বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্ত (Famous director Anik Dutta passed away)। বুধবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার হিন্দুস্থান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। বহুতলের নীচ থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁকে। ঘটনার পরই ঢাকুরিয়ার মণিপাল হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সূত্রের খবর, বহুতলের ৬ তলার ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। আজ সকালেই গড়িয়াহাটের নিজের ফ্ল্যাট থেকে স্ত্রীর ফ্ল্যাটে যান পরিচালক। সেখানে গিয়েই বহুতলর ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গড়িয়াহাট থানার পুলিশ ও হোমিসাইড শাখার। বহুতলের নিচে চাপ চাপ রক্ত পড়ে রয়েছে, সেটাকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট।
অন্যদিকে খবর শুনে হাসপাতালে পৌঁছন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও অভিনেতা জিতু কমল। কী করে ৬ তলার ছাদ থেকে পড়ে গেলেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। খবর শুনে পরিচালককে দেখতে হাসপাতালের সামনে ভিড় জমান অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে শুরু করে কলাকুশলীরা।
হাসপাতালে পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মৃত্যুর পাঁচদিন আগেই জন্মদিন গিয়েছে পরিচালকের। মৃত্যুকালে বয়স হয়ছিল ৬৫ বছর। পরিচালকের ঘনিষ্ঠদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশকিছু দিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন তিনি, অবসাদ থেকে মুক্তির জন্য ওষুধও খেতেন। পরিচালনায় আসার আগে বেশ কয়েক বছর আগে বিজ্ঞাপন জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বহু বিজ্ঞাপনী ছবি তৈরি করেছিলেন তিনি। ২০১২ সালে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবির পরিচালনার মাধ্যমে আলোচনায় উঠে আসেন অনীক। এই ছবিকে ঘিরেও তৈরি হয়েছিল বিতর্ক।
এদিকে খবর প্রকাশ্যে আসার পর শোকের ছায়া বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। পরিচালক হিসেবে বরাবর টলিউডকে সমৃদ্ধ করেছেন অনীক। তাঁর পরিচালিত ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ই হোক বা ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’, ‘অপরাজিত’র মতো সিনেমাগুলি সিনেসমালোচক তো বটেই এমনকী দর্শকমনকেও নাড়া দিয়েছিল।
তবে কী কারণে মৃত্যু? তিনি কী সত্যিই ছাদ থেকে পড়ে গেছেন নাকি অন্য কোনও কারণ সবটাই খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দলের আধিকারিকরা।












1 thought on “ছাদ থেকে পড়ে পরিচালক অনীক দত্তের মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা? জল্পনা”