ফুচকা, ঝালমুড়ি কিংবা ভেলপুরি খেতে গিয়ে অনেকেই অতিরিক্ত পেঁয়াজ, বেশি ঝাল বা টক চাটনি পেয়েছেন। কিন্তু ভেলপুরির ঠোঙা খুলে যদি দেখা যায় সেখানে ছাপা রয়েছে কারও ব্যাঙ্কের হিসাব-নিকাশ, তাহলে? ঠিক এমনই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে হতবাক এক যুবক। ২০ টাকার ভেলপুরি কিনে তিনি যেন হাতে পেয়ে গেলেন একেবারে ‘ফ্রি ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট’। আর সেই ঘটনাই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল। (Viral Bhelpuri)
ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ের। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি রাস্তার ধারের একটি দোকান থেকে ২০ টাকার ভেলপুরি কেনেন। সাধারণভাবে যেমন পুরনো খবরের কাগজ বা কাগজের ঠোঙায় এই ধরনের খাবার দেওয়া হয়, এখানেও প্রথমে তেমনটাই মনে হয়েছিল। কিন্তু খেতে খেতে আচমকাই তাঁর নজরে আসে, যে কাগজে ভেলপুরি মোড়া হয়েছে সেটি আদতে কোনও সাধারণ কাগজ নয়, বরং একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট। (Viral Bhelpuri)
এক্স ব্যবহারকারী সুধাংশু আম্বোরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করে গোটা ঘটনাটি সামনে আনেন। ছবিতে দেখা যায়, রাস্তার ধারের দোকান থেকে কেনা ২০ টাকার ভেলপুরি মোড়া রয়েছে ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি দু’পাতার ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টে। সেই কাগজে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর, লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য-সহ একাধিক ব্যক্তিগত তথ্য স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনে সুধাংশু ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সামান্য অসাবধানতার কারণে কীভাবে একজনের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক তথ্য এভাবে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে পারে, তা ভেবেই তিনি অবাক। তাঁর কথায়, দেশে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে এখনও যথেষ্ট সচেতনতার অভাব রয়েছে। (Viral Bhelpuri)
আর তারপরই চোখ কপালে ওঠে তাঁর। কারণ সেই স্টেটমেন্টে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর, লেনদেনের বিবরণ, ব্যালান্স-সহ একাধিক ব্যক্তিগত তথ্য। অর্থাৎ, যাঁর ব্যাঙ্কের নথি ছিল, তাঁর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কার্যত রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল ভেলপুরির মোড়ক হয়ে!
ঘটনার পর ওই ব্যক্তি গোটা বিষয়টির ভিডিয়ো করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ ভিডিয়োটি দেখে অবাক হওয়ার পাশাপাশি উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। নেটিজেনদের একাংশের প্রশ্ন, এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথি কীভাবে এইভাবে বাইরে এল? কেউ কি অসাবধানতাবশত পুরনো কাগজ বিক্রি করে দিয়েছেন, নাকি কোনওভাবে সেই নথি ফেলে দেওয়া হয়েছিল? (Viral Bhelpuri)
অনেকেই আবার মজার ছলেও মন্তব্য করেছেন। কেউ লিখেছেন, “২০ টাকার ভেলপুরির সঙ্গে ফ্রি-তে ব্যাঙ্ক ডিটেলস!” আবার কেউ কটাক্ষ করে বলেছেন, “এখন থেকে রাস্তার খাবার খেলেও KYC হয়ে যাবে!” তবে হাসি-ঠাট্টার মাঝেও অনেকে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন। কারণ এই ধরনের তথ্য বাইরে চলে এলে সাইবার প্রতারণা, তথ্য চুরি কিংবা আর্থিক জালিয়াতির ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। (Viral Bhelpuri)
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, আধার, প্যান বা ব্যক্তিগত তথ্যসম্বলিত কোনও নথি কখনওই সরাসরি ফেলে দেওয়া উচিত নয়। সেগুলি ছিঁড়ে ফেলা বা তথ্য মুছে ফেলার পরই বাতিল করা নিরাপদ। কারণ সামান্য অসাবধানতাই বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। আর মুম্বইয়ের এই ভাইরাল ঘটনাই যেন সেই সতর্কবার্তাকেই আরও একবার সামনে এনে দিল।
এটিএম-এ ‘হেয়ার কাট সার্ভিস’! ভাইরাল ভিডিও দেখে চোখ কপালে নেটপাড়ার













1 thought on “ভেলপুরি খেতে গিয়ে হাতে এল ব্যাঙ্ক ডিটেলস! রাস্তার খাবার ঘিরে তুমুল হট্টগোল”