ইস্টবেঙ্গলের জন্য এ যেন এক পর এক ইতিহাস সৃষ্টির মরশুম। ২০০২ সালের পর জাতীয় লিগ, ২০২৫-২৬ মরশুমে ISL, আর এ বার ২০০৪ সালের পর ফের ডুরান্ড কাপ জয় লাল হলুদ শিবিরের। তাও আবার ডার্বির মঞ্চে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে। তবে লাল-হলুদের এই জয়ের নায়ক-এডমুণ্ড লালরিন্ডিকা। ডার্বির ইতিহাসে হ্যাটট্রিকের তালিকায় বাইচুং ভুটিয়া, চিডি এডে এবং কিয়ান নাসিরির পাশে এ বার জায়গা করে নিলেন তিনিও।
Durand Cup 2026 Final: শুরুতেই দুই গোল, প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে লাল হলুদ
ম্যাচ শুরুর আগে আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল সাজানোতেই ছিল চমক। কোনও স্ট্রাইকারকে খাতায়-কলমে রেখে শুরু করেননি তিনি। মাঝমাঠ ও রক্ষণ শক্ত রেখে প্রতিআক্রমণে মোহনবাগানকে আঘাত করাই ছিল তাঁর পরিকল্পনা। আর সেই পরিকল্পনার ফল মিলতে বেশি সময়ও লাগেনি। খেলা শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। ডি-বক্সের বাইরে বল পেয়ে রশিদ দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বিপিন সিংয়ের দিকে বল বাড়ান। সেকেন্ড পোস্ট লক্ষ্য করে দুর্দান্ত শটে গোল করেন বিপিন। স্কোর ১-০।
এর দু’মিনিট পরেই ফের উঠল লাল-হলুদ ঝড়। জিকশন সিংয়ের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে লো শটে গোল করেন এডমুণ্ড। ব্যবধান বেড়ে হলো ২-০। উল্লেখ্য, জেসিন টিকের জায়গায় এ দিন এডমুণ্ডকে খেলানোর সিদ্ধান্ত যে কতটা কার্যকর হয়েছিল, তার প্রমাণ তখনই মিলতে শুরু করে।
২২ মিনিটে আসে তৃতীয় গোল। দানি রামিরেজ দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বল বাড়ান এডমুণ্ড লালরিন্ডিকার দিকে। মোহনবাগানের রাহুল ভেকেকে কাটিয়ে সামনে থাকা বিশাল কাইথকেও এড়িয়ে ফাঁকা পোস্টে বল জড়িয়ে দেন তিনি। মাত্র ২২ মিনিটেই ডার্বির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় ইস্টবেঙ্গলের হাতে। (Durand Cup 2026 Final)

এদিকে তিন গোল খেয়ে তখন ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছে মোহনবাগান। সাহালকে বাইরে রেখে ম্যাকলারেনকে দিয়ে শুরু করেছিলেন দিলেমা পেরিস। কিন্তু সেই পরিকল্পনাও কাজে এল না। লিস্টন কোলাসোও লাল-হলুদ রক্ষণের ভিড়ে কার্যত নিষ্প্রভ। তবে এর মাঝেই অবশ্য ব্যবধান কমায় মোহনবাগান। ৩২ মিনিটে ডান দিক দিয়ে উঠে জয় গুপ্তাকে কাটিয়ে বক্সের মাঝখানে ঢুকে পড়েন মনবীর সিং। বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান তিনি। আনোয়ার আলির পায়ের নীচ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বল প্রভসুখন সিংও পুরোপুরি আটকাতে পারেননি। ফলে স্কোর হলো ৩-১।
কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ হাসিটাও হাসলো ইস্টবেঙ্গল। ৪৪ মিনিটে রশিদের ফ্রি-কিক থেকে জয় গুপ্তা বল মাইনাস করেন। মোহনবাগানের ডিফেন্ডাররা তখন এক লাইনে। সেই সুযোগে সঠিক জায়গায় থাকা এডমুণ্ড পা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান। নিজের হ্যাটট্রিকের সঙ্গে সঙ্গেই দলকে পৌঁছে দেন ৪-১ এর একটি প্রায় নিরাপদ ব্যবধানে।
এডমুণ্ডের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনেই কাটলো খরা
এডমুণ্ডের এই হ্যাটট্রিক শুধু একটি ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স নয়, তাঁর ইস্টবেঙ্গল-যাত্রারও যেন পূর্ণতা। আলেসান্দ্রোর সময় লাল-হলুদ জার্সিতে এসেছিলেন তিনি। পরে লিয়েনে বেঙ্গালুরু এফসিতে চলে যান। গত মরশুমে ফেরেন ইস্টবেঙ্গলে। আর ফেরার পর থেকেই যেন নিজের পুরনো ঠিকানা নতুন করে চিনিয়ে দিচ্ছেন।
গত মরশুমে লিগের ডার্বিতে গোল করেছিলেন। ISL ডার্বিতেও গোল পেয়েছিলেন। আর এ বার ডুরান্ড কাপের ফাইনালে একাই তিন গোল। ফলে ডার্বির ইতিহাসে হ্যাটট্রিক করা বিশেষ কিছু খেলোয়াড়ের তালিকায় তাঁর নামও উঠে গেল।

দ্বিতীয়ার্ধে চেষ্টা করেও ফিরতে পারল না মোহনবাগান, ডুরান্ড জয় ইস্টবেঙ্গলের
বিরতিতে একসঙ্গে একাধিক পরিবর্তন করেন দিলেমা পেরিস। সামিরের বদলে মিগুয়েল, আপুইয়ার বদলে দীপক টাঙরি, অনিরুদ্ধ থাপার বদলে কিয়ান নাসিরি এবং মনবীরের বদলে ছাঙতেকে নামানো হয়। কিন্তু তখন ম্যাচ অনেকটাই ইস্টবেঙ্গলের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে। (Durand Cup 2026 Final)
দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও লাল-হলুদের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। বরং গোটা ম্যাচজুড়েই সবুজ-মেরুন ফুটবলারদের মধ্যে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল। ফলে আর ব্যবধান কমানো সম্ভব হয়নি।
২০২৩ সালে কুয়াদ্রাতের কোচিংয়ে নন্দকুমারের গোলে ডুরান্ডে ডার্বি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই বছরই ফাইনালে ডার্বিতে হেরেছিল তারা। গত মরশুমে অস্কার ব্রুজোর কোচিংয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফের ডার্বি জিতেছিল লাল-হলুদ। আর এ বার হাবাসের হাত ধরে সেই ডার্বি জয় এল ফাইনালের মঞ্চে, ৪-১ ব্যবধানে।
টস জিতে ব্যাট, ৪৫-এ জয়সওয়ালও আউট; রাহুলের পর কলম্বোয় জোড়া ধাক্কা গিলদের











