অবশেষে প্রকাশিত হলো অন্নপূর্ণা যোজনা ফর্ম (Annapurna Bhandar Form)। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে প্রত্যেক আবেদনকারীকেই এই ১২ পাতার ফর্ম পূরণ করতে হবে। বুধবার নবান্নে বৈঠকের পর এই কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১ জুনের মধ্যে যারা এই ফর্ম পূরণ করতে পারবেন তাদের অ্যাকাউন্টেই আগামী মাস থেকে ৩০০০ টাকা ঢুকবে। তবে সরকারের তরফে যে ফর্মটি প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা আছে, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা: পারিবারিক তথ্য সংগ্রহের ফর্ম’। কাজেই বোঝাই যাচ্ছে এখানে শুধুমাত্র আবেদনকারী নয় বরং তার পরিবারের সম্পর্কেও সমস্ত তথ্য জানতে চায় সরকার। ঠিক কী কী তথ্য দিতে হবে? কীভাবে পূরণ করবেন ফর্ম? জেনে নিন।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই একটি ১২ পাতার ফর্ম প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে গেলে এই ফর্মই আবেদনকারীদের পূরণ করতে হবে।
কী আছে Annapurna Bhandar Form-এর ১২ পাতায়? কীভাবে পূরণ করবেন? জেনে নিন বিস্তারিত-
- পৃষ্ঠা নং ১,২,৩: ফর্মের শুরুতেই রয়েছে পারিবারিক পরিচয় যাচাইয়ের স্থান। যেখানে পরিবারের প্রধান, মোট সদস্য সংখ্যা, জন্ম তারিখ, আধার কার্ডের নম্বর, রেশন কার্ডের নম্বর, ঠিকানা, যোগাযোগ নম্বর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস দিতে হবে।
- পৃষ্ঠা নং ৪: রেশন কার্ড/ খাদ্য ভর্তুকি সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য দেওয়ার জায়গা। এছাড়াও আবেদনকারীর পরিবারের মোট সম্পত্তির পরিমাণ এর যাবতীয় ডিটেলসও (জমির মালিকানা, ব্যক্তিগত যানবাহন আছে কি না, স্বাস্থ্য বিমা সহ নানান ডিটেলস) দিতে হবে।
- পৃষ্ঠা ৫,৬,৭: এরপরই পারিবারিক আয় এবং পরিবারের সদস্যরা কে কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত সেগুলি জানাতে হবে। (Annapurna Bhandar Form)
এক্ষেত্রে পরিবারের প্রতি প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোন সদস্য সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত কি না, পরিবারের মোট বার্ষিক আয় – এরকম বেশ কিছু তথ্য দিতে হবে। - পৃষ্ঠা ৭,৮,৯: এখানেই শেষ নয়, এরপর সরকার জানতে চাইছে আপনি কি CAA-তে আবেদন করেছেন? অথবা কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, মৎস্যজীবী কার্ড, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মতো কোনও সুবিধা পান কি না?
- সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন SIR-এ যাদের নাম বাদ পড়েছে এবং যারা ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন তাঁরা এই অন্নপূর্ণা যোজনা সুবিধা পাবেন। সেই মতই এই ফর্মেও এমন একটি জায়গা রাখা হয়েছে যেখানে আপনাকে জানাতে হবে আপনার নাম ট্রাইবুনালে বিচারাধীন আছে কি না।
- পৃষ্ঠা ৯,১০: এই দুই পাতায় আপনাদের পরিবারের শিশুরা বিদ্যালয়ে পাঠরত কি না এবং তাদের টিকাকরণের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে।
- পৃষ্ঠা নং ১১: আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান কি না? পেলে কোন সদস্য কোন প্রকল্পের সুবিধা পান তা সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে। (Annapurna Bhandar Form)
- পৃষ্ঠা নং ১২: সবশেষে যিনি আবেদন করছেন তিনি যে সজ্ঞানে সমস্ত তথ্য নির্ভুলভাবে দিয়েছেন সেই সম্মতি জানাতে হবে।
আরও পড়ুন: বুধেই শুরু অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
তবে এই ফর্ম দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই, কারণ আজ নবান্নে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, অনলাইন এবং অফলাইন দুই পদ্ধতিতেই আবেদন করা যাবে। যারা নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাদের সাহায্যের জন্য সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাবেন। পাশাপাশি নবনির্বাচিত বিধায়কদেরও এই কাজে যুক্ত করা হবে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, মানুষের কাছে পৌঁছে প্রকল্পের সুবিধা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। শুধু তাই নয়, আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ তারিখ বিভিন্ন জায়গায় জনকল্যাণ শিবিরও আয়োজন করা হবে। সেখানে আবেদনপত্র পূরণ এবং নথি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করা হবে। (Annapurna Bhandar Form)
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামিকাল থেকে শুরু করে প্রতি সপ্তাহে কত জন নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনায় নাম নথিভুক্ত করছেন, সেই তথ্য সাংবাদিক বৈঠক করে প্রকাশ করবেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আর যতদিন না পর্যন্ত এই ফর্ম উপভোক্তা ফিলআপ করছেন ততদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাই পাবেন।
ফর্মের জন্য ক্লিক করুন











