রেস্তোরাঁ, বেকারি এবং ক্লাবে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানোর পর এবার শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে বদল আনতে বড় পদক্ষেপ নিল মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)। রাজ্যের সমস্ত স্কুল ক্যান্টিনে জাঙ্ক ফুড ( JunkFood) বিক্রিতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুলের ৫০ মিটারের মধ্যে থাকা দোকানেও উচ্চমাত্রার চর্বি, চিনি ও লবণযুক্ত (HFSS) খাবার বিক্রি, বিতরণ বা বিজ্ঞাপন দেওয়া হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। (Junk Food Ban)
BKC-তে সাংবাদিক বৈঠকে বড় ঘোষণা
বুধবার মুম্বইয়ের বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্স (BKC)-এ FDA-র সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন কমিশনার তুকারাম মুন্ধে। তিনি জানান, ফুড সেফটি এন্ড স্ট্যান্ডার্ডস (Safe Foods and Balanced Diets for Children in School Regulations, 2020) অনুযায়ী এই অভিযান চালানো হবে। লক্ষ্য, স্কুলপড়ুয়াদের অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে দূরে রাখা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। (Junk Food Ban)
কোন কোন খাবার নিষিদ্ধের তালিকায়?
FDA-র নির্দেশ অনুযায়ী, চিপস, কেক, সমোসা, বড়া পাও, অতিরিক্ত ভাজাভুজি, স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও লবণসমৃদ্ধ প্যাকেটজাত খাবার এবং ১৮ বছরের কম বয়সিদের জন্য ক্ষতিকর এনার্জি ড্রিঙ্ক নিষিদ্ধ তালিকায় থাকবে। স্কুলের আশপাশে এসব খাবার বিক্রি বা প্রচার করা গেলেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (Junk Food Ban)
বেবি পাউডার থেকে ক্যানসার ? মামলা মেটাতে বিপুল টাকার প্রস্তাব Johnson & Johnson-এর
স্কুল কর্তৃপক্ষের উপর বাড়ল দায়িত্ব
মুন্ধে জানান, মহারাষ্ট্রের প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজার স্কুলে পড়াশোনা করে ২ কোটিরও বেশি ছাত্রছাত্রী। তাদের জন্য ক্যান্টিনে শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু ক্যান্টিন নয়, স্কুলের বাইরে থাকা টিফিনের দোকান বা স্টলে যদি অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি হয়, তবে তা FDA-কে জানানোও স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। (Junk Food Ban)
নিয়ম না মানলে হতে পারে ডি-অ্যাফিলিয়েশন (De-Affiliation)
FDA কমিশনার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই নির্দেশিকা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট স্কুলের বিরুদ্ধে শিক্ষা বোর্ডের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হবে। প্রয়োজনে স্কুলের ডি-অ্যাফিলিয়েশন( De-Affiliation) বা স্বীকৃতি বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, ২০২০ সাল থেকেই এই নিয়ম কার্যকর রয়েছে এবং শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক সুস্থতার কথা ভেবেই এই বিধি তৈরি করা হয়েছে।
মিড-ডে (Mid-Day) মিল প্রকল্পেও একই নিয়ম
এই নির্দেশ শুধুমাত্র বেসরকারি বা সরকারি স্কুলেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রধানমন্ত্রী পোষণ শক্তি নির্মাণ যোজনা (PM Poshan)-র আওতায় যেসব স্কুলে মিড-ডে মিল প্রকল্প চালু রয়েছে, সেখানেও একই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে FDA। (Junk Food Ban)
‘Eat Right India’ অভিযানে জোর
‘Safe Food, Healthy Childhood, Empowered Maharashtra’ কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যেই ৩,৫৬৭টি স্কুলের ৪,৯১৯ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এটি FSSAI-র ‘Eat Right India’ অভিযানের অংশ। আগামী দিনে প্রতিটি স্কুলে একজন হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস অ্যাম্বাসাডর বা নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে হবে। তাঁদের দায়িত্ব হবে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রচার এবং বছরে অন্তত চারটি সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন করা। (Junk Food Ban)
স্কুলে থাকবে সতর্কবার্তা
FDA জানিয়েছে, প্রতিটি স্কুলের প্রবেশদ্বারে অস্বাস্থ্যকর খাবারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে স্পষ্ট সতর্কবার্তা লাগাতে হবে। পাশাপাশি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন (NIN)-এর খাদ্য নির্দেশিকা মেনে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করতে হবে।
আপত্তি স্কুল মহলের একাংশের
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছে কিছু স্কুল কর্তৃপক্ষ। আর্চডায়োসিস বোর্ড অব এডুকেশন (Archdiocese Board of Education)-এর সচিব রেভারেন্ড ফাদার থমসন কিনি বলেন, রাস্তার দোকান বা ফেরিওয়ালাদের উপর স্কুলের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই স্কুলের বাইরে কী বিক্রি হচ্ছে, তা নজরদারির দায়িত্ব স্কুলের উপর চাপানো বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর মতে, এই বিষয়ে প্রশাসনেরই সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। (Junk Food Ban)
আরও পড়ুন :- জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’- র মতো নয়! লা টোমাটিনার অজানা দিক তুলে ধরলেন এক ভরতীয় তরুণী








