বেআইনিভাবে বাজি তৈরি করতে গিয়েই ফের গতকাল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল চম্পাহাটিতে। কিন্তু বিস্ফোরণের পরও প্রশাসনের হুঁশ ফিরেছে কি? দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের চম্পাহাটি-হাড়াল ও সংলগ্ন পিয়ালী এলাকায় বেআইনি বাজি তৈরির কারবার নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। প্রতি বছরই এই এলাকায় নিষিদ্ধ শব্দবাজি এবং বিভিন্ন ধরনের আতশবাজি তৈরির সময় দুর্ঘটনার ঘটনা সামনে আসে। কিন্তু একের পর এক দুর্ঘটনার পরেও কেন বেআইনি বাজির কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না, এবার এই আবহেই প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।
Champahati Blast: মাছের ব্যবসার আড়ালে বাজি, বিস্ফোরণে গুরুতর আহত ২
গত বৃহস্পতিবার চম্পাহাটি-হাড়াল গ্রামের ঢিলছোড়া দূরত্বে পিয়ালী এলাকায় মাছের ব্যবসার আড়ালে বেআইনিভাবে বাজি তৈরি করার সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। বিস্ফোরণে এক শ্রমিক এবং এক মহিলা গুরুতর আহত হন। জানা গিয়েছে, ওই মহিলার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। দু’জনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। কোথাও বেআইনিভাবে বাজি তৈরি হচ্ছে বলে খবর পেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আবেদনও করা হয়েছে।
রাস্তার ধারে ধারে, ‘ব্যাঙের ছাতার মতো’ কারখানার অভিযোগ
তবে বিস্ফোরণের পরদিন, শুক্রবার সকাল থেকেই চম্পাহাটি-হাড়াল এবং পিয়ালী এলাকার একাধিক বাজি কারবারের ছবি সামনে আসতে শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে কার্যত ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বেআইনি বাজি তৈরির কারখানা। কোথাও আবার বসতবাড়ির মধ্যেই তৈরি করা হয়েছে বাজি তৈরির ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কোনও রকম নিয়মকানুন না মেনেই এই সমস্ত জায়গায় বাজি তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি ক্যামেরার সামনে একাধিক ব্যক্তি বেআইনি বাজি তৈরির বিষয়টি স্বীকারও করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, রাজপথের ধারে তিন দিক বস্তা দিয়ে ঘেরা জায়গার মধ্যেও তৈরি হচ্ছে নিষিদ্ধ শব্দবাজি-সহ বিভিন্ন ধরনের আতশবাজি। আরও অভিযোগ, সেই বাজিই পরে বাজারে ‘গ্রিন ক্র্যাকার’ বা সবুজ বাজি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণার টাকা কই? পুরসভায় মহিলাদের বিক্ষোভ
দুর্ঘটনার পরও কেন বন্ধ হচ্ছে না কারবার?
চম্পাহাটি-হাড়াল, পিয়ালী-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এই বাজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ, বাজি তৈরির সঙ্গে যুক্ত একাংশ আইন এবং প্রশাসনের নিয়মকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিনের পর দিন বেআইনি কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। এই এলাকায় গত কয়েক বছর ধরেই বেআইনি বাজি তৈরির সময় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তারপরেও এত বড় পরিসরে কীভাবে বেআইনি বাজি তৈরির কারবার চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাহলে কী প্রশাসনের নজরদারিতেই গফিলতি? (Champahati Blast)
বৃহস্পতিবারের বিস্ফোরণের পর প্রকাশ্যে আসা ছবিগুলি সেই প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে। এত বড় আকারে বেআইনি বাজি তৈরির কারবারের পিছনে কারা রয়েছে, কীভাবে কাঁচামাল আসছে এবং এর সঙ্গে কোনও বড় আর্থিক লেনদেন জড়িয়ে রয়েছে কি না—সেগুলিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে।
এখন দেখার, চম্পাহাটি-হাড়াল ও পিয়ালী এলাকায় এই বেআইনি বাজির কারবার বন্ধ করতে প্রশাসন এবার কতটা কঠোর পদক্ষেপ করে। নাকি ফের কোনও বড় দুর্ঘটনার পরেই নতুন করে নড়েচড়ে বসবে প্রশাসন।








