একদিকে মাথায় ৪০ লক্ষ টাকার ঋণ, অন্যদিকে বাবার সম্পত্তি অন্য মহিলার হাতে চলে যাওয়ার ভয়। আর এই কারণেই শেষ পর্যন্ত বাবাকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল ছেলে। উত্তরপ্রদেশের কানপুরের ওষুধ ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচার খুনের তদন্তে উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুধু তাই নয়, নিজের অপরাধ ঢাকতে স্ত্রীকেও খুনের মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্ত সুব্রত। ঘটনার ১৯ দিন পর পুলিশের জেরায় সামনে এসেছে এই রহস্য।
পুলিশ সূত্রে খবর, ৬০ বছরের বিনীত মিনোচা বিরহানা রোডে ছেলের সঙ্গে ওষুধের ব্যবসা চালাতেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর কানপুরের কল্যাণপুরের রতন অরবিট আবাসনে নিজের ফ্ল্যাটেই খুন করা হয় তাঁকে। প্রথমে এই ঘটনায় গ্রেফতার হন পুত্রবধূ শালু মনোচা এবং দুই ভাড়াটে খুনি বিশাল ও রাজকিশোর। তবে এখন তদন্তে উঠে আসছে অন্য তথ্য।
Kanpur Incident: বালিশ চাপা দিয়ে খুনের ছক
পুলিশের দাবি, প্রায় তিন মাস ধরে বাবাকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন সুব্রত। বাবার প্রাক্তন কর্মচারী বিশাল ও তার সঙ্গী রাজকিশোরকে এই কাজে ভাড়া করেন তিনি। পরিকল্পনা ছিল, বালিশ চাপা দিয়ে বিনীতকে শ্বাসরোধ করে খুন করে হৃদ্রোগে মৃত্যুর ঘটনা বলে চালানো হবে। কিন্তু ফ্ল্যাটে লুকিয়ে থাকা দু’জনকে দেখে ফেলেন বিনীত। চিৎকার শুরু করলে ধস্তাধস্তির মধ্যে ছুরি দিয়ে আঘাত করে তাঁকে খুন করে বিশাল। সেই সময় সুব্রত, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে একটি পার্টিতে ছিলেন।
৪০ লক্ষ টাকার ঋণ, সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার ভয়
তদন্তকারীদের আরও দাবি, বিনীতের একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। বাবার সম্পত্তি অন্য কোনও মহিলার নামে চলে যেতে পারে, এই আশঙ্কা থেকেই খুনের ছক কষেন সুব্রত। অন্যদিকে, মদ্যপান, জুয়ার অভ্যাসের কারণে তাঁর প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ঋণও ছিল। প্রতি মাসে ৫৫ হাজার টাকা ঋণের কিস্তি দিতে হত সুব্রতকে। তাই বাবার দেওয়া ৪০ হাজার টাকা হাতখরচও তাঁর জন্য যথেষ্ট ছিল না। এই কারণেই বাবাকে সরাতে চেয়েছিলেন তিনি। (Kanpur Incident)
জামুই-সমস্তিপুরের পর বিহারে ফের নাবালিকাকে হেনস্থার অভিযোগ, FIR ৬ জনের বিরুদ্ধে
খুনের পর স্ত্রী শালুকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন সুব্রত। বিশালের সঙ্গে শালুর পরিচয় থাকায় পুলিশ তাঁকেই সন্দেহ করবে বলে ভেবেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের দাবি, জেরার মুখে পড়ে অপরাধ স্বীকার করেছেন সুব্রত। তবে শালু এখনও সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে প্রমাণিত হননি। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কিনা সে বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। একইসঙ্গে বৌমা শালুও কোনওভাবে এই ঘটনার কথা জানতেন কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।











1 thought on “সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, স্ত্রীকে ফাঁসাতে গিয়ে জালে কানপুরের ব্যবসায়ীর ছেলে”
Comments are closed.