একাদশীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের মাধ্যমে পেটকাটি প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে উৎসবের মেজাজে মাতল মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গঙ্গার ঘাটে ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন পুজো কমিটির প্রতিমা নিরঞ্জন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন বহু মানুষ। ঢাকের আওয়াজ, নৌকাবাইচ এবং দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। প্রতিমা বিসর্জনের এই বিশেষ আয়োজন দেখতে গঙ্গার ঘাটে সকাল থেকেই উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। একে একে বিভিন্ন পুজো কমিটির প্রতিমা ঘাটে নিয়ে আসা হয়। এরপর ঐতিহ্য মেনে নৌকাবাইচের মাধ্যমে বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। নৌকাবাইচ দেখতে ঘাটের সামনে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। তাঁদের কাছে এই অনুষ্ঠান শুধু উৎসবের আকর্ষণ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের আবেগ। (Jangipur Durga Puja)
প্রতি বছরই নৌকাবাইচ দেখতে আসেন শৈলেন
নৌকাবাইচ ও পেটকাটি প্রতিমা বিসর্জন দেখতে মিঞাঁপুর থেকে এসেছিলেন ৬৬ বছরের শৈলেন রায়। তিনি জানান, প্রতি বছরই এই অনুষ্ঠান দেখতে রঘুনাথগঞ্জে আসেন তিনি। পেটকাটি প্রতিমা এবং নৌকাবাইচ দেখাই তাঁর এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য। শৈলেন রায় জানান, তিনি ঠাকুরের ঘাটের সামনে অপেক্ষা করছেন। নৌকাবাইচ শেষ হওয়ার পর শ্মশানঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকার ইচ্ছা তাঁর। বয়সের কারণে বেশিক্ষণ থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও প্রতিমা না দেখে ফিরতে চান না তিনি। (Jangipur Durga Puja)
নিরাপত্তায় সতর্ক প্রশাসন
প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে ভিড় সামলাতে সতর্ক ছিল পুলিশ প্রশাসন। বিসর্জন প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে নজর রাখা হয়। (Jangipur Durga Puja) ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে ঘিরে একাদশীর দিন রঘুনাথগঞ্জের গঙ্গার ঘাটে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ। প্রতিমা বিসর্জন দেখতে মানুষের ভিড়ই বুঝিয়ে দেয়, এই আয়োজনের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আবেগ ও ঐতিহ্য কতটা গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।












1 thought on “ঐতিহ্যের টানে গঙ্গার ঘাটে ভিড়, নৌকাবাইচ ঘিরে রঘুনাথগঞ্জে জমজমাট পেটকাটি প্রতিমা বিসর্জন”
Comments are closed.