিনের মধ্যেই জ্যাস এবং পূজা একে অপরের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন। আর এমন সময় হঠাৎই বানি এসে জানায় সে সন্তানসম্ভবা। গল্পের এখানেই হ্যাপি এন্ডিং হবে না তা বলাই বাহুল্য। ওদিকে একই সময় প্রীতও জানায় সেও জ্যাসের সন্তানের মা হতে চলেছে। এই অবস্থায় জ্যাস পরে মহা বিপদে। এরপর জ্যাস কী করবেন ? কীভাবে তাদের জীবনে নতুন মোড় আসবে সেই নিয়েই পরবর্তী গল্প এগোয়।

ছবির প্রথমার্ধ কিছুটা ধীরগতির হলেও দ্বিতীয়ার্ধ ছিল বেশ জমজমাট। বেশ খানিকটা কমেডি এবং ফ্যামিলি ড্রামায় মোড়া আদ্যোপান্ত একটি কমার্শিয়াল ছবি। বরুণ ধাওয়ান নিজের চরিত্রে বরাবরের মতোই দর্শকের নজর কেড়েছেন। অন্যদিকে ম্রুনাল এবং পূজাও নিজেদের জায়গায় যথেষ্ট ভালো অভিনয় করেছেন তবে ছবিতে তাঁদের ওপর খুব বেশি একটা লাইমলাইট যায়নি। এই ছবিও যে একেবারেই হিরো কেন্দ্রীক, তা বললে অত্যুক্তি হবে না।

ডেভিড ধাওয়ানের ছবির ক্ষেত্রে দর্শকরা সাধারণত জমজমাট কমেডির প্রত্যাশা করেন। কিন্তু এই ছবির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সেখানেই। হাসির দৃশ্য তৈরি করার একাধিক চেষ্টা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। কিছু কিছু দৃশ্যে দর্শক হাসির খোরাক পেলেও সামগ্রিকভাবে কমেডির রং অনেক ক্ষেত্রেই ফিকে।

ফের বড়পর্দায় ‘লগান’, ২৫ বছর পূর্তিতে বিশেষ ট্রেলার প্রকাশ, নস্ট্যালজিয়ায় ভাসছেন দর্শকরা

সহ-অভিনেতাদের মধ্যে জিমি শেরগিল, রাজপাল যাদব, মনীশ পল, রাকেশ বেদী এবং চাঙ্কি পাণ্ডের পর্দায় উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম হলেও তাঁরা নিজেদের জায়গায় তারা অসাধারণ। তবে ছবির অন্যতম বড় চমক মৌনি রায়ের ক্যামিও। গল্প শুরুর বেশ কিছুটা পরে তাঁর আগমন হলেও দর্শকের নজর কাড়তে সক্ষম মৌনি।

সব মিলিয়ে ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ (Hai Jawani Toh Ishq Hona Hai) একটি মজাদার, পারিবারিক ছবি। ছবির গান, দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু মজার মুহূর্ত এবং কয়েকজনের ভালো অভিনয় ছবিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তবে বহুদিন পর ডেভিড ধাওয়ানের থেকে দর্শকের যে আবারও একটি ব্লকবাস্টার কমেডি ছবি দেখার প্রত্যাশা ছিল তা কিছুটা অধরাই রয়ে গেল।


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিষয়ে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

1 thought on “বরুণের প্রাণপণ চেষ্টার পরেও হোঁচট ডেভিড ধাওয়ানের কমেডি ছবি ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’”

  1. Pingback: Salim Kumar:

Leave a Comment