পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের গতি আরও বাড়াতে এবার বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কলকাতার মিলন মেলায় আয়োজিত এক শিল্প-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যেই ২৫ জন শিল্পপতিকে জমি বরাদ্দ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, শিল্প স্থাপনের পথে জমি ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে দ্রুত বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা এবং পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম শিল্পগন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা।
শিল্প স্থাপনে দ্রুত জমি, কমবে প্রশাসনিক জটিলতা
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে জমি পাওয়া এবং সরকারি অনুমোদনে দেরি হওয়া দীর্ঘদিন ধরে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জমি বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর দাবি, দ্রুত শিল্প গড়ে উঠলে একদিকে যেমন রাজ্যের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে তেমনই তৈরি হবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ।
নতুন শিল্প রোডম্যাপে ছয়টি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার
অনুষ্ঠানে রাজ্যের নতুন বিনিয়োগ রোডম্যাপও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, উৎপাদন শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি (IT), খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, লজিস্টিকস, নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় আধুনিক শিল্পপার্ক গড়ে তোলা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপরও জোর দিচ্ছে সরকার।
বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক পরিষেবা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, দেশ-বিদেশের একাধিক সংস্থা ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
একাধিক পনিরে নিষেধাজ্ঞা, আপনি যা খাচ্ছেন তা ভেজাল নয় তো? জানুন বিস্তারিত
কর্মসংস্থান বৃদ্ধির আশা, নজরে চা ও বস্ত্র শিল্পওসরকার মনে করছে, এই উদ্যোগের ফলে আগামী কয়েক বছরে রাজ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসবে এবং হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। শিল্পমহলের একাংশও মনে করছে, দ্রুত জমি বরাদ্দ, উন্নত পরিকাঠামো এবং স্থিতিশীল শিল্পনীতি বজায় থাকলে পশ্চিমবঙ্গ আবারও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র হিসেবে নিজেদের জায়গা শক্তিশালী করতে পারবে।
মিলন মেলার মঞ্চ থেকেই শিল্প ও কর্মসংস্থানকে সামনে রেখে উন্নয়নের নতুন বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর এই ঘোষণাকে ঘিরে শিল্পমহল ও রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে শিল্প বিনিয়োগের এই আবহের মধ্যেই বাংলার চা ও বস্ত্র শিল্পের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চলতি অগস্ট মাসেই রাজ্য সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের উদ্যোগ মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পোন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।










